নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সবচেয়ে দুর্বল লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও অবসাদ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমিত ও পুনরুদ্ধার হওয়ার কয়েক মাস পর এসব লক্ষণ দেখা যায়। গবেষক ও চিকিৎসকরা এ লক্ষণগুলোর কোনো নাম দেয়ার বিষয়ে এখনো একমত হতে পারেননি। এগুলো কভিড-পরবর্তী লক্ষণ ও লং কভিড-১৯ বলা হচ্ছে। বর্তমানে গবেষক ও রোগীরা এটাকে ‘লং কভিড’
বলার অনুরোধ করেছেন।
তারা করোনাভাইরাস থেকে পুনরুদ্ধারের সংজ্ঞাটি এমন মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যা কেবল নেতিবাচক পরীক্ষা পর্যন্ত নয়, বরং দীর্ঘকালীন প্রভাব সেরে না ওঠা পর্যন্ত প্রসারিত। সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা বলা কিংবা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য গবেষক নিসরিন আলওয়ান যেমন আগস্টে একটি ওয়ার্ল্ড ভিউ নিবন্ধে লিখেছিলেন, মানুষের বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট, পেশি ব্যথা, ধড়ফড় ও অবসাদের মতো লক্ষণগুলোও বিবেচনায় নেয়া উচিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এক্ষেত্রে গবেষক ও তহবিল সংস্থাগুলোও কভিড থেকে সেরে ওঠার সংজ্ঞা হিসেবে লং কভিডকে গ্রহণ করবেন কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তাদের অবশ্যই রোগীদের কথা বিবেচনায় নেয়া উচিত।
লং কভিডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম (এমই/সিএফএস) নামে পরিচিত মায়ালজিক এনসেফ্যালোমাইলিটিসের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। এমই/সিএফএসে আক্রান্ত লোকেরা বহু বছর ধরে এটার স্বীকৃতির জন্য লড়াই করেছিল। প্রায় ৪০ বছর আগে লোকেরা এ রোগের স্বীকৃতির কথা বলা শুরু করেছিল। এটার লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, অনিদ্রা ও বারবার ব্যথা অন্তর্ভুক্ত। এমই/সিএফএস ও তাদের প্রতিনিধিদের দ্বারা লোকেরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম হলো এ দাবি ছিল প্রান্তিক পর্যায় থেকে। এ কারণে স্বীকৃত হতে বিলম্ব হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রোগীদের গ্রুপ অ্যাকশন ফর এমইর চিফ এক্সিকিউটিভ সন্যা চৌধুরী বলেছেন, আজও এমই/সিএফএস নিয়ে ভালো গবেষণা হয় না।
লং কভিডে আক্রান্ত যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মানব ভূগোলবিদ ফেলিসিটি ক্যালার্ড বলেন, লং কভিডের জন্য উপযুক্ত পরিভাষার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাই মুখ্য বিষয়। ক্যালার্ডসহ একদল গবেষক ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ন্যাচারে একটি ব্লগ পোস্টে গবেষণা ও চিকিৎসা সম্প্রদায়ের প্রতি লং কভিড শব্দটির ব্যবহার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। পোস্ট, সিনড্রোম ও দীর্ঘস্থায়ীর মতো শব্দগুলো অবস্থার তীব্রতা কমিয়ে দেয় বলে যুক্তি দেখিয়েছেন তারা। তারা জানিয়েছেন, এগুলো মানুষের চিকিৎসা পাওয়া আরো কঠিন করে তুলবে।
ক্যালার্ড বলেন, এ ধরনের শব্দগুলো ওই অবস্থার অনুমানও বহন করে, যা এখনো সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি। অন্যদিকে লং কভিড স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে সংক্রমণের পর মানুষের অসুস্থতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, এটা অন্য কোনো অর্থ সরবরাহ করে না।
গবেষক, চিকিৎসক ও তহবিল দেয়াদেরও বিবেচনা করতে হবে যে তারা কীভাবে অসুস্থতার বিষয়ে উল্লেখ করবেন এবং কীভাবে কভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধারের আরো সঠিকভাবে সংজ্ঞা দেবেন।
নেচার





