খুব বেশি আগের কথা না, যখন স্টেডিয়ামগুলোতে থাকত মানুষের উপচে পড়া ভিড়, উচ্ছ্বাস আর আনন্দ। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে গলা ছেড়ে চিত্কার ও বাঁশির শব্দে মেতে উঠত স্টেডিয়ামগুলো। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে স্টেডিয়ামগুলোর চেহারা পাল্টে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে উৎসবমুখর পরিবেশের বদলে নীরব-নিথর হয়ে পড়ে আছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মাঠগুলো।

মহামারী মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। কভিড-১৯ আক্রান্ত হাজার হাজার রোগীকে স্টেডিয়ামগুলোতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কিছু কিছু স্টেডিয়ামকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্র, গৃহহীনদের আশ্রয় দেয়া, ক্ষুধার্তদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা বা মৃতদেহ রাখার মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা

উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কানাডার সব রাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য ও কলম্বিয়া জেলায় একযোগে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো আমেরিকায় গভর্নররা ফিল্ড হাউজ, স্টেডিয়াম, বিনোদনকেন্দ্র ও পার্কিং লটগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঘোড়দৌড়ের মাঠসহ ১০টি ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) স্টেডিয়াম এবং অন্যান্য সুবিধাসম্পন্ন তিন ডজনের বেশি স্টেডিয়াম, যেগুলো সাধারণত ইউএস ওপেনসহ বাস্কেটবল, হকি, বেসবল ও টেনিসের জন্য ব্যবহূত হয়।

দক্ষিণ আমেরিকা

বিশাল সাদা তাঁবুতে ব্রাজিলের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সাও পাওলোর পাকাইম্বু স্টেডিয়ামের পুরো মাঠ ঢেকে আছে। সেখানে অস্থায়ী হাসপাতাল করে দেশটির সর্বাধিক জনবহুল এ শহরের কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের আসন্ন ধাক্কা মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ আমেরিকার প্রাচীনতম ষাঁড়ের লড়াইয়ের মাঠসহ সব ক্রীড়া স্টেডিয়ামগুলো অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তর শুরু করেছে।

ইউরোপ

কভিড-১৯-এর প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহাদেশ ইউরোপ। এখানকার প্রায় সব অস্থায়ী হাসপাতালই কোনো না কোনো স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে আছে। যেগুলো সাধারণত সারা বছর প্রিমিয়ার লিগ ও বুন্দেসলিগার বিশ্বখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়দের দখলে থাকত। একইভাবে প্রিন্সিপাল স্টেডিয়াম ওয়ালশর মতো বাস্কেটবল কোর্ট ও রাগবি মাঠগুলোও অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া শীতল অঞ্চলের স্টেডিয়ামগুলোকে এক লাখের বেশি মরদেহ রাখার জন্য জরুরি মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আফ্রিকা

আফ্রিকার দেশগুলো এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের পুরো শক্তি অনুভব করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আমান্ডা ম্যাককেল্যান্ড বলেন, আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের কম প্রভাবের বড় একটি কারণ হলো ইবোলা ভাইরাস থেকে শিক্ষা নেয়া। ম্যাককেল্যান্ডের দলটি ১৬ বছর ধরে আফ্রিকার দেশগুলোকে জরুরি চিকিৎসার সুবিধা এবং এ জাতীয় প্রাদুর্ভাবের পরিকল্পনা করতে সহায়তা করে আসছেন। তিনি বলেন, আফ্রিকার অনেক দেশেই ইবোলার চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো এখনো রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যালেডোনিয়ান স্টেডিয়ামের মতো আফ্রিকার বেশকিছু স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া

কঠোর সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা এবং বাড়ি থাকার আদেশ অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আকাশছোঁয়া রোগীর সংখ্যা এড়াতে সহায়তা করছে। এজন্য অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া স্টেডিয়ামগুলোকে পুলিশ কমান্ড সেন্টার এবং অভাবীদের খাবার বিতরণ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারত, ইরান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভাইরাসটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করায় এশিয়াজুড়ে মারাত্মক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উহানে বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর গত জানুয়ারিতে চীন তাদের স্টেডিয়ামগুলোকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তর করেছিল।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক