যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সারির মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কেউ জানে না কভিড-১৯-এর প্রথম নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন কোথা থেকে আসবে। মূলত সামনের সারিতে থাকা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ মন্তব্য করেছেন তারা।
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি ঝড়ের গতিতে এগিয়ে আসছিল বলে মনে হচ্ছিল এবং বছর শেষ হওয়ার আগে অনুমোদনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ডাটা হাতে থাকবে এমনটাই আশা ছিল। গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি নভেম্বরে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের আগে ভ্যাকসিন আনার জন্য চাপ দেয়ার কথা বিবেচনা করছেন।
কিন্তু তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে শেষ ধাপে হাজারো মানুষ যুক্ত থাকে, যা এখন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে যুক্তরাজ্যে একজন স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায়ও গবেষণা চলছে, কারণ সেসব দেশে কেসের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে দ্রুত উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ স্যার জেরেমি ফারার বলেন, ভ্যাকসিন আবিষ্কার সহজাতভাবেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা এবং আপনি কেবল একটি ভ্যাকসিন প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন না। আপনার একটি পোর্টফোলিও থাকতে হবে। পাশাপাশি আপনাকে বাস্তববাদী হতে হবে যে শেষ ধাপে এসে সব ভ্যাকসিন সফলতা লাভ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, সুরক্ষা খুবই জটিল একটি ব্যাপার। লাইসেন্স নেয়ার পর বড় আকারে ট্রায়াল এবং যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে তাদের মাঝে ফলোআপ করা জরুরি ছিল।
পাশাপাশি কোনো দেশই এটা ধরে নিতে পারে না যে তারা প্রয়োজনীয় স্টকগুলো কিনে বাকি বিশ্বকে অবহেলা করতে পারে। ফারার বলেন, ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদের কোনো মূল্য নেই। মহামারী থেকে বেরুনোর জন্য এটা কোনো উপায় হতে পারে না। এটি সবকিছুর গতি বাড়িয়ে দেবে না। বরং উল্টো এটি ব্যাপারগুলোকে আরো শ্লথ করে দেবে। আর আমাদের কোনো ধারণা নেই যে কোথা থেকে সে ভ্যাকসিন আসবে, যা কিনা নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
যুক্তরাজ্যের হেলথ সেক্রেটারি ম্যাট হ্যানকক বলেন, তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন ট্রায়াল বন্ধের সিদ্ধান্তের ঘটনায় পুরোপুরিভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তিনি জানান, এটি একই ধরনের বিলম্ব এরই মধ্যে কাটিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের বিকাশের ক্ষেত্রে এটি খুবই সাধারণ ব্যাপার। যখন আপনি সমস্যা খুঁজে পাবেন, সেটি তদন্ত করার সময় সিস্টেম বিরতি নেয়। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, আমরা ভ্যাকসিনের জন্য যতই আগ্রহী হই না কেন, এমন একটি ভ্যাকসিনকে সামনে আনতে পারি না যা কিনা অনিরাপদ।
হ্যানকক স্কাই নিউজকে বলেন, এ ভ্যাকসিনগুলোর জন্য এটি একটি নিশ্চিত চ্যালেঞ্জের বিষয়। এটা এমন নয় যে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের জন্য প্রথমবার ঘটছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ক্ষেত্রে এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া।
এটা কোনো ধাক্কা কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জরুরি না, এটা নির্ভর করছে তদন্তে তারা কী খুঁজে পাচ্ছে তার ওপর। এই গ্রীষ্মের শুরুতে একবার বিরতি দিতে হয়েছিল এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই তা সমাধান হয়েছিল।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য আরো অনেক কিছু করছে। সরকার আলাদা ছয়টি ভ্যাকসিনের ৩৪০ মিলিয়ন ডোজ অর্ডার দিয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এটা বিরতি, বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। আমি আশাবাদী যে এটি আবার শুরু হবে, কিন্তু যদি এটি নিরাপদ হয় তবেই।
দ্য গার্ডিয়ান





