বয়সের সঙ্গে মানুষের শরীরের উন্নতি হয় না, বরং ক্ষয়ে যায়। শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়, ত্বক মলিন হয়ে যায় এবং হাড়ের জোড়গুলোও দুর্বল হয়ে যায়। এমনকি শরীরের ইমিউন সিস্টেমও কিছুটা শক্তি হারিয়ে ফেলে।

এ বিষয়টিকে বলা হয় ইমিউনোসেন্সেস, যা সম্ভবত বোঝায় কেন বয়স্ক লোকেরা কভিড-১৯ দ্বারা মারাত্মকভাবে ধাক্কা খায়। এছাড়া আরো একটি ঝামেলা এখানে জড়িয়ে আছে: ভ্যাকসিন, যা ইমিউন সিস্টেমকে প্ররোচিত করে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করার জন্য। প্রায়ই যা বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুর্বলভাবে কাজ করে।

কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা জানেন, বয়স্ক ইমিউন সিস্টেম শরীরকে সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলতে এবং ভ্যাকসিনের জন্য তাদের প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে। জুনে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ঘোষণা দিয়েছে, কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনকে অন্তত অর্ধেক ভ্যাকসিনেটেড ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু বয়স্কদের সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে এটি হয়তো সেই সীমা না-ও ছুঁতে পারে। জেরোনটোলজিস্ট ম্যাট কায়েবেরলেইন বলেন, কোনো ভ্যাকসিন বয়স্কদের মাঝে তরুণদের মতো করে কার্যকর হবে না, এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

মানুষের ইমিউন সিস্টেম মানব মনের আচরণের মতো জটিল এবং বার্ধক্য প্রায় প্রত্যেকটি উপাদানকে প্রভাবিত করে। কয়েক ধরনের ইমিউন সেল হ্রাস পেতে থাকে : উদাহরণস্বরূপ বয়স্ক লোকদের খুব অল্পই নবিস টি সেল থাকে, যা কিনা নতুন শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। পাশাপাশি বি সেলও কম থাকে, যেটি অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে রোগজীবাণুকে আটকানোর জন্য এবং তাদের ধ্বংস করে।

এছাড়া বয়স্ক লোকেরা দীর্ঘমেয়াদি, নিম্ন স্তরের প্রদাহের অভিজ্ঞতা লাভ করে। কায়েবেরলেইন বলেন, এ দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত অবস্থা, যা কিনা ইমিউন নিষ্ক্রিয়তার দিকে চালিত হয়।

বর্তমানে ৫০টি কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রার্থী মানুষের মাঝে ট্রায়াল চালাচ্ছে। কিন্তু গবেষকরা বলেছেন, এটা এখনো পরিষ্কার না যে, বয়স্কদের ওপর তা কেমন কাজ করবে। ৫৬ বছরের বেশি ৪০ জন লোকের একটি গবেষণা শেষে মডার্না বলেছে, তাদের ভ্যাকসিন এমআরএনএ-১২৭৩ তরুণ বয়সী গোষ্ঠীর মতো একই রকম অ্যান্টিবডি স্তর প্রকাশ করেছিল।

তবে ফাইজার এবং বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনে দেখা গেছে, সেটি তরুণদের মাঝে যতটা ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, তার অর্ধেক করতে পারে বয়স্কদের মাঝে। বয়স্ক লোকেরা ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়ায় কভিড-১৯ আক্রান্ত একই গ্রুপের তুলনায় অধিক অ্যান্টিবডি উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু এটা অজানা যে, কীভাবে এটা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

যদি কভিড-১৯ বয়স্কদের মাঝে কম কাজ করে, তবে গবেষকদের ভ্যাকসিনের প্রকাশকে আরো শক্তিশালী করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ কিছু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন ভাইরাল অ্যান্টিজেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপাদান বা উচ্চতর ডোজ অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু কিছু বিজ্ঞানী আরো ভালো উপায়ের কথা বলছেন। তারা একটি ওষুধের বিকাশ ও পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যা কিনা বয়স্ক লোকদের ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়া উন্নতি করবে এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরো শক্তিশালীভাবে লড়াই করতে সাহায্য করবে। বার্ধক্যজনিত ইমিউন সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করার পরিবর্তে তারা এটিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে বার্ধক্য-প্রতিরোধী ওষুধও, যা নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন। এদের একটি কাজ করে কোষ বৃদ্ধিতে। এ ওষুধ এমটিওআর নামের প্রোটিনকে বাধা দেয়। ল্যাবরেটরিতে এমওটিআর প্রতিরোধ করার ফলে মাছি থেকে ইঁদুরের জীবনকাল বাড়তে দেখা গেছে, যা বয়স্ক লোকদের ক্ষেত্রেও কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়ায় কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

নেচার থেকে সংক্ষেপে অনূদিত