কভিড-১৯ সংক্রমণ এড়াতে এখন পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং ফেস মাস্ক ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে সুরক্ষা বিধিগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু ফ্যাশন ব্র্যান্ড এমন কিছু কাপড় তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, যেগুলো কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে সহায়তা করতে পারে। সম্প্রতি ইতালিয়ান ব্র্যান্ড অ্যাপোস্তা ভাইরোফর্মুলা প্রযুক্তি যুক্ত অ্যান্টিভাইরাল কাপড় তৈরি করেছে। কাস্টমাইজ করা যায় এমন অ্যাপোস্তার শার্টগুলোর প্রতিটির মূল্য ১৫৫ থেকে ১৭৫ ডলার।
এছাড়া ইতালিয়ান ডিজেল সুইডিশ সংস্থা পলিজিনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভাইরালঅফ নামে ফেব্রিক ট্রিটমেন্ট প্রযুক্তি চালু করেছে। আগামী বছরে তারা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাপড় তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।
কানাডাভিত্তিক বায়োটেক সংস্থা ইন্টেলিজেন্ট ফেব্রিক টেকনোলজিস নর্থ আমেরিকা (আইএফটিএনএ) আন্ডার আর্মারের মতো ব্র্যান্ডগুলোকে পিআরওটিএস২এভি নামে একটি টেক্সটাইল কোটিং প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। আন্ডার আর্মার তাদের স্পোর্টস মাস্কে অ্যান্টিভাইরাল ট্রিটেড ফেব্রিক ব্যবহার করছে। জুনের প্রথম দিকে বাজারে আনা ৩০ ডলার মূল্যের এ মাস্কগুলো ১ ঘণ্টার মধ্যে সব বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। আইএফটিএনএ তার অ্যান্টিভাইরাল স্তরে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে এবং সেটা কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে কার্যকার কিনা সে রকম পরীক্ষা করেছে কিনা, তা প্রকাশ করেনি। তবে সংস্থাটির দাবি, সংস্পর্শে আসার ১০ মিনিটের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভাইরাসকে এটা মেরে ফেলে এবং ভাইরাসকে ঘিরে থাকা চর্বিযুক্ত অণুগুলো ধ্বংসের মাধ্যমে এটা কাজ করে।
অ্যাপোস্তার ভাইরোফর্মুলা তৈরি হয়েছে ভাইরোব্লক নামে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে, আর এটি সুইস সংস্থা হাইকিউর আবিষ্কার। ভাইরোফর্মুলা ও ভাইরোব্লক ভাইরাসকে আকর্ষণ ও আবদ্ধ করতে সিলভারভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে। পাশাপাশি একটি ফ্যাটি ভ্যাসিক্যাল প্রযুক্তি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। হাইকিউ তাদের উদ্ভাবনটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পিটার দোহার্টি ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকশন অ্যান্ড ইমিউনিটি সংস্থার সঙ্গে পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রিটেড ফেব্রিকস ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভাইরাস ধ্বংস করেছে। প্রকৃতপক্ষে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল টেক্সটাইল চিকিৎসা নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়।
মাইক্রোবায়োলজিস্ট জেসন টেট্রো হাফপোস্টকে বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানি যে আপনি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে এবং তাদের হত্যা করতে কাপড়ে বিশেষ স্তর যোগ করতে পারেন। ১৯৯০-এর দশকের পর থেকেই এ প্রযুক্তি ছিল। আমাদের সিলভার-ইমপ্রেগনেটেড কাপড় রয়েছে, যা আপনার পায়ে গন্ধ হতে দেবে না। সুতরাং এই পুরো ধারণাটি নতুন নয়। ধারণাটির নতুনত্ব হলো আমরা এটা মুখের সুরক্ষার জন্য এবং রোগজীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ হিসেবে ব্যবহারের দিকে তাকিয়ে আছি।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথের লি ডব্লিউ রিলি বলেছেন, সিলভার আয়নগুলো সালফার ও প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়, যা ভাইরাসের ডিএনএকে প্রতিলিপি তৈরিতে বাধা দেয়। বিশেষত জীবাণুগুলোর ঝিল্লিতে থাকা প্রোটিনগুলো প্রভাবিত হয়, একবার ঝিল্লি বাধাপ্রাপ্ত হলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আর কার্যকর থাকে না।
হাফপোস্ট





