আমরা ক্রমেই একটি কার্যকর ভ্যাকসিনের নিকটবর্তী হচ্ছি। পাশাপাশি এটাও প্রত্যাশিত যে অ্যান্টিভ্যাকসিনেশন আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আরো ভুল তথ্য ছড়ানো হবে এবং জোর প্রতিবাদও আসবে। কভিড-১৯-এর বিস্তার শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে পাল্লা দিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

ভ্যাকসিনের ইতিহাস বলছে, যারা অ্যান্টিভ্যাকসিন আন্দোলনকে প্রচার করে তারা নির্দিষ্ট ধরনের কিছু কৌশল প্রয়োগ করে। যেসব কৌশল ভ্যাকসিনবিরোধীরা বিভিন্ন সময় ধরে প্রয়োগ করে আসছে। যার সেরা একটি উদাহরণ হতে পারে ১৮৮৫ সালে কানাডার মন্ট্রিলে সংঘটিত গুটিবসন্তের মহামারী। অথচ একশ বছর পর এসে আমরা ভ্যাকসিনের সুবিধা নিয়েই গুটিবসন্ত নির্মূল করেছি। গুটিবসন্তের প্রথম ভ্যাকসিনেশনের সময় এর কার্যকারিতার পক্ষে প্রমাণ থাকার পরও ভ্যাকসিনকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যখন ভ্যাকসিনেশনের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন তখন ১৮৮৫ সালে গুটিবসন্তের সময় এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর জন্য ভ্যাকসিনবিরোধী নেতা ড. আলেকসান্দার এম রোজ একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা প্রকাশ করেন। রোজ নিজেকে নিজের ইতিহাসের নায়ক বলে দাবিও করেন। সে সময় ভ্যাকসিনের প্রতিবাদে যেসব অভিযোগ সামনে আনা হয়, আমরা এখন এসেও সেসব কৌশলের প্রয়োগ দেখতে পাচ্ছি। আজকের কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনবিরোধীদের মতো তখন রোজ ও অন্য গবেষকরা গুটিবসন্তের হুমকিকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেন। তখনো দাবি করা হয়, ভ্যাকসিন হচ্ছে অসুস্থতার কারণ। পাশাপাশি দাবি করা হয়, এটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ।

স্ক্রলডটইন