যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আমেরিকান জনগণকে মাস্ক পরার নির্দেশ কিছুতেই দেবেন না। নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার কমাতে বিশ^ব্যাপী বিশেষজ্ঞরা মাস্ক পরার ওপর জোর দিয়ে এলেও সেই পথে হাঁটতে নারাজ ট্রাম্প।
দেশের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি রাজ্য সরকার ও স্থানীয় নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ‘যতটা সম্ভব বলপ্রয়োগ করে’ হলে নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহারের মধ্যে নিয়ে আসেন তারা। ফাউসির এ কথার পরই ট্রাম্প এমন নেতিবাচক মন্তব্য করলেন।
মাস্ক নিয়ে ফাউসির কথা, ‘এটা সত্যিই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত মাস্ক ব্যবহার করা।’
যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য শুরু থেকেই মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো হয়েছে।
দেশটিতে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ উচ্চ হারে বেড়ে চলায় অধিকাংশ রাজ্যই এখন ঘরের বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করছে। এখন আর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নেই। এই দলে আছেন আলাবামার রিপাবলিকান গভর্নর কাই ইভেইও, যিনি শুরুতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পক্ষে ছিলেন না।
দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্প তার জনগণকে আগামী মাস পর্যন্ত মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও একদিন আগেই আটলান্টার মেয়রের মাস্ক বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কেম্প। তিনিও এখন মাস্কের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন।
ওকলাহোমায় মাস্ক বাধ্যতামূলক নয়। তাই ওকলাহোমা শহরের কর্মকর্তারা শুধু তাদের শহরের ভেতরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহামারী শুরুর পর থেকেই মাস্ক পরাকে অতটা গুরুত্ব দেননি এবং নিজ দেশের নাগরিকদের জন্যও এটি বাধ্যতামূলক করার পক্ষে ছিলেন না। যদিও গত শনিবার এক কর্মসূচিতে তাকে প্রথমবারের মতো মাস্ক পরতে দেখা যায়। তখন ভাবা হচ্ছিল, তার মন পাল্টাতে পারে। কিন্তু শুক্রবার ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে মাস্ক বাধ্যতামূলক করার পক্ষে আমি নই। জনগনের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন।’
বিশ্বে সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এক নম্বরে থাকলেও দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কথার কোনো মিল নেই। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও (সিডিসি) এক বিবৃতি দিয়ে প্রত্যেককে মাস্ক পরার আহ্বান জানায়। সিডিসির পরিচালক ড. রবার্ট রেডফিল্ড বলেন, ‘কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে আমরা অরক্ষিত নই। ভাইরাসটির বিস্তার কমিয়ে দিতে আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে কাপড়ের মাস্ক নিয়ে মুখ ঢেকে রাখা।’
এবার ট্রাম্প বললেন, তিনি এমন কোনো নির্দেশ জনগণকে দিতে পারবেন না।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্টিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ মানুষ কভিডে সংক্রমিত হয়েছেন, দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষের।
সূত্র: বিবিসি





