অক্টোবরফেস্ট বিয়ার উৎসবের মতো ইভেন্টের মাধ্যমে মদ্যপান সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে থাকা জার্মানি ইউরোপের অ্যালকোহল সেবনের সর্বোচ্চ হারের একটি দেশ। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার পর এ মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে এ মহামারী অনেক মদ্যপায়ীকে এটা ছেড়ে দেয়ার জন্য লড়াই করতে উৎসাহিত করেছে।

লকডাউনের শুরুর দিকে অ্যালকোহলের বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ডার স্পিয়েগেলে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্চের শেষে ফেব্রুয়ারির একই সপ্তাহের তুলনায় মদের বিক্রি ৩৪ শতাংশ এবং স্পিরিটের বিক্রি ৩১ শতাংশ বেড়ে গেছে।

দেশটির রাজধানী বার্লিনের ৩৮ বছর বয়সী একজন সংগীতশিল্পী প্রতি রাতে প্রায় এক বোতল করে মদ্যপান করছিলেন। তিনি বলেন, এটা এমন ছিল যে এটা কোয়ারেন্টিন, চলো পার্টি করি। কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল অন্যভাবে ভাবতে শুরু করলাম। কোয়ারেন্টিন নিজের দিকে তাকাতে এবং উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছিল যে অপেক্ষা করো, এটা ঠিক নয়। এটা আসলে সমস্যা, এটা আসক্তি।

গত ২০ বছর ধরে প্রতি রাতে মদ্যপান করে আসা এমনই এক ব্যক্তি স্থানীয় অ্যালকোহলিস অ্যানোনিমাস নামের একটা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মদ্যপান ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই গ্রুপের এক মুখপাত্রের মতে, গ্রুপের হেল্পলাইনে যোগাযোগের মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০ কল পাওয়া যেত, এখন সেটা ২০টি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, নিজের বোধ থেকেই হোক আর পরিবারের চাপের কারণেই হোক অনেক মদ্যপায়ী অ্যালকোহল ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হয়েছে। আগে কাজের জায়গা বা কাজ শেষে আড্ডায় বসে তারা মদ্যপান করত। কিন্তু এখন ঘরে বসে থাকার কারণে পরিবারের সদস্যরা মদ্যপান করতে দেখে ফেলছে। এটাই তাদের মানসিকভাবে আঘাত করছে এবং তারা মদ্যপান ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

মেডিকেল এক্সপ্রেস