নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে শিশুদের শরীরে দুর্বল অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের সংক্রমণ দ্রুত সেরে যায়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যান্য সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া কিংবা মারা যাওয়া লোকদের মধ্যে অত্যধিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়।
শিশুদের দুর্বল প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয়, শরীরে ক্ষতি করার আগেই প্রতিরোধ প্রক্রিয়া ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। শিশুরা কেন কভিডের গুরুতর লক্ষণগুলো থেকে রেহাই পাচ্ছে এবং শিশুদের থেকে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কেন কম, তা ব্যাখ্যা করতে এটা সহায়তা করতে পারে।
গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দেয়া নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজিস্ট ডোনা ফারবার বলেন, শিশুরা খুব অল্প সময়ের জন্য সংক্রামক থাকতে পারে।
অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল বা কম অ্যান্টিবডি থাকার অর্থ এ নয় যে শিশুদের পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকবে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজিস্ট দীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, কিছু সময়ের জন্য সুরক্ষিত থাকতে আপনার সত্যিকারের বিশাল ও অতিরিক্ত শক্তিশালী ইমিউন প্রতিক্রিয়ার দরকার নেই। আমি জানি না, তবুও শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া কিছুটা দুর্বল হওয়ার কারণে আমি উদ্বিগ্ন হব।
গবেষণাটিতে শিশুদের অ্যান্টিবডি স্তরের দিকে একক দৃষ্টিপাত করা হয়েছিল এবং বয়সের সঙ্গে কীভাবে অ্যান্টিবডির স্তরগুলো পরিবর্তিত হতে পারে, সেদিকে খুব কমই দৃষ্টি দেয়া হয়েছিল। গবেষণাটির মাধ্যমে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে, দেরিতে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা সংক্রমিত শিশুদের সংক্রমণহীন হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
ডা. ফারবার ও তার সহকর্মীরা সংক্রমিতদের চারটি দলে ভাগ করে অ্যান্টিবডি বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথম দলে ১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক প্লাজমা দাতা ছিলেন, যারা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে কভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। দ্বিতীয় দলে ১৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, যারা সংক্রমিত হয়ে শ্বাসকষ্টের লক্ষণে ভুগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তৃতীয় দলে প্রদাহজনক লক্ষণ দেখা দেয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ জন শিশু এবং চতুর্থ দলে কোনো লক্ষণ দেখা না দেয়া সংক্রমিত শিশুদের নেয়া হয়েছিল।
ফলাফলে দেখা গেছে প্রতিটি দলের সদস্যদের শরীরে অ্যান্টিবডি ছিল। কিন্তু অ্যান্টিবডিগুলোর স্তর শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আলাদা ছিল। শিশুদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আইজিজি নামের এক প্রকার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা ভাইরাসের পৃষ্ঠের স্পাইক প্রোটিনের বিরুদ্ধে কাজ করে। বিপরীতে প্রাপ্তবয়স্কদের স্পাইক ও অন্যান্য ভাইরাল প্রোটিনের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ডা. ফারবার বলেন, শিশুদের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া ও অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়াও কম ছিল। কারণ শিশুরা তীব্রভাবে সংক্রমিত হচ্ছে না। শিশুদের নিউক্লিওক্যাপসিড বা এন নামে একটি ভাইরাল প্রোটিনের কোনো দলেরই অ্যান্টিবডি ছিল না, যা ভাইরাসের জিনগত উপাদানগুলোর সঙ্গে জড়িত। এ প্রোটিনগুলো ভাইরাসের মধ্যে পাওয়া যায়, তার পৃষ্ঠের ওপরে নয়। তাই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কেবল এটা দেখতে পায় এবং সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
নিউইয়র্ক টাইমস





