করোনাভাইরাস মহামারীতে সবচেয়ে খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে বার বন্ধ ও বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের মতো নির্দেশনার পর সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা কমে এসেছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা লক্ষ করছেন সংক্রমণের হার কমে এসেছে। তাই তারা ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধিগুলো জারি রাখার চিন্তা করছেন।

সোমবার ফ্লোরিডায় ৮ হাজার ৮৯২ জন নতুন আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে, যা ৭ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কম। টেক্সাসে রোববার ৫ হাজার ৮১০ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্তের রেকর্ড করা হয়েছে, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন ঘটনা। জুন মাসে আক্রান্ত শনাক্ত বৃদ্ধির পর অ্যারিজোনায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং আপেক্ষিক স্থিতিশীলতার মানে এই নয় যে সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এসেছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের অর্থনীতি স্বাভাবিক করার জন্য সবকিছু খুলে দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে চলেছেন।

জনস হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের একজন ভাইস ডিন জোশুয়া এমন শারফস্টেইন বলেছেন, জাতীয় কৌশলের অনুপস্থিতি একটা বড় সমস্যা, কারণ আমরা একটি সংযুক্ত দেশ। একক মহামারীতে ৫০টি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা খুব কঠিন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহামারী মোকাবেলায় একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, পরিবর্তে প্রতিটি রাজ্যকে তার নিজস্ব পথ নির্ধারণ করতে দিয়েছেন। গত সোমবার তিনি সেই কথাটি পুনর্বার উল্লেখ করেছেন। তবে আগামী নভেম্বরে নির্বাচন সামনে নিয়ে তিনি দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তার আকাঙ্ক্ষাও গোপন রাখেননি।

মহামারী শুরুর পর থেকে অনেক গভর্নর ট্রাম্পের নেতৃত্ব অনুসরণ করে এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কঠোর জনস্বাস্থ্যের বিধিগুলোর বিরোধিতা করে আসছিলেন, যা ১ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। এরপর এখন যখন আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তখন অনেক গভর্নর মাস্ক ব্যবহার, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিয়ে সংক্রমণ একেবারে কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

রিপাবলিকান পার্টির অ্যারিজোনার গভর্নর ডগ ডুসি গত সপ্তাহের শেষ দিকে বার ও জিমের ওপর বন্ধের আদেশ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এক মাস পর আমাদের এখানে আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা অ্যারিজোনায় যে কৌশলগুলো নিয়ে কাজ করছি তা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আজ বিজয়ী নই। আমরা এখনই হাল ছাড়তে পারি না।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডি সান্টিস প্রথম দিকে বেশির ভাগ জনস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা গ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। যদিও এখন তিনি বার বন্ধ, মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যবসা সীমাবদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে কেবল এ ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট নাও হতে পারে। তবু সাবেক ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টম স্টেয়ার বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা অন্তত যা করতে পারি, তা হলো সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। আমি একটি ভ্যাকসিন আসার জন্য দম বন্ধ করে বসে থাকতে পারি না।

দ্য প্রিন্ট