কভিড-১৯ মহামারীর সময় শারীরিক দূরত্বের ধারণা বা এ-সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো আরো সেযব কর্মকাণ্ডে ভাইরাসটি বিস্তৃতভাবে ছড়াতে পারে সেগুলোকে অবজ্ঞা করে। সাম্প্রতিক পর্যালোচনাগুলোতে দেখা গেছে, হাঁচি, কাশি বা চিত্কার করার সময় ড্রপলেটগুলো কয়েক মিটারেরও বেশি দূরে যেতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাতাসের দ্রুতগতির নির্গমনে কিছু ড্রপলেট মাত্র কয়েক সেকেন্ডে আট মিটার (২৬ ফুট) দূরে ছড়িয়ে পড়ে।

এক বা দুই মিটার শারীরিক দূরত্বের নিয়ম বেশকিছু পরিস্থিতিতে উপযুক্ত হতে পারে, তবে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের আরো বেশি সংখ্যক মডেল দরকার। তারা ব্যাখ্যা করেন, এখন যে নিয়মগুলো রয়েছে সেগুলো বায়ু চলাচল, একসঙ্গে সময় কাটানো, চার দেয়ালের ভেতরে বা বাইরের পরিবেশ, মাস্ক ব্যবহার এবং সামজিক ক্রিয়াকলাপের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে করা হয়নি। এ বিষয়গুলো করোনাভাইরাসের বিস্তারকে প্রভাবিত করতে পারে।

এছাড়া দূরত্বের নিয়মগুলো প্রায়ই বায়ুবাহিত ড্রপলেটের আকার বা একটি ড্রপলেট কতগুলো ভাইরাস বহন করতে পারে ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে না। তবুও এই মহামারীতে সামাজিক দূরত্বের বেশির ভাগ নিয়মগুলো এক থেকে দুই মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং যুক্তরাজ্য সম্প্রতি তাদের দূরত্বের নির্দেশনায় এক মিটার দূরত্ব কমিয়েছে।

গবেষকরা নতুন পর্যালোচনাটিতে লিখেছেন, একক ও স্থির শারীরিক দূরত্বের নিয়মের পরিবর্তে আমরা স্থান-পরিবেশ অনুযায়ী একাধিক দূরত্বের নিয়মের সুপারিশ প্রস্তাব করি। এটা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃহত্তর সুরক্ষা সরবরাহ করবে, নিম্নতর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বৃহত্তর স্বাধীনতা প্রদান করবে এবং এটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা এনে দেবে।

পর্যালোচনাটি বর্তমান সামাজিক দূরত্বের আরো বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক সমালোচনায় যোগ দিয়েছে। জুলাইয়ে শতাধিক বিজ্ঞানী এক মিটার সামাজিক দূরত্বের নিয়মটি পুনর্বিবেচনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। মন্তব্যটির একজন লেখক ব্যাখ্যা করেছেন, ডব্লিউএইচও বলেছে, কভিড-১৯ বায়ুবাহিত বা বায়ুবাহিত সংক্রমণ ঘটানোর বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। কিন্তু আমরা যুক্তি দিচ্ছি, ভাইরাসটি অ্যারোসল বা বায়ুবাহিত সংক্রমণ ঘটায় না এমনটা বলার জন্য অপর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।

কী পরিমাণে ঘটছে সেটা আলাদা বিষয়, তবে প্রমাণ রয়েছে যে করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত, এমনকি ছোট ছোট ড্রপলেটেও বাহিত হয়। সাম্প্রতিক কিছু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এক মিটারের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৩ শতাংশ এবং এক মিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে সেটা মাত্র ৩ শতাংশ।

নতুন বিশ্লেষণের লেখকরা বলেছেন, বর্তমানের অনুমানগুলো ত্রুটিযুক্ত এবং প্রায়ই পুরনো দিনের বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা। এর মধ্যে কিছু এসেছে ১৯৩০-এর দশক থেকে। এক দশক আগে আমরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছি যে যখন মানুষের হাঁচি-কাশি হয়, তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেটগুলো কতটা উড়ে যেতে পারে। বায়ুপ্রবাহ ছাড়া উদাহরণস্বরূপ বড় ড্রপলেটগুলো সর্বোচ্চ দুই মিটার দূরে যেতে পারে, যেখানে ছোট ড্রপলেটগুলো বাষ্পীভবনে ডুবে যায়। অন্যদিকে বায়ুপ্রবাহ থাকলে ছোট ড্রপলেটগুলো দুই মিটার ছাড়িয়ে যেতে দেখা গেছে।

চীনের উহানের একটি হাসপাতালের করা গবেষণায় রোগীদের থেকে চার মিটার দূরের বাতাসে করোনাভাইরাস ভেসে থাকতে দেখা গেছে। কিছু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন, কারণ বায়ুবাহিত করোনাভাইরাসের ছোট ডোজ সংক্রমণের বড় ঝুঁকি তৈরি নাও করতে পারে।

সায়েন্স অ্যালার্ট