আপনার ভাই, বোন বা পরিবারের যেকোনো সদস্য বা হতে পারে আপনার প্রতিবেশী বা আপনার সঙ্গে কাজ করা কোনো সহকর্মী—আমরা প্রত্যেকেই সম্ভবত এমন কাউকে চিনি যে জনসমক্ষে মাস্ক ব্যবহার করে না। যদিও আপনি যেখানে থাকেন সেখানে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বা প্রস্তাবিত। মিডিয়া, কোনো প্রতিষ্ঠান বা অন্যের বলা দেখে অনেকেই মনে করে যে মাস্ক পরা না পরা তাদের অধিকার। তবে এমন মানুষদেরও সঠিকভাবে বোঝানো যেতে পারে।
মানুষরা কীভাবে ঝুঁকিটি উপলব্ধি করে ও সহ্য করে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে তারা কতটা দুর্বল তা বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই আমাদের গ্রহণযোগ্য আচরণের মাধ্যমেই মাস্ক ব্যবহার না করার ঝুঁকিটি তাদের বোঝাতে হবে। আমরা যদি রাগান্বিত, উদ্বিগ্ন, ক্ষোভ বা ভীত থাকার সময়ে তাদের এটা বোঝাতে চেষ্টা করি, তাহলে হয়তো মূল বার্তাটি তিনি পাবেন না। যেমন ভাই-বোনের ক্ষেত্রে যদি বলি, ‘আমি চাই, তুমি যখন আমাদের বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য ট্রেনে উঠছ, তখন মাস্ক ব্যবহার করো।’
এটা যদি অন্য কাউকে বলেন তাহলে তিনি বার্তাটি নাও বুঝতে পারেন। মহামারীটি এ ধরনের ভুল যোগাযোগের আরো বেশি সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়।
এজন্য কাউকে বোঝানোর আগে নিজের প্রস্তুত হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে ক্রুশিয়াল কনভারসেশন রেকোমেন্ড বইয়ের লেখকরা বোঝানোর পর কী ফল চান, তা আগে নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ হলো সম্পর্কটি শ্রদ্ধাশীল এবং যোগাযোগের রাস্তা উন্মুক্ত রাখা, যাতে নতুন পরিস্থিতি উদ্ভব হওয়ার সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে।
আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনি কারো বিশ্বাস বা ক্রিয়াকলাপ পুরোপুরি পরিবর্তন করতে পারবেন না। বরং আপনাকে চেষ্টা করতে হবে শান্তভাবে আচরণ পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করা। এটি হতে পারে, ‘আপনি অন্য সময়ে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার পছন্দ না করতে পারেন, তবে আমরা কি একমত হতে পারি যে বাবার সঙ্গে দেখা করার সময় আপনি মাস্ক ব্যবহার করবেন?’ অন্য ব্যক্তির মূল্যবোধ শনাক্তকরণ ও সম্মান করা এবং মূল্যবোধ খুঁজে পাওয়া তার আত্মরক্ষামূলক মনোভাব শিথিল করে এবং এটা আলোচনার ভিত্তি সরবরাহ করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আমি জানি আপনার সন্দেহ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আমিও এটার সঙ্গে একমত। কারণ এই প্রমাণগুলো প্রায়ই পরিবর্তিত হয়। তবে যেহেতু প্রমাণগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে কিছু তরুণ এবং সুস্থ লোকও ভাইরাসটিতে মারাত্মক অসুস্থ হতে পারে, তাই আমি কি আপনাকে আমাদের ভ্রমণে একটি মাস্ক ব্যবহার করতে বলতে পারি?’
মানুষকে বোঝানোর আরেকটি উপায় হতে পারে, কেন তিনি মাস্ক ব্যবহার করেননি সেটা জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে তাকে এটি ব্যবহার করার কথা বলা। এটা তার প্রতিরক্ষামূলক আচরণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। লোকেরা মাস্ক না পরার অনেক কারণ রয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা শুনে সেটার আলোকেও আপনি সমাধান করতে পারেন।
আমরা যদি বিচার না করা, সহানুভূতিশীল এবং ফলাফল কী পেতে চাই সেগুলোতে পরিষ্কার হয়ে থাকি, তাহলে আমরা পাল্টা প্রতিক্রিয়াশীল হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। যেমন কাউকে বলার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া বা কারো উদ্বেগকে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারি। বরং আপনি যখন তাকে সমর্থন দেবেন এবং তিনি আপনাকে ভরসা করার মতো সাহস পাবেন, তখনই কেবল যোগাযোগ, অনুরোধ কাজ করবে।
দ্য কনভারসেশন





