করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কভিড-১৯ মহামারী পুরো বিশ্বকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। ভাইরাসটি মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে ভাইরাসটি প্রতিরোধে চিকিৎসক-নার্স থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মাস্ক ও গ্লাভসের মতো কয়েকটি উপকরণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবহার শেষে এগুলো রাস্তা, পার্ক বা যত্রতত্র ফেলা রাখা হচ্ছে, যা অন্য মানুষ ও পরিবেশের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টর ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, বহু মানুষ ডিসপোজেবল বা একবার ব্যবহারযোগ্য মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করছে। ব্যবহৃত এসব মাস্ক ও গ্লাভস সঠিকভাবে নষ্ট করা না হলে এগুলো অন্য মানুষের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
এ মাসের শুরুতে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ব্যবহৃত জিনিস যত্রতত্র ফেলে দেয়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেন, এগুলো মাটিতে ফেলে দেবেন না। এ কাজটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রকৃতপক্ষে এটা অন্য আরেকজনকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। দেখুন আমরা এমনিতেই যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা পছন্দ করি না। আর ব্যবহৃত এসব গ্লাভস ও মাস্কে প্রাণঘাতী কোনো ভাইরাস থাকতে পারে, তাই এগুলো যত্রতত্র ফেলবেন না। আমি আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছি না। এটা কেবল সাধারণ জ্ঞান।
অন্য কাউকে বিপদে না ফেলে এগুলো ডিসপোজ করার অনুরোধ জানিয়ে ডি ব্লাসিও বলেন, আপনি জানেন না, আপনি এ রোগের সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন কিনা। আপনি মাস্ক ব্যবহার করছেন, সেটার মধ্যে নিশ্বাস ফেলছেন বা হাতে গ্লাভসের ওপর হাঁচি দিচ্ছেন, এমন কিছু, যা আপনি ঠিক জানেনও না। তাই এগুলো যেখানে-সেখানে ফেলবেন না, যাতে সেগুলো অন্য কারো ক্ষতি করতে না পারে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের একজন পুলিশ ক্যাপ্টেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, স্থানীয় মানুষজন মুদি দোকানগুলোর পার্কিং লটের মতো জায়গাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাস্ক ও গ্লাভস পড়ে থাকার কথা আমাদের জানিয়েছেন। দোকানগুলোর কর্মীদের পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে পার্কিং লটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হচ্ছে। এটি অতিরিক্ত কাজ তৈরি করছে এবং তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
একজন বর্জ্য বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, মাস্ক ও গ্লাভস প্লাস্টিকের তৈরি হলেও তা পুনর্ব্যবহার করা উচিত নয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা লোকদের তাদের পিপিইগুলো ডাস্টবিনে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো আমরা বাচ্চাদের বা আক্রান্ত নন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের সংস্পর্শে আসতে দিতে এবং তাদের আক্রান্ত হতে দিতে চাই না।
এছাড়া প্লাস্টিকের তৈরি এ জিনিসগুলো যখন পরিবেশে ফেলে দেয়া হয়, এগুলো নর্দমার মাধ্যমে জলাশয়ে চলে যাচ্ছে। জলাশয়ে এটা মাইক্রোপ্লাস্টিকে বিভক্ত হয়ে যায় এবং এগুলো কীটনাশক ও অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিককে আকর্ষণ করে। সুতরাং যখন এগুলো সামুদ্রিক প্রাণী খাচ্ছে, তারা কেবল প্লাস্টিক নয়, রাসায়নিকও খাচ্ছে। এটা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।
হেলথ ডটকম





