নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সংক্রমণ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন এবং বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করছেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাস করছেন। কয়েক মাস ধরে জীবনের প্রতিদিনের রুটিনগুলো মারাত্মভাবে পরিবর্তন হয়েছে, যদিও একটি জিনিস পাল্টায়নি; প্রতিদিনের খাদ্যের প্রয়োজন।
সৌভাগ্যবশত মুদি দোকানগুলো দিনের নির্দিষ্ট সময় খোলা থাকছে এবং সেখান থেকেই নিত্যদিনের নানা পণ্যের প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে গিয়ে খাবার কিনে নিয়ে আসা কতটা নিরাপদ? বা আমাদের কি অনলাইনে খাবার কেনা উচিত?
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটার অ্যান্ড হেলথ কাউন্সিলের চেয়ার ক্রিস জে উইন্টের মতে, এটা নির্ভর করে আপনি কভিড-১৯-এর অসুস্থ হওয়ার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন কিনা তার ওপর। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে বয়স্ক, প্রতিরোধক্ষমতায় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বা ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে হূদরোগ ও ডায়াবেটিস আক্রান্তদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
উইন্ট বলেন, উচ্চঝুঁকিতে থাকা মানুষজনের ভিড় এড়িয়ে চলা উচিত এবং একেবারে প্রয়োজন না হলে জনসাধারণের কাছে যাওয়া উচিত নয়। আর যারা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ নয়, তারা দোকানে যেতে পারেন, তবে তাদের উচিত কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করা। প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের রক্ষা করতে স্বল্প ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের মুদি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে সরাসরি দোকানে না গিয়ে অনলাইনে পণ্য ডেলিভারি নেয়া কম ঝুঁকিপূর্ণ। পণ্য এলে ডেলিভারিম্যানকে দরজার সামনে পণ্যগুলো রেখে যেতে বলুন এবং আপনি সেগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করে তারপর ঘরে নিয়ে আসুন। যদিও সিডিসি বলছে, ব্যাগ বা প্যাকেটের মাধ্যমে কভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি কম, তবুও আপনি এগুলো জীবাণুমুক্ত করুন এবং এগুলো নাড়াচাড়ার পর ভালো করে সাবান পানি নিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। আর অর্থ পরিশোধের বিষয়ে অনলাইন পেমেন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করুন।
কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মুদি দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে আপনি এমন সময় বেছে নিন, যখন দোকানে ভিড় কম থাকে। আপনি যদি এমন টাইমিং করতে না পারেন এবং দোকানে গিয়ে ভিড় দেখলেন, তাহলে অতি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো কিনে দ্রুত দোকান ত্যাগ করুন। এছাড়া আপনি মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন।
দোকানে যাওয়ার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে নিন। কারণ দোকানে গিয়ে আপনাকে অনেক কিছু স্পর্শ করতে হতে পারে এবং স্বাভাবিকভাবে ধরেই নেয়া যায় সেগুলো আপনার আগে অনেকেই স্পর্শ করেছে। এজন্য দোকানে থাকাকালীন মুখ, চোখ ও নাকের থেকে হাত দূরে রাখুন। পণ্যগুলো নিয়ে দোকান থেকে বের হয়েই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
পণ্যগুলো নিয়ে ঘরে প্রবেশের আগে আপনার জুতা জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। এছাড়া দোকান থেকে নিয়ে আসা ধাতু, কাচ বা প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান ও জার জীবাণুমুক্ত করুন। এজন্য আপনি সিডিসির পরামর্শ অনযায়ী, ১ লিটার পানিতে ৪ চা চামচ ব্লিচিং মিশিয়ে বাড়িতেই জীবাণুনাশক তৈরি কারতে পারেন। পণ্যগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে মুছুন এবং ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পরে ব্যবহার শুরু করুন।
তাজা ফল ও শাকসবজিতে ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এছাড়া দোকান থেকে নিয়ে আসা পলিথিন ও প্যাকেটগুলো ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন এবং সেগুলো যেখানে রেখেছিলেন সেই জায়গা জীবাণুমুক্ত করুন।
প্রিভেনশন





