৮০ একরের ফার্মে একা বসবাস করছিলাম, তখন আমি  বিষণ্নতার সঙ্গে লড়াই করে ভাবছিলাম আমরা একটা মহামারীকে তাড়ানোর চেষ্টা করছি। এরপর আমি যে সময় সময় বাইরে বেরিয়েছি সবকিছু বেশ পরাবাস্তব বলে মনে হয়েছে। সবার মুখে মাস্ক। কারো সাদা আবার কারো কালো। কিছু কিছু আবার অন্য রকম ডিজাইন করাও ছিল। তবে এই সত্য বদলানো যাবে না যে মানুষের মুখে অর্ধেক অংশ আড়াল হয়েছে এই ভাইরাস দ্বারা, যেখানে কেবল চোখ দুটোই দৃশ্যমান। তারা বলে চোখ হচ্ছে মনের জানালা। কিন্তু কভিড আমাকে শেখাল এটা অসত্য। চোখ কেবল গল্পের একটা অংশ বলে। তবে যখন মানুষের মুখের পুরো অংশ দৃশ্যমান হয়, তখনই কেবল মনের ঝলক পাওয়া যায়।

আমার ফার্ম ফিচবার্গে অবস্থিত। গরমের সময় ফিচবার্গের মার্কেট কৃষকদের জন্য চালু করে দেয়া হয়। কিন্তু এ বছর কভিড-১৯-এর কারণে ব্যস্ত এ মার্কেট জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একজনকে আরেকজনের চেয়ে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে।

অনেক সময় আমার কান্না করতে ইচ্ছে হয়। এটা এজন্য যে আমার শব্দ হয়তো নৈঃশব্দকে ছাপিয়ে সব জায়গায় ছড়িয়ে যাবে। যেভাবে আমার ঘরের পাশের নদীটি প্রাকৃতিকভাবে জোরে শব্দ করে। এই নদীটি প্রতি মৌসুমে প্রবাহিত হয় এবং এর কোলাহলপূর্ণ শব্দ আমার কাছে কভিড-১৯-এর প্রতিনিধিত্ব করে। এমন শব্দ যা কিনা বুঝতে পারা অসম্ভব, এটি এমন শব্দ যা আমার করার বা ভাবার সবকিছুকে ঘিরে ধরে, অন্যকে হালকা শব্দকে মুছে ফেলে, যা প্রশান্তি দান করে। আমি যেখানেই যাই আমি সেই নদীর শব্দ শুনতে পাই। আমি এটা আমার শোয়ার ঘরে শুনি যখন কম্পিউটার চালাতে বসি এবং যখন আমার শহরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে দেখি তখনো।

কভিড-১৯-এর আগে আমি ভাবতাম স্বাধীন জীবনযাপনের শিল্প আমি আয়ত্ত করেছি। আমি নিজের কাঠ কাটতে পারি। নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করতে পারি। এছাড়া আরো কিছু আমি নিজেই করতে পারি। এখন আমি জানি সেটা এক ধরনের বিভ্রম ছিল। এখন আমি জানি একাকিত্ব আমি যা কল্পনা করি তার চেয়ে অনেক গভীর ও পরিপূর্ণ। কোয়ারেন্টিন। একটি বিদঘুটে শব্দ। এটা আমাকে অ্যাসাইলামের কথা মনে করিয়ে দেয়।

এখন ব্যাপার হচ্ছে কভিডের সময়ের দিনযাপন আমাকে বিষণ্ন  করে দিয়েছে। আমার একাকিত্বের প্রতি সহনশীলতাও অনেক। যদিও ভাইরাসের জন্য এবং এটা যা দাবি করে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই। আমি কখনো জানতাম না, অপরিচিত কোনো ব্যক্তির শুভ কামনার একটা মুচকি হাসি কিংবা হাতের স্পর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদ হারানোর এই সময়ে হতাশা মানুষের চারপাশ ঘিরে থাকে। সিডিসি বলছে, ১০ জন আমেরিকানের একজন নির্দিষ্ট বছরে হতাশাজনক অসুস্থতায় ভোগে। অনেকগুলো পথে এই সিনড্রোমের কারণে আমরা অনেক কিছু হারাতে পারি। কাজ পেতে সমস্যা, কাজে গেলেও দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হওয়া। আরো অনেক কিছু। বলা হচ্ছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে মোট অর্থনৈতিক বোঝা প্রতি বছর আনুমানিক ২১০ বিলিয়ন ডলার।

আর এখন আমরা ভাইরাসের কারণে আলাদা থাকতে বাধ্য হচ্ছি, ফলে আমরা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছি। মহামারীর শুরুতে যখন আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করা হয় তখন আমেরিকানরা মহামারী-পূর্ব সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগ ও হতাশার কথা বলেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে তিন গুণ বেশি ছিল। 

কভিড এসেছে, একসময় চলেও যাবে। যদিও এর প্রস্থান কেমন হবে, তা কেউ বলতে পারে না। কোয়ারেন্টিন এবং সামাজিক দূরত্ব সম্ভবত মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দেবে। আমি এসবের জায়গায় অন্য কিছু সুপারিশ করব না। বাঁচার জন্য আমাদের যা দরকার তা করতে হবে। পাশাপাশি গোপন মহামারীটির দিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। বিষণ্নতার এই মহামারী থেকে জন্ম নেবে একাকিত্ব ও স্পর্শহীনতা। আমাদের কাছে এমন কোনো বিকল্প নেই, যা কিনা হাতের জায়গা নিতে পারে।

ঘনিষ্ঠতা এবং সাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমরা সবাই ঝুঁকিতে আছি। যে ব্যক্তি এমন হতাশায় আছে সে বলতে পারবে এটা কত বড়। এটা ভীতি জাগানিয়া। এটা আপনার ইচ্ছাশক্তি ও কাজকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এটা খুবই হতাশাজনক ও আশাহীন একটা অবস্থা।

টাইম ম্যাগাজিন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত