করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নাক থেকে সোয়াব নেয়ার ঝামেলাপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করতে হয় স্বাস্থ্যকর্মীদের। স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে বলেই রোগীকে যেতে হয় হাসপাতালে। কিন্তু রোগী যদি নিজেই নিজের নমুনা নিতে পারে, সেটি কেমন হবে? যুক্তরাজ্যে ‘নো সোয়াব’
পরীক্ষার ট্রায়াল এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এতে রোগী নিজেই কোনো পাত্রের মধ্যে থুতু ফেলে তা পরীক্ষা করাতে পারবে।
যুক্তরাজ্যে চার সপ্তাহব্যাপী এ ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছে ১৪ হাজার জিপি স্টাফ (জেনারেল ট্র্যাকটিস), বিভিন্ন
খাতের কর্মী ও তাদের আত্মীয়স্বজন। কিছু ইউনিভার্সিটি স্টাফ ও শিক্ষার্থীও এতে অংশ নিচ্ছে। তারা প্রতি সপ্তাহে নমুনা হিসেবে থুতু দেবে। এই পাইলট প্রকল্পটি পরিচালনা করছে সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যালিভা টেস্টের এ পদ্ধতিটি অনেক সহজ বিকল্প হবে, কেননা সোয়াব দেয়া বেশ অস্বস্তিকর এবং এটি সংগ্রহ করতে নাক ও গলার অনেক ভেতরে পৌঁছতে হয়। স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক বলেন, ‘করোনাভাইরাস টেস্ট ঘরে করার জন্য স্যালিভা টেস্ট অনেক সহজতর হতে পারে, এতে কোনো সোয়াব ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।’
এদিকে গত সোমবার থেকে ‘নিজে করো’
ভাইরাস টেস্ট মেলবোর্ন শহরে প্রয়োগ শুরু করে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ, যাতে এই শহরে প্রাদুর্ভাবের ফলে সংক্রমিত প্রতিটি মানুষকেই শনাক্ত করা যায়।
ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রু জানান, ‘স্যালিভা টেস্ট’
নামে পরিচিত এই করোনাভাইরাস পরীক্ষায় শুধু একটা কাপে নমুনা নিতে হয় এবং এটি বর্তমানে নাকের সোয়াব নেয়ার প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্যালিভা টেস্টের ফলে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা বেশ গতি পাবে, কেননা এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের তদারকি কিংবা সহযোগিতার প্রয়োজন পড়বে না।
অ্যান্ড্রু বলেন, ‘এটা বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে নমুনা নেয়ার জন্য যতটা সময় লাগছে, তা নিঃসন্দেহে কমিয়ে আনবে। এই পদ্ধতিটা সারা দেশে এখনই পৌঁছে যাচ্ছে না, সবার আগে মেলবোর্নেই এর প্রয়োগ হবে।’
বিবিসি





