বেশির ভাগ মানুষ চারটি রক্তের গ্রুপের মধ্যে পড়ে—এ, বি, এবি বা ও। রক্ত দেয়া বা নেয়ার প্রয়োজন না পড়লে সাধারণত রক্তের ধরন আপনার দৈনন্দিন জীবনে খুব সামান্য পার্থক্য সৃষ্টি করে। তবে কিছু গবেষণার পর সংশ্লিষ্টরা ভাবছেন যে রক্তের গ্রুপ করোনাভাইরাসের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে কিনা। উদাহরণস্বরূপ, একটি গবেষণা পরামর্শ দেয়, গ্রুপ ‘এ’-এর মানুষরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং গুরুতর লক্ষণগুলো বিকাশের বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে, যেখানে গ্রুপ ‘ও’-এর ব্যক্তিদের ঝুঁকি কম থাকে।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় এ ধরনের প্রাথমিক কিছু গবেষণার বিরোধিতা করা হয়েছে। এটি একটি অনুস্মারক যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার একটি বিবর্তিত প্রক্রিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও বেথ ইসরায়েল ডিকনাস হাসপাতালের গবেষকরা বৃহস্পতিবার একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছেন। সমীক্ষাটিতে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে গুরুতর লক্ষণের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ কোনো প্রভাব ফেলে। তবে পূর্ববর্তী কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপ ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে।

আমাদের রক্তের ধরন কেন এবং তারা কী উদ্দেশ্যে কাজ করে তা এখনো অনেকাংশে অজানা এবং তাদের সঙ্গে ভাইরাস ও রোগের সংযোগ সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। ১৯০১ সালে অস্ট্রিয়ান ইমিউনোলজিস্ট ও প্যাথলজিস্ট ডা. কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের ধরনগুলো আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তার এ কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। অন্যান্য জিনগত বৈশিষ্ট্যের মতো আপনার রক্তের ধরনটি আপনার পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। রক্তের এ বিভিন্ন ধরন কেবল মানুষের মধ্যেই নয়, শিম্পাঞ্জি ও গরিলাসহ অন্তত ১৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েছে।

মুষ্টিমেয় গবেষণায় রক্তের ধরনের সঙ্গে নভেল করোনাভাইরাসের একটি সংযোগ দেখানো হয়েছে। যদিও বেশির ভাগ গবেষণায়ই কমসংখ্যক মানুষ জড়িত ছিল এবং কিছু গবেষণা পিয়ার রিভিউ করা হয়নি।

ইউরোপীয় গবেষকদের একটি দল গত মাসে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে তাদের অনুসন্ধানগুলো প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে দেখা গেছে, ‘এ’ গ্রুপের রক্তের লোকেরা অন্যান্য রক্তের গ্রুপের লোকদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং ‘ও’ গ্রুপের রক্তের লোকেরা অন্যান্য গ্রুপের লোকদের চেয়ে মাত্র ৬৫ শতাংশ ঝুঁকিতে ছিল। তারা স্পেন ও ইতালির করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ ১ হাজার ৯০০-এরও বেশি রোগীর ওপর অধ্যয়ন করেছেন এবং অসুস্থ ছিলেন না এমন ২ হাজার ৩০০ জনের সঙ্গে তাদের তুলনা করেছিলেন।

তবে এ সপ্তাহের গবেষণা সেগুলোকে প্রতিহত করেছে। নতুন গবেষণাটির নেতৃত্ব দেয়া ডা. আনহিতা দুয়া বলেন, আমরা বহু প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছি যে কোনো নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের কারণে রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে—এমন বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

আমাদের বিভিন্ন রক্তের গ্রুপ রয়েছে এবং রক্তের ধরনের সঙ্গে অ্যান্টিবডি ও রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক আরো ভালোভাবে জানা কভিড-১৯সহ বিভিন্ন ভ্যাকসিনের বিকাশ এবং নতুন ওষুধ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

সিএনএন