ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বার্ষিক উৎসবের নাম কার্নিভ্যাল। আর এ কার্নিভ্যালের প্রাণ হলো দেশটির বিখ্যাত সাম্বা গান ও নাচ। কিন্তু বিশ্বজুড়ে চলা করোনাভাইরাস সাম্বা শিল্পীদের ওপরও আঘাত হেনেছে। ব্রাজিলের সংস্কৃতির ভিত্তি সাম্বার ওপর কভিড-১৯-এর এমন আক্রমণে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাম্বা দলে কাজ করা ৭৬ বছর বয়সী এলভারো সিলভা কয়েক সপ্তাহ আগেও বার্ষিক কার্নিভ্যাল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। তার স্ত্রী নৃত্যশিল্পী ভেরিডিয়ানা ডে কনসিও বলেন, তিনি সাম্বার পেছনে জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় ব্যয় করেছেন। তিনি এতটাই সাম্বাভক্ত ছিলেন যে তাদের প্যারেডগুলো খুব ভালো না হলেও সেটা তাকে খুশি করে তুলত।
তবে এ বছরের কার্নিভ্যালই ছিল এলবারোর জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। প্রতিবেশীদের থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর পশ্চিম রিওর একটি হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর ১৯ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর রিও ডি জেনিরোতে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে পোর্তেলা ও মসিডাডে ইনডিপেনডেন্ট ডে পাদ্রে মিগুয়েলের মতো সাম্বা স্কুলের মর্যাদাবান ৬ জন। সর্বশেষ প্রাণ হারিয়েছেন পাদ্রে মিগুয়েলের সুরকার এডিনহো কোহাব। ১৭ দিন ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৫২ বছর বয়সী আরেক সুরকার ট্যানিও মেন্ডোনকার অবস্থাও গুরুতর বলে জানান স্কুলটির একটি বিভাগের প্রেসিডেন্ট ডোমেনিল সান্তোস। তিনি বলেন, ‘এ মৃত্যুগুলোর কারণে আমি ফোনের ম্যাসেজ দেখতে ভয় পাই। আমাদের দলে ৮০ জনেরও বেশি সুরকার আছে। আমরা একটি পরিবার, যারা মারা যায় তাদের প্রত্যেকেই আমাদের একজন ভাই।’
রিওর এ মৃত্যুগুলো থেকে বোঝা যায় যে কভিড-১৯ প্রথমদিকে ব্রাজিলের ধনী গোষ্ঠীদের প্রভাবিত করলেও এখন সেটা শ্রমজীবী মানুষদের ওপর আঘাত হেনেছে।
গার্ডিয়ান





