গত বছরের শেষেই নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে এবং এটি প্রথম সংক্রমণের পরই দ্রুত বিস্তার লাভ করে বলে জানাচ্ছে নতুন বিশ্লেষণ। বিশ্বজুড়ে ৭ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি কভিড-১৯ রোগীর থেকে নেয়া একটি জিনগত বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণে ব্রিটেনের গবেষকরা ভাইরাসটির পরিবর্তন দেখেছেন এবং দ্রুত সংক্রমণের প্রমাণ পেয়েছেন। তবে ভাইরাসটি সহজেই সংক্রমণ বা গুরুতর রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিকস ইনস্টিটিউটের গবেষক ফ্রাঙ্কোইস ব্যালোক্স বলেন, ভাইরাসটি পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে তার মানে এই নয় যে এটি আরো খারাপ হচ্ছে।

ব্যালোক্স ও তার সহকর্মীরা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের ভাগাভাগি করে সৃষ্টি হওয়া একটি বিশাল বৈশ্বিক ডাটাবেস থেকে ভাইরাল সিকোয়েন্স টেনেছেন। বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন স্থান থেকে নেয়া নমুনাগুলো দেখে তারা বলেছেন, নমুনাগুলো থেকে পাওয়া তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ভাইরাসটি গত বছরের শেষের দিকে প্রথম মানুষকে সংক্রমিত করতে শুরু করে।

ব্যালোক্সের দল ইনফেকশন, জেনেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, চিহ্নিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই কভিড-১৯ ভাইরাস ছিল। সুতরাং চিহ্নিত হওয়ার আগেই ভাইরাসটি জনসংখ্যার বৃহত্তম একটি অংশকে সংক্রমিত করে।

এটি একটি খারাপ সংবাদ। কিছু চিকিৎসক আশা করেছিলেন ভাইরাসটি চিহ্নিত হওয়ার কয়েক মাস আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল এবং খুব দ্রুত নীরবে ভাইরাসটি অনেক মানুষকে সংক্রমিত করেছে। এজন্য আশা করা যায়, কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এই মধ্যে ইমিউনিটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ব্যালোক্স বলেন, ‘সবাই এটা প্রত্যাশা করেছিলেন। সেই দলে আমিও ছিলাম। আমার অনুমান, বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মানুষ ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছে।’

সিএনএন