করোনাভাইরাসের ডাটায় কিছু অদ্ভুত ব্যাপার দেখা যাচ্ছে। কৌতূহলের বিষয় যে সংক্রমণ দ্রুত হ্রাস পেয়েছে এবং বসন্তের উষ্ণ জোনগুলোতে বেশ নিচের দিকে থেকে গেছে, যেমন নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেটিকাটে। কিন্তু ইডাহো ও হাওয়াইতে কেস এত কম ছিল কেন?

মূলধারার আখ্যানটি হচ্ছে এটা মূলত যথাযথ আচরণের ব্যাপার, যখন সংক্রমণ নিচে নেমে গেছে তখন মাস্ক পরার অভ্যাস ধরে রাখা এবং সামাজিক জীবন ত্যাগ করা হয়েছে বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এবং বিপরীতে বাজে আচরণ সংক্রমণকে বাড়িয়ে দেয়। আমরা কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়ে যা বলি তা হলো সংক্রমণের পতন কেবল ইচ্ছাশক্তির বিষয়।

তাহলে কেন সুইডেনের সংক্রমণ হ্রাস পেয়েছে, যেখানে মাস্ক পরা বিরল ঘটনা? এটাই সময় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার করে কী ঘটছে তা বোঝার। করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে সেই প্যাটার্ন বোঝার জন্য এই মহামারী যথেষ্ট দীর্ঘায়িত হয়েছে। এটা যদি কেবল আচরণের  ব্যাপার হয়, তবে এটি একটি পরীক্ষামূলক হাইপোথিসিস। যদি কয়েকটি অনুমানের ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় নাটকীয় হ্রাসের ঘটনা জনসংখ্যায়  ইমিউনিটি বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তবে আমরা এটিকে পরীক্ষামূলক হাইপোথিসিসে পরিণত করতে পারি।

ডাটা বিজ্ঞানী ইউইয়াং গো বলেন, ডাটার সমস্যা হচ্ছে, যে কেউ এটাকে নিজের মতো করে কোনো কিছু দেখানোর জন্য প্রভাবিত করতে পারে যদি তার কোনো এজেন্ডা থাকে। নিজের সুবিধামতো বাছাই করা সহজ, ভবিষ্যদ্বাণী করা বরং কঠিন। গো আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এপ্রিলে তৈরি একটি মডেলের দিকে, যেখানে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোগের বিস্তার নিয়ে।

তিনি সম্প্রতি টুইটারে স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের আবেদন জানিয়েছেন বৈজ্ঞানিক চিন্তা প্রয়োগ করার জন্য। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন লুইজিয়ানার ডাটার দিকে, যেখানে গ্রীষ্মের শুরুতে সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেকগুলো কাউন্টিতে মাস্ক বাধ্যতামূলক করার পর এটা বন্ধ হবে বলে মনে হচ্ছে।

তবে এখানে আলাদা একটা গল্পের কথা বলছেন তিনি। মাস্ক বাধ্যতামূলক করার সময়কাল ছিল এখানে আলাদা। কিন্তু যেসব জায়গায় এটি দেরিতে প্রয়োগ করা হয়েছে তারা, যেখানে তাড়াতাড়ি করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি সংক্রমণ বা মৃত্যু দেখেনি। তিনি লিখেন, আমি মনে করি না এখনো যথেষ্ট প্রমাণ আছে এটা সমর্থনের জন্য যে হস্তক্ষেপের  বর্তমান নীতি (মাস্ক পরা, বার বন্ধ রাখা) সংক্রমণ হ্রাস করার ক্ষেত্রে  ভূমিকা রেখেছে।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে পৃথক আচরণের কোনো গুরুত্ব নেই এবং বড় জমায়েত এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সুপার স্প্রেডিং ইভেন্ট বাতিল করা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কারণগুলো এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

কিছু বিজ্ঞানী এই সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছেন যে আগে জোরালোভাবে ধাক্কা খাওয়া এলাকা এখন ইমিউনিটি তৈরির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।  যদিও ব্যাপারটা হচ্ছে তথাকথিত হার্ড ইমিউনিটি পাওয়ার জন্য সব জনসংখ্যার অন্তত ৬০ শতাংশকে রোগটি দ্বারা আক্রান্ত হতে হবে। অথচ অ্যান্টিবডি টেস্ট বলছে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১০ থেকে ২০ শতাংশ জনগণ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটির বিষয়টা কিছুটা অস্পষ্ট। এর সৃষ্টি হয়েছিল ইমিউনাইজেশনের প্রভাবকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করার জন্য। এটি যা বলে তা হলো জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারকে সুরক্ষিত হতে হবে রোগজীবাণুকে বিদায় করার জন্য। এর পরিমাণ নির্ভর করে ভাইরাসের প্রকৃতি, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও হোস্টের আচরণের ওপর। যদি প্রাকৃতিকভাবে ইমিউনিটি কিছু জায়গায় সাহায্য করে, তবে হার্ড ইমিউনিটি ও ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম যুক্তিসংগত ও প্রাসঙ্গিক হবে।

তবে প্রাকৃতিক সংক্রমণের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি প্রয়োগ করার ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের অভিজ্ঞতা কম এবং তাদের যে বোঝাপড়া তা পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখানে আরেকটি জটিল ফ্যাক্টর থাকার সম্ভাবনা যাচাই করে দেখছেন—মানুষের মিথষ্ক্রিয়ার বিচিত্রতা এবং সহজাতভাবে আমাদের এই রোগের প্রতি জৈবিক সংবেদনশীলতা।

জুনে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, হার্ড ইমিউনিটি পাওয়া যেতে পারে কমপক্ষে ৪৩ শতাংশ ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হওয়ার পর। লোকেরা এমনভাবে অসমভাবে মেলামেশা করে যা ইমিউনিটির ছোট পকেট তৈরি করতে পারে।

আমরা অবশ্য জৈবিকভাবেও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারি। সাম্প্রতিক একটি গবেষণাপত্র বলছে, অনেক মানুষ যারা কখনো সার্স-কোভ-২ তে সংক্রমিত  হয়নি, তারা টি-সেল নামে এমন ইমিউন সেল বহন করছে, যা কিনা এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে পারে এবং আংশিকভাবে সংক্রমণকে প্রশমিত করতে পারে।

দ্য প্রিন্ট থেকে সংক্ষেপে অনূদিত