২৪ আগস্ট রোববার বিকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে তার মতে ‘শক্তিশালী থেরাপি’ জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন (ইইউ) ঘোষণা করলেন। যা পরিচিত হচ্ছে কনভালসেন্ট প্লাজমা নামে কিংবা সংক্ষেপে যাকে বলা হয় সিপি। এটি মূলত কভিড থেকে বেঁচে যাওয়ারা ডোনেট করে। এর পেছনে যে যুক্তিটি কাজ করে তা হলো এতে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি থাকে তা অন্যদের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে। কয়েক সপ্তাহ আগে মায়ো ক্লিনিক প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়, সিপি কভিড চিকিৎসায় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। কিন্তু তার পরও নিউইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুসারে, এফডিএ এ চিকিৎসার অনুমোদন দেয়ার জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানায়।

এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংস্থাটিকে জোর করতে থাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য। পরিস্থিতি আরো ধোঁয়াশা হয়ে ওঠে যখন এফডিএ কমিশনার স্টেফান হান চিকিৎসার কার্যকারিতা ভুলভাবে বর্ণনা করেন। তাহলে আসলে কী ঘটছে?

একটা বিষয় স্পষ্ট যে আমরা ইইউএর সমর্থক নই, যখন থেকে তারা জনগণকে চিকিৎসা কতটা প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন তা নিয়ে একটি অবাস্তব ধারণা প্রদান করে। যেমন এই বিষয়টির ক্ষেত্রেও অনেক বিশেষজ্ঞও বিতর্ক জুড়ে দিয়েছেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে যদি ইইউএ একবার অনুমোদন দিয়ে দেয় তবে এটিকে কেস কন্ট্রোল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিষয় হিসেবে রিক্রুট করা কঠিন হয়ে যায়।

যদিও আমরা ইইউএ কার্যকর করা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করি, এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করি এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে কীভাবে কনভালসেন্ট প্লাজমা কভিড-১৯-এর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে উত্থিত হলো।

এমন না যে কেবল মায়ো ক্লিনিকের গবেষণায়ই এটি প্রতিশ্রুতিশীল বলে মনে হয়েছিল, অন্যান্য গবেষণায়ও এটি দেখা গিয়েছিল। প্রত্যেক ক্ষেত্রে এর ফল ধারাবাহিক এবং আশাব্যঞ্জক ছিল, যদিও তারা স্বীকার করেছে যে এই পরীক্ষা পুরোপুরিভাবে তালিকাভুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে হয়নি।

শেষ কয়েক মাস ধরে ডাক্তার ও একাডেমিকদের একটি দল কনভালসেন্ট প্লাজমার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এ ধারণা নতুন কিছু ছিল না। প্লাজমায় থাকা অ্যান্টিবডি রোগীর জীবন বাঁচায়। গত এক শতকের বেশি সময় ধরে এ পদ্ধতিতে অনেক মানুষের জীবন বেঁচে আসছে। উহানে কভিড-১৯-এর উত্থানের পর আবার এ ধারণা সামনে আসে এবং অনেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করে।

তবে এ-সংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। যেমন কনভালসেন্ট প্লাজমার প্রস্তুতি ও বিতরণ। সে সঙ্গে ব্লাড ব্যাংকিং ও স্টোরেজ নিয়ে জটিলতাও তৈরি হয়। যদিও সেসব মোকাবেলার জন্য উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়। এরপর নানাভাবে কভিড-১৯-এর রোধে সিপির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে থাকে। লিস্টসার্ভের স্বেচ্ছাসেবীরাও তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে, দ্রুত ন্যাশনাল কভিড-১৯ কনভালসেন্ট প্লাজমা প্রজেক্টে সংগঠিতও হয়। এরপর এটির বিকাশ নিয়ে নানা পর্যায়ের কাজও চলতে থাকে।

প্লাজমা সংগ্রহ ও মূল্যায়নের সুবিধার্থে প্রজেক্ট মেম্বাররা একটি নিবেদিত কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলো এফডিএর নির্দেশনা অনুসারে প্লাজমা দান করার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের বলে আসছিলেন। এ সময় আমেরিকান রেড ক্রসের মতো করে একটি ব্লাড ব্যাংক তৈরি করা হয়। ট্রায়ালের জন্য সমাজসেবীরা অর্থায়ন করে।

কিন্তু অপ্রত্যাশিত এফডিএর অনুমোদন সম্ভাব্য কিছু সমস্যা সৃষ্টি করেছে। রোগী ও ডাক্তাদের অপ্রমাণিত ড্রাগ ব্যবহারের মরিয়া অনুরোধ ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের দ্বিধা তৈরি করতে পারে, যেখানে এখনকার এ বিতর্কের রেশ ধরে অনেকে সিপি গ্রহণ নাও করতে পারে। একইভাবে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্বের নীতি মেনে চলার কারণে ট্রায়াল পরিচালনা করাকে কঠিন করে দেয়। এ কার্যকলাপগুলো ট্রায়ালের আরসিটি ডিজাইনের উদ্দেশ্যকে হালকা করার দিকে চালিত করেছিল। এ সমস্যাগুলো সামনের দিনে সমালোচনা উসকে দেবে এবং এফডিএর জরুরি অনুমোদন বিলম্বিত হওয়ার এটিও একটি কারণ ছিল। তবুও বৃহৎ প্রমাণহীন ওষুধ ব্যবহারের ট্রায়ালের কাজ চলমান আছে।

এরপর মায়ো ক্লিনিকের একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, কনভালসেন্ট প্লাজমা ট্রায়াল রেমডেসিভিরের মতো কার্যকর। এর ফলে মৃত্যুর হার কমার সম্ভাবনার কথাও বলেছে তারা। অতীতের কিছু সাফল্য বলছে এটি একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়।

তবে এখনো এটি ব্যবহার করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ দেখছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তার পরও কেবল রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে সিপি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অবশ্য রাজনীতিবিদদের এমন কাণ্ড এবারই প্রথম না।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান অবলম্বনে