ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদে মারাত্মক প্রভাব পড়ে সেসব মানুষের ওপর যারা নির্দিষ্ট কোনো দলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ভারতে এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। নির্ভরযোগ্য সংবাদও অনলাইনভিত্তিক ভুয়া সংবাদের ভিড়ে হারিয়ে যায়। তাতে আর্থিক ও সামাজিকভাবে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বহু মানুষকে।

ভুয়া খবরের সবচেয়ে বড় বলি দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আর ব্যবসায়ী শ্রেণী। ভারতে সবচেয়ে বেশি ভুয়া সংবাদ তৈরি হয় ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে, যা করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় আরো বেড়ে গেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খবরের সত্যতা যাচাইকারী পাঁচটি ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে দেখা যায়, ১ হাজার ৪৪৭টি ঘটনার মধ্যে ৫৮ শতাংশই ছিল করোনাভাইরাস সম্পর্কিত। এর মধ্যে ছিল মিথ্যা দোষারোপ, লকডাউন গুজব ও ভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।

মুসলিমদের নিয়ে গুজবের শুরুটা এপ্রিলে। দিল্লির মসজিদে তাবলিগ জামাতের একদল মুসল্লি করোনায় পজিটিভ হওয়ার পর গুজব ওঠে, মুসলমানরা ইচ্ছেকৃতভাবে ভাইরাস ছড়াচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবার মুসলিমদের ব্যবসা বয়কটের দাবি ওঠে। উত্তর প্রদেশের সবজিবিক্রেতা ইমরান (ছদ্মনাম) বিবিসিকে বলেন, এক মুসলিম ব্যক্তি রুটির ওপর থুতু ফেলছেন, হোয়াটসঅ্যাপে এমন ভুয়া ভিডিও আসার পর মানুষজন মুসলিমদের ব্যবসা বয়কটের দাবি ওঠে। তার কথায়, ‘আমরা গ্রামে ঢুকতে সাহস পাচ্ছিলাম না, যেখানে সচরাচর সবজি বিক্রি করতাম।’

মাংস নিয়েও গুজব ওঠে চরমে। বলা হয়, মাংস বর্জন করলে ও নিরামিষ খেলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। এতে দেশব্যাপী মাংস ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। সরকারি হিসাব বলছে, এপ্রিল পর্যন্ত ভুয়া খবরের কারণে পোলট্রি শিল্পেই ১৩০ বিলিয়ন রুপি লোকসান হয়েছে। মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় ভুট্টার চাহিদাও পড়ে যায়। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ন্যায্য দামের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কমে সরকারের কাছে ভুট্টা বিক্রি করছে।

বিবিসি