রোগীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা ইউরোপীয় গবেষকরা বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ঘ্রাণশক্তি লোপ বা হ্রাস অনন্য, এটা ঠাণ্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্তদের থেকে আলাদা। কভিড-১৯ রোগীদের ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়ার বিষয়টি হঠাৎ এবং গুরুতর হয়ে থাকে। সাধারণত তাদের অবরুদ্ধ বা সর্দিযুক্ত নাক থাকে না এবং বেশির ভাগ মানুষ বাধাহীনভাবে শ্বাস নিতে পারে। আরেকটি জিনিস করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে দেয়, তা হলো আসল স্বাদ হ্রাস।
এটার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করেছেন, করোনাভাইরাস ঘ্রাণ ও স্বাদ সংবেদনের সঙ্গে জড়িত স্নায়ুকোষকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
ব্রিটেনের পূর্ব অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ তদন্তকারী অধ্যাপক কার্ল ফিলপট ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ঘ্রাণ ও স্বাদ নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি ১০ জন কভিড-১৯ রোগীর সঙ্গে, সর্দিতে খারাপভাবে আক্রান্ত ১০ জন এবং ঠাণ্ডা বা ফ্লুর লক্ষণ নেই এমন ১০ জনের তুলনা করেছিলেন। কভিড-১৯ রোগীদের ঘ্রাণশক্তির ক্ষতি অনেক বেশি গভীর ছিল। তারা ঘ্রাণ শনাক্ত করতে কম সক্ষম ছিল এবং তারা মোটেও তেতো বা মিষ্টি স্বাদগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম ছিল না।
ফিফটি সেন্স দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপক ফিলপট বলেন, এটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। কারণ ঘ্রাণ ও স্বাদ পরীক্ষা কভিড-১৯ রোগীকে নিয়মিত সর্দি বা ফ্লুতে আক্রান্তদের থেকে আলাদা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। কফি, রসুন, কমলা বা লেবু ও চিনিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য ব্যবহার করে মানুষ বাড়িতে নিজের ঘ্রাণ ও স্বাদ পরীক্ষা করতে পারে।
বিবিসি





