পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে নভেল করোনাভাইরাসের নিশ্চিত ১৬ হাজার কেস হারিয়ে গেছে। এ হারিয়ে যাওয়া সংখ্যাগুলো পরবর্তী সময়ে মোট সংক্রমণের হিসাবে যোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ ভুলের ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী।
এটা কেবল যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের পরিসরকেই হালকা করবে না, পাশাপাশি যেটা আরো গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এনএইচএস টেস্ট অ্যান্ড ট্রেক সিস্টেমে বিলম্বিত প্রবেশ, যা কিনা কন্টাক্ট ট্রেকারের একটি দল দ্বারা ব্যবহূত হয়। যদিও যারা টেস্টে পজিটিভ এসেছেন তাদের ফল সম্পর্কে জানানো হয়েছে, তবে তাদের সংস্পর্শে আসা অন্যদের তাত্ক্ষণিক জানানো হয়নি। এটা একটা মারাত্মক ভুল। এর ফলাফল কী হতে পারে?
এ সময় যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো এর জন্য ‘প্রযুক্তিগত ভুল’
দায়ী। আরো নির্দিষ্টভাবে বললে, ল্যাব টেস্টের ফল স্থানান্তরিত হয়েছিল এক্সেল টেম্পলেটে। এ টেম্পলেটগুলো যতটা সারি তারা সামলাতে পারে, সেই সীমার চূড়া স্পর্শ করেছিল এবং আরো কেসের সংখ্যা যুক্ত করলে তা আপডেট করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
এ সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল সপ্তাহ শেষে সব নতুন কেস সর্বমোট হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করে। এটা করা হয়েছিল ছোট ছোট স্প্রেডশিটজুড়ে ডাটাগুলোকে ভেঙে দিয়ে।
এ সমস্যা সমাধান করা হলেও টেস্টিং সিস্টেমের ওপর মানুষের বিশ্বাসে নিঃসন্দেহে ধাক্কা লেগেছে। পাশাপাশি রাজনীতিবিদ ও মিডিয়া এটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে সরকার এবং পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের অযোগ্যতাকে প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ ভুল থেকে কী শেখা যায়?
এড়ানো যায় এমন ভুল
আমাদের এটা ভুললে চলবে না যে সরকার ও জনস্বাস্থ্যকর্মীরা অবিশ্বাস্য চ্যালেঞ্জিং কাজ করছে এ মহামারীকে মোকাবেলা করতে গিয়ে। কিন্তু এ ধরনের ভুল এড়ানো সম্ভব। আমরা বিশাল ডাটার একটি পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং আমাদের জীবনের সবদিককে ঘিরে রয়েছে। আমাদের স্মার্ট ফ্যাক্টরি ও স্মার্ট শহর রয়েছে। আমাদের রয়েছে স্ব-চালিত কার এবং মেশিনকে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যা কিনা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে প্রদর্শন করতে পারে। কিন্তু এসবের মাঝেও পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড মাইক্রোসফট এক্সেল ব্যবহার করে সংবেদনশীল বিশাল ডাটা ভাণ্ডারকে চালানোর জন্য। মূল সমস্যাটা এখানেই।
যদিও এক্সেল বিশ্লেষণের জন্য বেশি জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহূত, কিন্তু তার পরও এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যা কিনা বৃহৎ ডাটা এবং অধিক সংবেদনশীল বিশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক নয়।
যদিও আজকের দিনে এক্সেল স্প্রেডশিটে ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৬টি সারি এবং ১৬ হাজার ৩৮৪টি কলাম রয়েছে। কিন্তু পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড এখনো পুরনো এক্সেল ফাইল ব্যবহার করছে। যেখানে প্রতিটি টেম্পলেটে ৬৫ হাজার সারি তথ্য সংরক্ষিত রাখা যায়। ফলে যখনই তা সীমাতে পৌঁছে যায়, বাকি কেসগুলো টেম্পলেটের বাইরে থেকে যায়। যে কারণে পজিটিভ কেসগুলো দৈনিক রিপোর্টিং থেকে হারিয়ে যায়।
কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিতে অগ্রগতিসম্পন্ন একটি বিশ্বে আরো উন্নত ও আপডেটেড ডাটা সংরক্ষণের উপায় রয়েছে। ডাটা ইঞ্জিনিয়াররা দীর্ঘ সময় ধরে ডাটা পরিচালনা, রূপান্তর ও পরিবেশনা করে সহায়তা দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি পদ্ধতির বিকাশ সাধন করছেন দক্ষ, শক্তিশালী ও সঠিক ডাটা পাইপলাইন তৈরির জন্য। এক্ষেত্রের পেশাদাররা তথ্য পরিচালনার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত বিকাশ সাধন করছেন। যেখানে ডাটার গুণগত মান যাচাই এবং প্রকৃত নিরাপত্তা প্রটোকলের উন্নতি সাধন করা হচ্ছে।
দ্য প্রিন্ট থেকে সংক্ষেপে অনূদিত





