বৈশ্বিক ভ্যাকসিন উদ্যোগে (কোভ্যাক্স) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে চীন। এক বিবৃতিতে যোগ দেয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং শুক্রবার বলেন, বেইজিং কোভ্যাক্স নামক উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। চীনের মতো বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশের এ উদ্যোগে যোগ দেয়ার ফলে তথাকথিত ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’কে রুখে দেয়া সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা এ জোটের শরিক হচ্ছে না। বলেছে, এটা সীমাবদ্ধ এবং ব্যাপকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীন দ্বারা প্রভাবিত।

টুইটারে হুয়া লিখেন, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সবার জন্য স্বাস্থ্য—এ ধারণাকে সমুন্নত রাখতে চীন এ উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি চীন এ উদ্যোগের যে প্রতিশ্রুতি তাকেও সম্মান জানায়। 

প্রাথমিকভাবে বেইজিং অবশ্য কোভ্যাক্স উদ্যোগে যোগ দেয়ার সময়সীমা পার করে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের অংশগ্রহণ ভ্যাকসিন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স এবং দ্য কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ইনোভেশন। এ জোটের লক্ষ্য হচ্ছে ১৭১টি দেশে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন সরবরাহ করা।

কোভ্যাক্সে যোগ দেয়ার ফলে চীনের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হবে, তেমনি এটি জোটে অন্তর্ভুক্ত বাকিদের উৎসাহকেও আরো বাড়িয়ে দেবে। এর আগে মহামারীর শুরুর দিকে চীনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়েছিল। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে চীনের আসার অর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বৈরথকে আরো উসকে দেয়া। ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসেই জানিয়েছিল, তারা কোভ্যাক্সে যোগ দেবে না। এর পেছনে তারা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের দুর্নীতি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে হুয়া আরো লিখেন, এমনকি যথেষ্ট উৎপাদনক্ষমতাসহ চীন বিশ্বব্যাপী অনেকগুলো ভ্যাকসিন আবিষ্কারের অগ্রগামী ধাপে আছে, কিন্তু তার পরও কোভ্যাক্সে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, চীন কোভ্যাক্স স্কিমের মাধ্যমে দেশের ১ শতাংশ জনগণের জন্য ভ্যাকসিন কিনবে।

এর আগে মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে চীনের সর্বোচ্চ নেতা শি জিনপিং বলেছেন, তার দেশ কভিড প্রতিক্রিয়ার প্রচেষ্টায় ২ বিলিয়ন ডলার দেবে।

শেষ পর্যন্ত কোভ্যাক্সের উদ্যোগ প্রতিটি দেশের দুর্বল ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন প্রদান করবে। সেপ্টেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, এ স্কিমটি কিছু দেশের সব মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার পরিবর্তে সব দেশের কিছু মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করবে।

তবে যেকোনো সমীকরণেই কোভ্যাক্সে চীনের যোগ দেয়া নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। যার ফলে হয়তো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা ত্বরান্বিত হব। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এর আগে রাশিয়াও এ উদ্যোগে থাকবে না বলে জানিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান