ফাইজার ও বায়োএনটেক সম্প্রতি তাদের কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অন্তর্বর্তীকালীন ফল প্রকাশ করেছে। আরো বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন এখন শেষ ধাপের ট্রায়ালে আছে। ফলে আমরা এখন বহুল প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিনটি পাওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি।
তবে এত কাছাকাছি যাওয়ার পরও ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর তা জানা সহজ নয়। প্রথমত, ট্রায়ালে বহু মানুষকে একত্র করা হয়। যেখানে অর্ধেককে ভ্যাকসিন ও বাকি অর্ধেককে প্লাসেবো দেয়া হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে প্রাকৃতিক সংক্রমণের ওপর, কারণ কোনো গবেষণাই এ মুহূর্তে অংশগ্রহণকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার অনুমতি দেয় না। ফলে কার্যকারিতা হিসাব করা হয় সেই ছোট দলটিকে দিয়ে, যারা অন্যের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছে।
ভ্যাকসিনেটেড গ্রুপের কী পরিমাণ অসুস্থ হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বিচার করা হয়। ফাইজার ও বায়োএনটেকের ট্রায়ালে প্রায় ৪৪ হাজার অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের ২১ হাজার ৯৯৯ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যানবিদরা তথাকথিত ‘পাওয়ার অ্যানালিসিস’
ব্যবহার করেন পর্যবেক্ষণের জন্য কতটা কেস লাগবে তা আবিষ্কারের জন্য। ফাইজার ও বায়োএনটেক ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত কার্যকারিতা অনুমানের জন্য লক্ষ্য হচ্ছে ১৬৪টি কেস। কিন্তু এ ধারণা যে ভিত্তিতে তৈরি করা হয় তা হলো, ভ্যাকসিনটি কেবল ৬০ শতাংশ কার্যকর। এর ভিত্তি ছিল মৌসুমি ফ্লু ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা। যাই হোক, সংখ্যা প্রত্যাশার মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কোম্পানি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ৯৪টি কেসের কথা বলা হয় যেখানে ৮৬ জন প্লাসেবো গ্রুপের এবং আটজন হচ্ছে ভ্যাকসিনেটেড গ্রুপের। সংক্রমণের বিরুদ্ধে এ স্তরের সুরক্ষা দারুণ একটি অর্জন।
যদিও ছোটসংখ্যক কেস নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। তবে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ গবেষকদের অনুমতি দেয় ভ্যাকসিনের বিস্তৃতির পর কী ঘটতে পারে তা অনুমান করার।
এ ট্রায়াল বিভিন্ন বয়সের সঙ্গে বিভিন্ন জাতির মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে জনগোষ্ঠীর দুর্বল অংশকে রক্ষার ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর তা জানতে আরো পরীক্ষা প্রয়োজন।
অবকাঠামোর অভাবের কারণে ভ্যাকসিন প্রদান করা কঠিন হয়ে যাবে। এমআরএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার একটি হচ্ছে ফাইজারের যে ধরনের ভ্যাকসিন তাকে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। বাস্তব পৃথিবীতে ভ্যাকসিনটিকে হয়তো সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না। ফলে এটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।
ভ্যাকসিন যদি বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করতে হয়, তবে চিকিৎসক সম্প্রদায় ও জনগণকে এর সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। ট্রায়ালে তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে লাখো মানুষের ওপর এর কোনো প্রভাব থাকবে না। তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম হলেও গবেষকরা আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান।
সায়েন্স অ্যালার্ট





