আমেরিকার অভিভাবকরা কঠিন সময় পার করছেন। বিশেষত স্কুলগুলো চালু হওয়ায় এখন তারা নতুন করে সংকটে পড়েছেন। অনেককেই চাকরি চালিয়ে যাওয়া নয়তো সন্তানের যত্ন নিতে বাসায় থাকার মধ্যে কোনো একটা বিকল্পকে বেছে নিতে হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে সব সময়ের মতো ছাড়টা দিতে হচ্ছে মূলত মায়েদেরই।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষম নাগরিকদের প্রতি পাঁচজনের একজন বেকার সময় পার করছে মহামারীতে চাইল্ড কেয়ার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায়। সন্তানের যত্ন নিতে তাদের চাকরি ছেড়ে বাসায় থাকতে হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সেন্সাস ব্যুরো অ্যান্ড দ্য ফেডারেল রিজার্ভ। এ বেকারদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় নারীদের সংখ্যা তিন গুণ। সন্তানের যত্ন নেয়াটা এখনো মূলত মায়েদের কাজ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

অনেক নারী বলেছেন, মহামারী তাদের পেশা নতুবা ঘরে থাকা—যেকোনো একটি বিকল্পকে বেছে নিতে বাধ্য করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কেলি বেবোট কাজ করতেন স্বাস্থ্যসেবা খাতে। সন্তানকে অনলাইনে ক্লাস ও পড়াশোনা করাতে তিনি কর্মস্থল থেকে তিন মাসের ছুটি নেন। কিন্তু এই ছুটি শেষ হলে তিনি কী করবেন সেটা এখনো নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছেন না। ‘আমি ১০ বছর ধরে চাকরি করছি। কিন্তু এখন পরিবার নয়তো কাজ—যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে। কর্মজীবনে প্রবেশের পর এই প্রথম আমাকে বেকার জীবন কাটাতে হবে। তার পরও পরিবারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

কেলি কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও দেশটির সিঙ্গেল প্যারেন্টদের জন্য এটা প্রায় অসম্ভব।

মহামারীতে যে বিশেষ বেকার ভাতা দেয়া হয়েছে তার মেয়াদও অনেক জায়গায় শেষ হয়ে গেছে। ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ হেইডি শিরহোলজ বলেন, ‘আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না যে অনেকের পক্ষেই কাজ ছাড়া সম্ভব নয়।’

সিএনএন