দেশটিতে ক্রমেই কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এমন অবস্থাতেই দেশটির সরকার অনেক জায়গায় লকডাউন তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে কেন ভারতের সরকার দুই মাস লকডাউন চালিয়ে নেয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নিল?

সংক্রামক রোগের মডেল নিয়ে কাজ করা গবেষক গৌতম মেনন মনে করেন, এটাই লকডাউন তুলে নেয়ার উপযুক্ত সময়। একটা সময়ের পর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে লকডাউনে টিকে থাকাটা কঠিন।

প্রথম দিন থেকেই ভারতে লকডাউনে অনেক মানুষকে কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে, বিশেষত দিনমজুর মানুষকে। লকডাউন দেশটির খাদ্য সরবরাহ চেইনকে হুমকিতে ফেলেছে, লাখ লাখ মানুষ তাদের জীবিকা হারিয়েছে। গাড়ি উৎপাদন থেকে বিলাসী ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি কিংবা পাড়ার ছোট চা-পান বিক্রেতা—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় পড়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন এপ্রিল মাসের শেষের দিকেই বলেছিলেন ভারতে লকডাউন দ্রুত তুলে নিতে হবে এবং দ্বিতীয় দফায় কোনো লকডাউন করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

ভারতের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. দেবদসন বলেছেন, লকডাউনের উদ্দেশ্য হলো সংক্রমণের গতি হ্রাস করা, যেন সে সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলা যায়। এবং ভারতে এই উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, আমরা লকডাউনকে ব্যবহার করেছি প্রস্তুত হতে। এখন অর্থনীতিকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

বিবিসি