বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নানা ধরনের সাবধানতা ও সতর্কতা মেনে চলছে মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ মোতাবেক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন হাত ধোয়া ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার মতো পদক্ষেপগুলো এখন সবার জীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পোশাকের বিষয়ে কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত? পোশাকে কতক্ষণ করোনাভাইরাস থাকতে পারে? লন্ড্রি বা ডিটারজেন্ট কি ভাইরাসটিকে মেরে ফেলতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, নভেল করোনাভাইরাসটি সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেট বা ফোঁটা থেকে কাপড়সহ বিভিন্ন বস্তু বা জিনিসের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে পারে। সিডিসির নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, পোশাকসহ বিভিন্ন কঠিন পদার্থের ওপর ভাইরাসটি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (এনআইএআইডি) গবেষণায় জানতে পেরেছে কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক ও স্টিলের ওপর ভাইরাসটি কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু পোশাক বা কাপড়ে ভাইরাসটির স্থায়িত্বের বিষয়ে এখনো তারা কিছু জানায়নি।

মেরিল্যান্ডের জন হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আমেশ এ আদালজা বলেছেন, আমার মনে হয় কাপড়ের ওপর আপনি কয়েক ঘণ্টা থেকে একদিন পর্যন্ত ভাইরাসটিকে খুঁজে পেতে পারেন। এটার স্থায়িত্ব বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবেশের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ভাইরাসের স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করে।

আপনার পরিবারের কেউ করোনাভাইরাস পজিটিভ না হলেও বা কোনো সদস্যের মধ্যে লক্ষণ দেখা না গেলেও আপনার পোশাক নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। প্রয়োজনীয় কাজ সারতে আপনি বাইরে গেলে সেখানে যদি জনসমাগম থাকে বা একে অন্যের থেকে অন্তত ছয় ফিট দূরত্ব বজায় না থাকে সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে এসে আপনার পোশাকগুলো মেশিনে দিয়ে পরিষ্কার করা ভালো।

এনআইএআইডির গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাসটি প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলের ওপর দুই থেকে তিন দিন, কার্ডবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা এবং তামার ওপর চার ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে। আর আপনার পোশাকের জিপার, বোতাম এবং পোশাকের অন্যান্য কঠিন পদার্থের সঙ্গে আপনি বাড়িতে ভাইরাসটি নিয়ে আসতে পারেন। তাই বাইরে থেকে এসে পোশাক মেশিনে পরিষ্কার করুন।

ঘরে বসে হাত দিয়ে কাপড় পরিষ্কারে নিষেধ করা হয়নি। কারণ ডিটারজেন্ট ভাইরাসটিকে মেরে ফেলতে পারে। তবে মেশিন ব্যবহার করলে ডিটারজেন্টের সঙ্গে আপনি উচ্চ তাপমাত্রাও পাবেন।

নিজে কাপড় পরিষ্কার না করতে চাইলে আপনি লন্ড্রিতেও পরিষ্কার করতে দিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে একটু অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ সেখানে অনেক মানুষের কাপড় একসঙ্গে পরিষ্কার করা হয় এবং সেখানে কভিড-১৯ আক্রান্তদের পোশাকও থাকতে পারে। যদিও সিডিসি বলছে, অসুস্থ ব্যক্তির কাপড়ের সঙ্গে সুস্থ ব্যক্তির কাপড় পরিষ্কারে কোনো সমস্যা নেই। কারণ মেশিনে ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করলে ভাইরাসটি মারা যায়। তবে অসুস্থ ব্যক্তির বা তার পোশাকের সংস্পর্শে আসার পর আপনার জামাকাপড়গুলো জীবাণুমুক্ত করা উচিত।

হেলথ ডটকম