নভেল করোনাভাইরাস সংকটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিশ্বজুড়ে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে এশিয়ার কিছু দেশে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত বুধবার শ্রেণীকক্ষে ফিরতে শুরু করে। যদিও এটা করোনাপূর্ব সময়ের মতো স্বাভাবিক ছিল না।

কেবল ওপরের ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়ে তাদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়, ক্যাম্পাসে তারা মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে আলাদা ডেস্কে বসানো হয়েছে। যদিও বিদ্যালয় চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর কভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ পাওয়ায় রাজধানী সিওলের নিকটবর্তী শহর ইনচিয়নের কয়েক ডজন বিদ্যালয় পুনরায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে মারা গেছে ২৬৪ জন। উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষিণ কোরিয়া কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলে মনে করা হয়। এজন্য দেশটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে প্রশংসিত হয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির শিক্ষার্থীরা আট সপ্তাহ বাড়িতে থাকার পর গত সোমবার বিদ্যালয়ে ফিরতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশেও এরই মধ্যে শিশুরা ক্লাসে ফিরেছে।

এছাড়া গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হওয়া চীনে মার্চ মাসেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। এ মাসের শুরুতে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪০ শতাংশ শিশু ক্লাসে ফিরে এসেছে।

শিশুদের ক্লাসে ফেরার বিষয়টি একটি জটিল সিদ্ধান্ত। যদিও বাচ্চাদের কভিড-১৯-এর লক্ষণগুলো হালকা হয়ে থাকে। তবে কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, বাচ্চারা দুর্বল প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং এটা সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সিএনএন