নভেল করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও লকডাউনের মাধ্যমে ভ্রমণ সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়। সংক্রমণের প্রথম ঝড় শেষে অনেক দেশই পুনরায় ভ্রমণ চালু করেছিল। বর্তমানে দ্বিতীয় ও কিছু দেশ তৃতীয় ঝড়ের মুখোমুখি হয়ে আবারো নিষেধাজ্ঞাগুলো চালু করেছে। ফলে ছুটির এ মৌসুমে ছুটি কাটানো নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যদিও প্রতিটি ছুটির উদযাপন একই রকম ঝুঁকি বহন করে না এবং মানুষের একত্র হওয়ার ঝুঁকিগুলো সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুবিধার সঙ্গে তুলনা করে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সংক্রামক রোগ ও মহামারী বিশেষজ্ঞ জুলিয়া মার্কাস।
সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত থেকে পারিবারিকভাবে ছুটি উপভোগ করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিগুলো হ্রাস করার কিছু উপায় আছে। এক্ষেত্রে ছুটির ক্ষেত্রে সদস্যসংখ্যা কমিয়ে ঝুঁকিও হ্রাস করা যায়। মার্কাস বলেন, সাধারণভাবে ১০ জন পরিবারের সদস্য নিয়ে ছুটি উদযাপনের চেয়ে পাঁচজন মিলে জড়ো হওয়া তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হবে। অতিথি তালিকা তৈরি করায় সময় অংশগ্রহণকারীরা কতটা ঝুঁকি নিচ্ছে বা কতটা ঝুঁকি নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, তা জিজ্ঞাসা করে নিন। মনে রাখবেন, ছোট একটি জমায়েতও প্রাদুর্ভাবের বীজ বপন করতে পারে।
ছুটি কাটানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস করতে কম ভ্রমণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বোস্টন মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক রোগের চিকিৎসক নাহিদ ভাদেলিয়া বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিজের সম্প্রদায়ের বা গণ্ডির লোকদের সঙ্গে ছুটি উদযাপন করা সবচেয়ে নিরাপদ। লোকেরা যদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রমণ করে তবে তারা ভাইরাসটির বিস্তৃতিতে অবদান রাখতে পারে। আর ছুটি কাটাতে কোথাও যাওয়ার আগে আপনার নিজস্ব এলাকা ও গন্তব্যের স্থানে সংক্রমণের গতিবিধি বিবেচনা করুন। আর এ সময় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হলো ব্যক্তিগত গাড়ি। কারণ গণপরিবহনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। তাই কেবল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে করে ভ্রমণ করা ভালো। আবার গাড়ির বিষয়টি সম্ভব না হলে সবাই মাস্ক পরে ও পরিবহনের জানালা খোলা আছে কিনা তা বিবেচনা করুন। এগুলোও সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করার সর্বোত্তম উপায় হলো মাস্ক পরা, খোলামেলা পরিবেশে থাকা ও দূরত্ব বজায় রাখা। আর ছুটি উদযাপনের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এজন্য ছুটি কাটাতে যাওয়ার আগেই সেখানকার নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি। তাছাড়া যতটা সম্ভব বাড়ির বাইরের লোকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হ্রাস করা উচিত। আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছুটি উপভোগ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সর্বদা ইতিবাচক থাকুন, ছুটি উপভোগ করুন।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান





