বিভিন্নভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো আফ্রিকা মহাদেশের নেতৃত্ব দেয়। এ মুহূর্তে কভিড-১৯-এর কারণে আফ্রিকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ মহাদেশটিতে সংক্রমণের উত্থান ঘটলে নিশ্চিতভাবেই দেশগুলোর দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখে আফ্রিকার দেশগুলোর কিছু বিষয় শিখতে পারে।

প্রথমটি হলো বাড়িঘর জীবাণুমুক্ত রাখা। ব্যয়বহুল ভেন্টিলেটর কেনার পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রমাণিত হয়েছে যে বাড়িঘর জীবাণুমুক্ত রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ আফ্রিকা করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পরীক্ষাগারগুলোতে হাজার হাজার নমুনা জমা হয়ে থাকার কারণে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশিষ্ট ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ শাবির মাধি বলেন, আর্থিক ও লজিস্টিক স্বল্পতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় সম্ভাব্য পরীক্ষার সীমা প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার থাকবে। এটা ভালো একটি সংখ্যা, তবে পরীক্ষার ফলগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে না পারলে এটাও কাজে দেবে না। দ্রুত পরীক্ষা করতে না পারা আর একেবারেই পরীক্ষা না করা সমান।

আফ্রিকা স্বস্তির ঢেকুর তুলে আসছে যে জনসংখ্যার বিরাট অংশ তরুণ এবং এটা ভাইরাসের প্রভাব তথা মৃত্যু কমাতে সহায়তা করবে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রমাণিত হয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের পাশাপাশি স্থূলতা অল্প বয়স্ক কভিড-১৯ রোগীদের প্রাণহানির সঙ্গে যুক্ত।

এ সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ঘোষণা দেয়, কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি মানুষ সমবেত হতে পারবে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তে বৈজ্ঞানিক ধারণার পরিবর্তে রাজনৈতিক ছাড় ছিল। এ সিদ্ধান্তটি প্রবল ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসি