নভেল করোনাভাইরাসকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী স্কুলগুলো বেশ আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাঝে কিছু কিছু জায়গায় স্কুল খোলার চেষ্টা করলেও করোনার দ্বিতীয় ঝড়ের ধাক্কায় আবারো তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধের কারণে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চলতি শিক্ষাবর্ষ। সেই সঙ্গে শিশুদের মানসিকতাকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে যাচ্ছে বিষয়টি।

মূলত মহামারীর শুরু থেকেই বাচ্চাদের জীবন নিরন্তর পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, যা প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছিল স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে। এক রাতের মধ্যেই ওলটপালট হয়ে গেছে তাদের রুটিন। এ মুহূর্তে তাদের জীবনে একমাত্র স্থির বিষয়টির নামই হচ্ছে পরিবর্তন। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একজন ম্যারি আলভোর্ড বলেন, এমন না যে এখানে কেবল মাহামারীই ভূমিকা রাখছে। বর্ণবাদী সমস্যা, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও অস্থিরতা এবং তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন এগুলো সবই শিশুদের প্রভাবিত করেছে।

ফ্যামিলি থেরাপিস্ট উলাশ ডানল্যাপ বলেন, হঠাৎ বদলের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার দক্ষতায় মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দক্ষতার প্রদর্শনের বিষয়টিরও প্রয়োজনমতো অনুশীলন করতে হয়। 

মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সৌভাগ্যবশত বাবা-মা শিশুদের উৎসাহিত করতে পারেন। যা কিনা শিশুদের চালিত করতে পারে আকস্মিক পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার দিকে। আলভোর্ড বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে মানসিকভাবে নমনীয় হওয়া, কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হবে তা শেখা এবং পরিবর্তনকে বাধা হিসেবে না নিয়ে তাকে পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করা।

শিশুদের মানসিকভাবে নমনীয় হওয়ার শিক্ষা দেয়া

আলভোর্ড পরামর্শ দিয়ে বলেন ‘মানসিক নমনীয়তা’ বিষয়ে উৎসাহ দিয়ে শুরু করতে। যাকে আমরা অনেক সময় স্রোতের সঙ্গে বয়ে যাওয়া দিয়ে চিহ্নিত করি। তিনি এটাকে ব্যাখ্যা করেন সমস্যা কিংবা চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকগুলো সমাধান বা উপায় বের করে আনার ক্ষমতাকে।

সমস্যা সমাধানে শিশুদের সাহায্য করা

কোনো হতাশাজনক সংবাদ শোনার পর আপনার শিশুর প্রতিক্রিয়া কেমন হয়? আলভোর্ড মনে করেন, যেসব শিশু কোনো কিছু ভুল হলে এটা মনে করে না যে পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে তারা হতাশ ও বিষণ্ন হয়। কিন্তু এটা কোনো বিষয় না যে আকস্মিক কোন বদলটির সঙ্গে শিশুটি মুখোমুখি হয়েছে। মূল ব্যাপার হচ্ছে এটি বাবা-মার একটি সুযোগ শিশুদের সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করার জন্য।

এছাড়া অন্য যে বিষয়গুলো শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, শিশুদের ভেতর নিয়ন্ত্রণের একটা বোধ নিয়ে আসা। শিশুদের নিজের মতো করে সমস্যার সমাধান বের করার সুযোগও দিতে হবে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে সংক্ষেপে অনূদিত