প্রকৃতিকে বাঁচানোর প্রয়োজন ও গুরুত্ব নিয়ে জাতীয় সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা বছরের পর বছর ধরে মানুষকে বুঝিয়ে এসেছে, এ নিয়ে হয়েছে অনেক লেখালেখিও। যদিও বাস্তুসংস্থানকে রক্ষার জন্য খুব ভালো পদক্ষেপ কমই নেয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণীদের কথা বলতে গেলে, আমরা যদি প্রয়োজনের চেয়ে কম জায়গায় থাকতে না পারি, তবে প্রাণীরা কীভাবে পারবে? এটি আজ অনুধাবন করা প্রয়োজন। আজ পরিবেশগত প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের তৈরীকৃত অনেক বড় প্রভাব বিরাজ করছে।

এটি ভূপ্রকৃতির গতিপ্রকৃতিকে নির্ধারণ করে দেয় এবং বন, গ্রামীণ ও নাগরিক স্থাপনার ওপরও প্রভাব ফেলে। অতঃপর আমাদের মঙ্গলের জন্যই ভবিষ্যতের কথা ভাবা বেশ জরুরি হয়ে উঠেছে।  আধুনিক এই যুগে বস্তুবাদী লাভের জন্য কোনো কিছুতেই হাত দিতে বাদ রাখেনি মানবজাতি। কভিড-১৯ মহামারী মানবজাতির কর্মফলেই সৃষ্টি এবং এটি একটি সতর্কবার্তা।

অর্থনৈতিক ভূগোলের ফলেই বিশ্বব্যাপী ভূপ্রকৃতির রূপান্তর ঘটছে। এমন রূপান্তর প্রাকৃতিক অবস্থাকে বদলে দিচ্ছে, যার ফলে বন ও বনহীন পরিবেশের বাস্তুসংস্থান-সংক্রান্ত খাদ্যচক্র ধ্বংস হচ্ছে। মানবজাতিকে মনে রাখতে হবে, জীববৈচিত্র্য শুধুই বন কিংবা সংরিক্ষত অঞ্চলের মধ্যে নিহিত নয়, এটা শহরের কৃষি ও বনায়নের মধ্যেও থাকে। পরিবেশগতভাবে বনের মতোই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ হলো লেক, বাগান, গাছপালার শেল্টার বেল্ট।

বলা হচ্ছে, বাদুড় কিংবা প্যাঙ্গোলিনের মতো প্রাণী থেকে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। চীনের একটি বাজারে বিক্রির জন্য আনা প্যাঙ্গোলিন থেকে এটি ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মধ্যবর্তী একটি প্রাণীর দেহ থেকে বাদুড় ও প্যাঙ্গোলিনের মাধ্যমে এটি মানুষের দেহে ছড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন, বনের পশু যদি বনেই থাকত, তাদের জীবন ও পরিবেশ বিপন্ন না হতো, তবে হয়তো মানবজাতিকে আজ এত বিরাট বিপদের মুখোমুখি হতে হতো না। কভিড-১৯ মহামারীতে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ১ কোটির ওপরে মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ৫ লাখেরও বেশি। 

বাস্তবতার নিরিখেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাছগাছালির সবুজ ঢালের (গ্রিন বাফার) মাধ্যমে প্রাণীবাহিত মহামারী নির্মূল করে ফেলা সম্ভব না হলেও অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

বাস্তুসংস্থানের কার্যক্রম নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বে মহামারী-সংক্রান্ত বিদ্যা নিয়ে অনেক কিছু জানার বাকি আছে এবং মহামারী থামাতে সবুজ ঢাল কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তাও মানবজাতিকে উপলব্ধি করতে হবে। এজন্য জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। সবুজ জায়গা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন কেন্দ্রীয়ভাবে অঙ্গীকার, যা কিনা বন, গ্রামাঞ্চল ও নগরের স্থাপনায় সবুজ গাছপালা গড়ে তোলার ওপর জোর দেবে। এজন্য একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে, যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। টেকসই উন্নয়নের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

হিন্দুস্তান টাইমস