বিশ্বজুড়ে ভাইরোলজিস্টরা ল্যাবে প্রতিনিয়ত সার্স-কোভ-২-এর নতুনা নিয়ে কাজ করছেন। আমরা জানি সার্স-কোভ-২ উচ্চ সংক্রামক এবং শরীরে প্রবেশ করলে এটি মারণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই বিজ্ঞানীদের নিজেদের সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এটা অবশ্য নতুন কিছু না। ভাইরোলজিস্টরা নিয়মিতই বিশাল পরিমাণে ভাইরাস নিয়ে কাজ করে থাকেন। এগুলো বাইরের পরিবেশে আমরা যে ধরনের ভাইরাস মোকাবেলা করি তারচেয়ে অনেক বেশি গাঢ় রূপ। তাইলে আমরা কীভাবে এই রোগজীবাণু থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারি?
পদ্ধতি ও প্রটোকল
যে কেউ যখন ল্যাবে নতুন কোনো ভাইরাসের কাছাকাছি আসে, তখন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাদের জানাতে হয় আমরা ভাইরাস নিয়ে কী করতে চাই।
ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সতর্কতার সঙ্গে লিখিত ডকুমেন্ট থাকে। যেখানে লিপিবদ্ধ থাকে কীভাবে ভাইরাসকে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সবাই সুরক্ষিত থাকে।
যেসব বিজ্ঞানী বিপজ্জনক ভাইরাস নিয়ে কাজ করেন, তাদের উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণও দেয়া হয়ে থাকে। এখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ল্যাবরেটরিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে ভাইরাস পরিচালনার ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনাও থাকে। প্রতিজন ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ অবশ্যই থাকতে হবে।
উপকরণ
ভাইরাস নিয়ে আমরা যে পরিবেশে কাজ করি সেখানে নানা শারীরিক সুরক্ষা প্রয়োজন। সংক্রমণ এড়াতে ভাইরাস নিয়ে কাজ করার এবং না করার জন্য আমাদের আলাদা ঘর প্রয়োজন। বিপজ্জনক ভাইরাসকে পরিচালনা করতে হয় বিশেষায়িত ক্যাবিনেটে, যেখানে নিয়ন্ত্রিত জীবাণুমুক্ত বায়ুপ্রবাহ থাকে। এটি বাতাসকে কেবিনেটে আটকে দিয়ে ব্যবহারকারীদের রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি নমুনাকে সুরক্ষা দেয় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে।
পরিচ্ছন্নতা
পরিষ্কার সময় আশপাশে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাস চলাফেরা করতে থাকে। ব্যবহারের আগে-পরে তাই অ্যালকোহল দিয়ে ক্যাবিনেট পরিষ্কার করতে হয়। যাতে কোনো কিছুই বাইরে না আসে। পৃষ্ঠতল পরিষ্কারের পাশাপাশি ল্যাবের ভেতরের সবকিছু জীবাণুমুক্ত করতে হবে। বাড়তি সতর্কতার জন্য গোটা রুমকে বন্ধ করে ফার্মালডিহাইড গ্যাস দ্বারা জীবাণুমুক্ত করা যেতে পারে।
ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম
ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিইকে ধরা হয় সুরক্ষিত থাকার সর্বশেষ বর্ম হিসেবে। যদি প্রটোকল ঠিকমতো মানা হয় এবং সরঞ্জাম ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়, তবে ল্যাবের কোনো কিছুই ভাইরাসের নমুনার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবকিছু ঠিকমতো সম্ভব হয় না, যেহেতু বিজ্ঞানীরাও মানুষ। তাই পিপিই ল্যাবের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পিপিই আমাদের নমুনাকেও আমাদের কাছ থেকে রক্ষা করে। আমাদের ত্বকে এমন অনেক অনুজীব ও এনজাইম থাকে, যা আমাদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন নেই।
দায়িত্বশীল আচরণ করা
জীবাণু, নিয়মকানুন কিংবা ল্যাবরেটরি সেটআপ কোনো ব্যাপার না। ভাইরাস থেকে সুরক্ষার প্রধান ফর্মটিই হলেন বিজ্ঞানীরা নিজেরাই। ওপরে বর্ণিত সবকিছু তখনই কার্যকর হবে, যখন বিজ্ঞানীরা ল্যাবের নিয়মনীতি মেনে এবং সঠিক অনুশীলন গ্রহণ করেন। পিপিই খুব সামান্য কিছুই করতে পারে যদি ব্যবহারকারী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক নিয়ম মেনে না চলেন।
এ নীতি-নৈতিকতাগুলো মহামারীকালে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ল্যাবকে পরিচালনা করার মতো করেই আমাদের ভাইরাসের মোকাবেলা করতে হবে। যেভাবে ল্যাব পরিষ্কার করা হয়, সেভাবে যেন হাত ধোয়া হয়, মাস্ক পরতে হবে পিপিই পরার মতো করেই। একইভাবে ল্যাবে যেমন আমরা সবকিছুকে সংক্রমিত ধরে নিয়ে কাজ করি, তেমনভাবেই বাইরের দুনিয়াকে আমাদের দেখতে হবে।
দ্য প্রিন্ট অবলম্বনে





