বিশ্বজুড়ে শিশুদের শারীরিক স্থূলতার হার বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১০-১১ বছর বয়সী পাঁচ ভাগের এক ভাগ শিশু স্থূল। স্থূল শিশুদের প্রাপ্তবয়সেও স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যার ফলে স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি দেখা দেয়। পাশাপাশি গত জুলাইয়ের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, স্থূলতা কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি, আইসিইউর প্রয়োজনীয়তা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেন সরকার অস্বাস্থ্যকর পণ্যে ‘একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি’
নিষিদ্ধ, জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনে বিধিনিষেধ আরোপ এবং রেস্তোরাঁর মেনুতে ক্যালরি লেবেলিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে।
তবে দেশটির ন্যাশনাল অডিট অফিস (এনএও) সতর্ক করেছে, অতীতের কৌশলগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতার মূল্যায়ন না করে নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ কার্যকর করতে সরকারকে লড়াই করতে হবে। জনপ্রিয় খাবারে চিনির মাত্রা হ্রাস করার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হলেও ২০২০ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট পণ্যগুলোতে চিনি ২০ শতাংশ কমানোর যে উচ্চাভিলাষ ছিল, তা সরকার পূরণ করতে পারবে না।
এনএওর প্রধান গ্যারেথ ডেভিস বলেছেন, জুলাই মাসে ঘোষিত নতুন কৌশল স্থূলতা নিরসনের বৃহত্তর উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
দেশটির স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা সব বয়সের স্থূলতা মোকাবেলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই মধ্যে আমরা অর্ধেক পানীয় থেকে চিনি হ্রাস, বিদ্যালয়ে অনুশীলন কর্মসূচির তহবিল এবং শিশুদের স্থূলতা নিরসনে কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করাসহ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যকর উপায় নির্বাচনে সহায়তা করতে আমরা আমাদের নতুন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলের মাধ্যমে সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি।
তবে এনএইচএস কনফেডারেশনের ডা. লাইলা মিক্যাই বলেছেন, এটি দেখা গেছে যে অতীত প্রচেষ্টার ব্যর্থতা থেকে সরকার শিক্ষা নেয়নি। স্থূলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তবে পুনর্গঠন ও বিলম্বের মধ্যে এটি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে করা নতুন গবেষণাটিতে উঠে এসেছে, কভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় স্থূলতা প্রতিকূলতা সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণাটির লেখকরা আসন্ন কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার ওপর স্থূলতার প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গবেষকরা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করে দেখেছেন, স্থূলতা কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তির হার ১১৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে, আইসিইউতে ভর্তির হার ৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ বেশি ছিল। হারপারটেনশন, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের হূদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ ও যকৃতের রোগসহ কভিড-১৯ অনেকগুলো অন্তর্নিহিত ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। স্থূলতাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন করে তোলে। এর আগেও দেখা গেছে, স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন কম কার্যকর। এটা কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষণাটির লেখকরা।
বিবিসি





