বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে ১২ বছর বয়সী শিশুরা এবং তার বেশি বয়সী সবাই যেন মাস্ক পরিধান করে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় যাদের বয়স ৬ থেকে ১১ বছর তারাও যেন মাস্ক পরে।  তবে জার্মান সোসাইটি ফর ভাইরোলজি আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে, তারা বলেছে যেসব শিশু স্কুলে উপস্থিত থাকে তারা সবাই যেন মাস্ক পরে।

মহামারী শুরুর প্রাক্কালে আমরা যা চিন্তা করেছি এটা তার সঙ্গে একটু বেমানানই। এখন পর্যন্ত যেটা ইতিবাচক তা হলো যেসব শিশু কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের মৃদু উপসর্গ ছিল। বেশির ভাগ বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি এবং খুব কমসংখ্যক শিশুই রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তার পরও কিছু কিছু শিশুর মাঝে তীব্র প্রদাহজনিত লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, যা অনেকটা কাওয়াসাকি রোগের মতো।

এখন এসে যেসব প্রমাণ সামনে আসছে তাতে বলা হচ্ছে, ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে শুরুতে শিশুদের যতটা তার চেয়ে বেশি ভূমিকা রয়েছে। সোয়াভে পাওয়া ভাইরাল জেনেটিক উপাদানের পরিমাণ বলছে, তারা হয়তো বয়স্কদের মতোই অধিক সংক্রামক। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বব্যাপী স্কুলগুলোতে বড় ধরনের ক্লাস্টারও সে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু?

শিশুরা কতটা সংবেদনশীল সেটা বের করা কঠিন। অল্প বয়সী শিশুদের মাঝে ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ দূর করতে প্রাক-শিক্ষামূলক স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি মৃদু উপসর্গ থাকা বাচ্চাদের টেস্ট করাও হয় খুব কম।

এসব কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে শিশুদের কেস শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এবং একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে যে বাচ্চারা সাধারণত সংক্রমিত হয় না।

তবে এটি চিহ্নিত হতে পারে অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে, যা কিনা অতীতের সংক্রমণকে নির্ণয় করতে পারে। স্পেনে ৬০ হাজার মানুষের ওপর করা একটি গবেষণা বলছে, ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু ও কিশোরের মাঝে ভাইরাসের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু স্পেনের স্কুলগুলো বন্ধ ছিল, ফলে বাচ্চারা ভাইরাসের সংস্পর্শে খুব কমই আসতে পেরেছে।

আরেকটি উপায় হচ্ছে জানা কেসগুলোর ক্ষেত্রে একই বাসায় অবস্থান করা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কী হয়েছে। এ গবেষণার ফল ছিল মিশ্র। কোনো কোনোটা বলছে, বাচ্চাদের ঝুঁকি কম। আবার কোনোটা বলছে বাচ্চাদেরও সমান সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাচ্চাদের কিছু বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চয় থাকে, কারণ তাদের শরীরে হয়তো কম এনজাইম থাকে, যা কিনা ভাইরাস শরীরে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করে।

স্কুলে আমরা কী দেখছি?

স্কুলে বড় ধরনের ক্লাস্টার হওয়ার উল্লেখ এরই মধ্যে পাওয়া গেছে, বিশেষভাবে ইসরায়েলে। একটি উচ্চবিদ্যালয়ে হওয়া প্রাদুর্ভাব বলছে, অন্তত ১৫৩ শিক্ষার্থীসহ অনেকেই সংক্রমিত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবটি একটি হিটওয়েভের সঙ্গে গিয়ে মিলেছিল, যেখানে মাস্ক পরার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছিল এবং ক্লাসরুম বিরামহীনভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল।

এখন ভাইরাস বিস্তৃতভাবে যখন ছড়াচ্ছে তাতে শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। যদিও সৌভাগ্যবশত বাচ্চাদের তীব্র উপসর্গ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের বিবেচনা করা উচিত বাচ্চারা কাদের সংস্পর্শে আসছে এবং কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে তারা কেমন ভূমিকা রাখছে। তা না করতে পারলে মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।

স্ক্রলডটইন