দূষণের ভয় ও বারবার হাত ধোয়াই হলো অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডারের অন্যতম নির্দেশক। ডেট্রয়েটের ওয়েইন ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যা ও আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড রোজেনবার্গ বলেন, এক বছর আগে গুরুতর এক ওসিডি রোগী গ্লাভস ও মাস্ক পরে তার অফিসে আসেন, যে ‘দূষিত’ চেয়ারে বসতেও আপত্তি জানান। এখন ঠিক একই আচরণ সর্বত্র স্বীকৃত আর সবাই একে উৎসাহিতও করছে।

রোজেনবার্গ বলেন, প্রাণঘাতী মহামারীর মুখে নতুন এ স্বাভাবিকতা আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং এর প্রভাব থেকেই যাবে। বেশির ভাগ স্টোরই এখন সীমিতসংখ্যক ক্রেতাকে একসঙ্গে প্রবেশাধিকার দেয় এবং তাদের অবশ্যই ফেস মাস্ক পরা ও স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক। পথচারী কিংবা জগিং করতে যাওয়া মানুষগুলো একে অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে এখন বেশ ভদ্রভাবে রাস্তা পারাপার হয়ে থাকে।

রোজেনবার্গ মনে করিয়ে দেন, মাত্র কয়েক মাস আগেই এমন আচরণকে বাড়াবাড়ি মনে করা হতো, কখনো কখনো স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হিসেবেও দেখা হতো। কাজেই, চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সতর্ক আচরণ আর অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডারের মধ্যে ঠিক কোথায় মোটা কালিতে দাগ টেনে দেবেন?

অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি) একটি সাধারণ, দুরারোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যাতে একজন ব্যক্তির অনিয়ন্ত্রিত ও এখনো না ঘটা ভাবনা (বাতিকগ্রস্ততা) এবং আচরণ (বলপ্রয়োগ) থাকে, যা তাকে একটি কাজ বারবার করার তাড়না দেয়।

যেসব মানুষের ওসিডি রোগ আছে তাদের মধ্যে বাতিকগ্রস্ততা, বলপ্রয়োগের বাসনা কিংবা উভয়ই থাকতে পারে। এসব উপসর্গ স্কুল, কর্মক্ষেত্রে কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কসহ জীবনের সর্বত্রই দেখা যেতে পারে।

অবসেশন: কোনো ভাবনা, তাড়না কিংবা মনের কোণে ভেসে ওঠা কোনো ছবি বারবার আসতে থাকাই হলো অবসেশন বা বাতিকগ্রস্ততা, যা দুশ্চিন্তার জন্ম দেয়। এর সাধারণ উপসর্গ:

১. জীবাণু কিংবা দূষণের ভয়

২. যৌনতা কিংবা ক্ষতিসাধনের মতো নিষিদ্ধ ও অলঙ্ঘনীয় বিষয়ের ভাবনা

৩. অন্য মানুষ কিংবা নিজের প্রতি আগ্রাসী ভাবনা

৪. সব বিষয় প্রতিসম কিংবা সঠিকভাবে পেতে চাওয়ার ভাবনা।

কমপালশন: অবসেশনের সঙ্গে কমপালশনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। বাতিক ভাবনার জবাবে একজন ওসিডি রোগী যে আচরণ বারবার করার তাড়না অনুভব করে সেটিই কমপালশন। এর সাধারণ উপসর্গ:

১. বারবার পরিষ্কার করা কিংবা ধোয়া

২. কোনো কিছু সুবিন্যস্তভাবে গোছানো কিংবা সাজানো

৩. কোনো কিছু বারবার পরীক্ষা করা। যেমন দরজা আটকানো কিনা কিংবা চুলাটা নেভানো আছে কিনা।

৪. বারবার গুনতে থাকা

সব আচার কিংবা অভ্যাসই কিন্তু কমপালশন নয়। অনেক মানুষই কোনো কোনো বিষয় একাধিকবার চেক করে নেয়। কিন্তু ওসিডি আক্রান্ত একজন ব্যক্তি সাধারণত যা করে:

১. নিজের ভাবনা কিংবা আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এমনকি ওই সব ভাবনা কিংবা আচরণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ার পরও।

২. ওই সব ভাবনা ও আচরণ নিয়ে দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা ব্যয় করে।

৩. নিজের আচরণ কিংবা কাজ নিয়ে খুশি হতে পারে না, যদিও এ কাজের পর উদ্বেগ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি পায়।

৪. এসব ভাবনা ও আচরণের কারণে দৈনন্দিন জীবনে তাত্পর্যপূর্ণ সমস্যার মুখোমুখি হয়।

কনভারসেশন