করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই পৃষ্ঠতল জীবাণুমুক্ত করা নিয়ে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ভাইরাসটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠতল আসলে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগের গবেষণাগুলোতে জানা গেছে, পৃষ্ঠতলের ধরন অনুযায়ী করোনাভাইরাস কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

তবে মার্কিন শহরে করা নতুন একটি গবেষণা বলছে, ব্যাংকের এটিএম, দোকানের দরজার হাতল ও অন্যান্য ঘন ঘন স্পর্শ করা পৃষ্ঠতলগুলো পরীক্ষা করে কেবল ৮ শতাংশ নমুনায় করোনাভাইরাসের জিনগত উপাদান পাওয়া গেছে। তবে উপাদানের উপস্থিতিও খুব কম পরিমাণে ছিল।

ম্যাসাচুসেটসের মেডফোর্ডের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামি পিকারিং ও তার সহকর্মীরা ম্যাসাচুসেটসের সামারভিলের পাবলিক প্লেসে ৩৩টি পৃষ্ঠতল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা দেখতে পান, একটি আবর্জনার বিন ও একটি অ্যালকোহলের দোকানের দরজার হাতলগুলোতে করোনাভাইরাসের আরএনএ প্রায়ই হ্রাস পেয়েছে। গবেষকরা বলেন, সব নমুনায় কেবল ভাইরাসের নিম্নস্তরের দূষণ পাওয়া গেছে এবং এসব পৃষ্ঠতলের কোনো একটিকে স্পর্শ করার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি কম। গবেষক দলটি দেখেছে, একটি অঞ্চলের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তীব্র হওয়ার সাতদিন আগেই সেখানকার পৃষ্ঠতলের নমুনার সংক্রমণ চূড়া স্পর্শ করে। এজন্য অনেক বেশি স্পর্শ করা পৃষ্ঠগুলোর নমুনা সংক্রমণের তীব্রতার একটি সতর্কতা সরবরাহ করতে পারে।

এদিকে এর আগে একাধিক গবেষণা সতর্ক করেছে, পৃষ্ঠতল পরিষ্কারে বেশি মনোযোগ দিয়ে অন্য স্বাস্থ্যবিধিগুলোকে হালকাভাবে নেয়া হলে সংক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। 

নেচার জার্নাল