ডেনমার্কের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা খামারে মিঙ্ক ও মানুষের মধ্যে সার্স-কোভ-২ মিউটশনগুলোর জেনেটিক ও নিরীক্ষামূলক ডাটা প্রকাশ করেছে। মিউটেশনের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেডেরিকসেন গত ৪ নভেম্বর মিঙ্ক উৎপাদন বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান। যেখানে ১৭ মিলিয়ন মিঙ্ক হত্যা করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।
এখন বিজ্ঞানীরা ডাটা পর্যালোচনা করে বলেছেন, যে মিউটেশন সংঘটিত হয়েছে তা উল্লেখযোগ্যভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো না। কারণ খুব অল্পই প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তারা ভাইরাস সহজেই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় এবং ভাইরাসকে আরো মারণঘাতী করে তোলে কিংবা প্রতিষেধক ও ভ্যাকসিনকে বিপদে ফেলে দেবে। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট অ্যাসট্রিড আইভারসেন বলেন, মিউটেশনের সঙ্গে মিঙ্কের সংযুক্তির ব্যাপারে আমরা যা জানি তা দ্রুত বিস্তৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। এমনকি অসুস্থতা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন আনে না। গবেষকরা বলেছেন, ভাইরাসের লাগামহীন বিস্তৃতি ঠেকাতে প্রাণীদের হত্যা করা সম্ভবত জরুরি। জুন থেকে ২০০-এর বেশি ফার্মে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে, যা কিনা মিঙ্ককে ভাইরাসের প্রধান উেস পরিণত করেছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলের মিঙ্কের খামারগুলো আক্রান্ত হয়েছে সেখানকার সংক্রমিত মানুষের সংখ্যাও অনেক, বলছিলেন আইভারসেন। পাশাপাশি ডেনমার্কে মানুষের চেয়ে তিন গুণ বেশি মিঙ্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে তার মতে, মিঙ্ক হত্যা করা জরুরি।
ভাইরোলজিস্ট জান্নিক ফোনাগার বলেন, মিঙ্কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্তৃতি ভাইরাসকে সুযোগ করে দিতে পারে আরো বিবর্তিত হতে এবং আরো বেশি মিউটেশেন করতে, যা পরবর্তী সময়ে উদ্বেগজনক হতে পারে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা তাদের উদ্বেগের কথা সরকারকে জানিয়েছেন এবং সরকার মিঙ্ক হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ফোনাগার বলেন, ডেনমার্কের গবেষকরা ৪০টি মিঙ্ক ফার্ম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তার ভাইরাল সিকোয়েন্স করেছেন, যেখানে ১৭০টি রূপান্তর শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডেনমার্কের নাগরিকদের ভাইরাল নমুনাগুলো—যা দেশের নিশ্চিত সংক্রমণের এক-পঞ্চমাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, সেখানে তারা প্রায় ৩০০টি রূপান্তর পেয়েছে, যা মিঙ্কে শনাক্ত করা যায়। যার অর্থ হচ্ছে, তারা এমন মিউটেশন বহন করছে, যা প্রথম মিঙ্ককে দেখা গিয়েছিল বলে ভাবা হচ্ছিল।
এখানে বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়েছিল মিউটেশনের স্বতন্ত্র একটি মিশ্রণ যাকে বলা হচ্ছিল ‘ক্লাস্টার-৫’,
যা নর্থ জুটল্যান্ডের পাঁচটি ফার্মে এবং ১২ জন ব্যক্তির মাঝে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ডাটা পর্যালোচনাকারী গবেষকরা বলেন, এ দাবি অনুমাননির্ভর। এ ক্লাস্টার-৫ মানুষের মাঝে অনেকটা ‘ডেড-এন্ড’র মতো। কারণ এটা বিস্তৃতভাবে ছড়ায়নি। যারা সংক্রমিত হয়েছে তারা মূলত খামারে কাজ করছিল এবং সম্ভব উচ্চতর ভাইরাল ডোজের সংস্পর্শে এসেছিল। বিস্তৃত সিকোয়েন্সিং ও ডাটা শেয়ারিংয়ের পরও সেপ্টেম্বর থেকে এ রূপান্তর আর দেখা যায়নি।
নেচার জার্নাল





