লরেন কাহন দিনের পুরো সময় মেঝেতে কাটাতে অভ্যস্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স সেন্টার ফর প্রগ্রেসে কাজ করেন। সেখানে তিনি তিন থেকে চার বছর বয়সী অটিস্টিক শিশুদের পড়াশোনা করান। তাদের অধিকাংশেরই আবার দৃষ্টিশক্তির সমস্যা রয়েছে। কাহন এ শিশুদের গান, খেলাধুলা ও শারীরিক ভাষায় কথা বলার অনুশীলন করান। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস সবকিছু যেন ওলটপালট করে দিয়েছে।
কভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে চলমান লকডাউনের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাসায় থেকেই কাহনকে কাজ করতে হচ্ছে। দূরে থেকে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের শেখানো অসম্ভব কাজ, তাই কাহন অনলাইনে শিশুদের পিতামাতাকে শেখানোর চেষ্টা করছেন।
কিন্তু বাবা-মা তো আর শিক্ষক নন। তাছাড়া সংসার দেখাশোনা, খাবার প্রস্তুত করা এবং অন্য বাচ্চাদের দেখাশোনা করাসহ তাদের অনেক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এজন্য বেশির ভাগ সময়ই তারা কাহনের কল রিসিভ করেন না। মাঝে মাঝে যখন তিনি শিশুদের পিতামাতাকে বলেন যে একটু পর আবার কল করছি, তখন তারা তাকে বিরক্ত না করার জন্য বলেন। তিনি বোঝেন যে এটা সবার পক্ষে করাটা কঠিন।
কাহন বলেন, অনলাইনে কল করে এখন আমি শিশুদের গান শোনানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এটা জানা কঠিন যে ফোনের আশপাশে তারা আদৌ উপস্থিত আছে কিনা। তাদের হাসির শব্দ শুনতে পেলেও সেটাকে আমার বড় একটি অর্জন মনে হয়।
কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ৩ থেকে ২১ বছর বয়সী এমন শিশু রয়েছে প্রায় ৭০ লাখ। বিশ্বব্যাপী এমন লাখ লাখ শিক্ষার্থী কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। বিদ্যালয়ে পেশাদার শিক্ষকদের কাছ থেকে পারিবারিক আবহ ও যত্নের সঙ্গে তারা তাদের চিন্তাভাবনা, উপলব্ধি ও প্রক্রিয়াকরণের নানা উপায় অনুশীলন করে। কিন্তু লকডাউনের কারণে সবকিছু হঠাৎ করে থমকে গেছে। বাড়িতে বাবা-মা বা পরিবারের কাছ থেকে যত্ন পেলেও তারা তাদের শিক্ষা বা কার্যকর যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ পিতামাতা রাতারাতি বিশেষ শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে পরিণত হতে পারেন না। এটা পেশাগত, কথাবার্তা বা শারীরিক থেরাপি—যেগুলো বিশ্বব্যাপী অসংখ্য বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়।
লকডাউনের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনলাইন প্লাটফর্ম যেমন জুম, মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহার করে বাড়িতে বসে ক্লাস করছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে। তবে এ ধরনের প্লাটফর্মগুলো সবার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অনেক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বধির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়া কেন্ডাল ডেমোনস্ট্রেশন এলিমেনটারি স্কুলের প্রশাসক হ্যান্ডি বার্নস বলেন, জুম প্লাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া খুব কঠিন হচ্ছে। ডিসপ্লেতে অনেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে উপস্থিত থাকে এবং প্রত্যেকের চেহারা সেখানে ছোট আকারে দেখা যায়। এভাবে দেখে তাদের প্রতিক্রিয়া বোঝা খুব কঠিন। ক্লাসরুমে বড় জায়গায় প্রত্যেককে স্পষ্ট করে দেখে তাদের সঙ্গে প্রতীকী ভাষায় যোগাযোগ করা হয় এবং আমি মনে করি কম্পিউটারের পর্দায় এটা বোঝা সহজ নয়।
তিনি বলেন, এমন অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার এ প্রতীকী ভাষায় যোগাযোগ করে না। বিদ্যালয়ই একমাত্র জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের এ যোগাযোগ ক্ষতির জন্য কেবল দুঃখ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
দি আটলান্টিক





