ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের নেয়া বিশ্বব্যাপী সব পদক্ষেপ স্থগিত করে দিয়েছে কভিড-১৯ মহামারী। একটি নতুন প্রতিবেদনে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্য সংকট থেকে ‘আমাদের জীবনকালে সবচেয়ে খারাপ মানব ও অর্থনৈতিক সংকট’ হয়ে উঠছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি ২০২০-এর অগ্রগতি প্রতিবেদনে গুতেরেস বলেন, অনাহারে ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে. জলবায়ু পরিবর্তন পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। আমি মনে করি (খাদ্যের দাম বৃদ্ধি) আমরা যা অনুমান করেছি, তার চেয়ে এটা অনেক বেশি বিস্তৃত। কারণ আমরা এর আগে এ মাত্রার কোনো জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। এটা প্রত্যেকটি দেশে জরুরি অবস্থা বিরাজ করার মতো পরিস্থিতি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসসহ একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চার বছর আগে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছিল।

এই প্রতিবেদনে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যোগাযোগ, বিপণন ও অ্যাডভোকেসি প্রধান জেন হওয়ার্ড বলেন, মহামারীর প্রভাব এবং মহামারী নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিমজ্জিত করেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে অর্ধেক কর্মীর জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে অগ্রগতির অব্যাহত অসমতা এবং অনেক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী জুলাইয়ে নির্ধারিত জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের উচ্চস্তরের বৈঠকের আগে এসডিজির একটি বৈশ্বিক ডেটাচালিত সংক্ষিপ্ত ধারণা দেয়ার জন্য এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরের প্রতিবেদনেই সতর্ক করা হয়েছিল, নারী-পুরুষ সমতা এবং নারী ক্ষমতায়ন ছাড়া  এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের সাধারণ কোনো উপায় নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীরা যখন ফোন চালানোর সুযোগ পায়, তখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। তবে ফোনের মালিকানা নারীদের চেয়ে পুরুষদের কাছে বেশি ছিল। ২০১৭ সালেও ২৬ কোটি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল এবং ২০১৮ সালে ৭৭ দশমিক ৩ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর থেকে গেছে, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক সবীর সিনহা মনে করেন কভিড-১৯ ক্ষুধার বিষয়টি আরো ভয়ানক করতে চলেছে। লোকেরা কেবল একটি ভ্যাকসিনের বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলছে, আমি মনে করি আসন্ন খাদ্য সংকটের বিষয়ে যারা বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন তাদের প্রতি আমাদের মনোযোগ দেয়া উচিত।

এসডিজির অগ্রগতি প্রতিবেদনটি আসার আগে জাতিসংঘের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, কভিড-১৯ সংকট আগামী ১০ বছরে আরো ১৩ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এছাড়া কভিড-১৯ হাইতি, দক্ষিণ সুদান ও টোঙ্গার মতো দেশগুলোতে অভিবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স আয়েও বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। দেশগুলোতে জিডিপির এক-তৃতীয়াংশের বেশি রেমিট্যান্স থেকে আসে। দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে মহামারীটি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অনুমান অনুসারে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ বছর আরো ১৩ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে।

স্ক্রল ডটইন