নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে মানুষ। সেখানে পোষ্য প্রাণী কাছে রাখতে শতবার ভাবছে অনেকে। কিন্তু পোষ্য প্রাণীর প্রতি যাদের অগাধ ভালোবাসা তারা কী করে একে দূরে রাখবে? ভারতের এমন মানুষের জন্য একটি সমাধান নিয়ে এসেছে ভার্চুয়াল অ্যাডাপশন।
দিল্লির ২৮ বছর বয়সী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাঘব চাবরা করোনাকালে ঘরে থেকেই অফিসের কাজ করেন। কাজের চাপে দিনের শেষ ভাগে তিনি বেশ ক্লান্ত হয়ে ওঠেন। কেননা অফিসের কাজের পাশাপাশি তাকে ঘরের টুকিটাকি কাজও করতে হয় এবং কভিড-১৯ থেকে বাঁচার পূর্ব সতর্কতা হিসেবে প্রতিদিন কিছু জামা-কাপড় ধোয়ার তালিকাও করতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কাজের এসব চাপকে দূরে ঠেলে দেয়ার মোক্ষম এক উপায় খুঁজে নেন।
ভার্চুয়াল পোষ্য প্রাণীর সঙ্গে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্কাইপে এক ঘণ্টা সময় কাটান চাবরা। তার পোষ্য সোনালি রঙা শিকারি কুকুরটির নাম ফ্র্যান্নি। দিল্লির উপকণ্ঠের এক খামারবাড়িতে থাকে ফ্র্যান্নি। কুকুরটির দেখাশোনা করেন উত্তর প্রদেশভিত্তিক এনজিও উম্মেদ সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এক স্বেচ্ছাসেবক। অবশ্য কুকুরটির খাবারসহ ভরণপোষণের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেন চাবরা।
পোষ্য প্রাণীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকলেও অফিসের কাজের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে চাবরা এ মুহূর্তে বাসায় কোনো পোষ্য প্রাণী রাখতে পারছেন না। এ সময় তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ভার্চুয়াল অ্যাডাপশন।
২৫ মার্চ ভারতে লকডাউন শুরুর আগেই ফ্র্যান্নিকে অনলাইনে পোষ্য হিসেবে নেন চাবরা। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি, কেননা সঠিক সময়ে এটিকে পোষ্য হিসেবে নিতে পেরেছি আমি। ফ্র্যান্নির সঙ্গে কথা বলতে পেরে ও তার সুস্বাস্থ্য দেখে আমি এ নিশ্চয়তা পাই যে নিদেনপক্ষে সব স্বাভাবিকই আছে। যখন বাইরে যাওয়া নিরাপদ হয়ে উঠবে তখন পুরো একটি ছুটির দিন তার সঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা আছে আমার।’
কভিড-১৯ মহামারীতে চলমান লকডাউনের কারণে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হয়। এতে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বেড়েছে। তাই ভারতে পশুপাখিকে অনলাইনে পোষ্য হিসেবে নেয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রাণীকে পোষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে ওই মানুষটির মধ্যে একটি দায়িত্ববোধের অনুভূতি জন্ম নেয়, তিনি বুঝতে পারেন যে তাকে কাজ করতে হবে। মানুষের একাকিত্ব দূরীকরণে এটি অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গুরুগাঁওভিত্তিক ফর্টিস হেলথকেয়ারের মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণ বিজ্ঞানের প্রধান ডা. কামনা ছিব্বার বলেন, ‘অনেকের ক্ষেত্রেই একাকিত্ব খুব ক্ষতিকর এবং এটা তার মানসিক স্বাস্থ্যকে আক্রান্ত করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রাণীকে পোষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে, তা ভার্চুয়াল হলেও, বেশ উপকারী হতে পারে। এতে একজনের মধ্যে ভালোবাসার উদ্রেক হয় এবং তিনি অন্যের প্রতি যত্নশীলও হতে পারেন।’
স্ক্রলডটইন





