২৮ সেপ্টেম্বর
বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ
হাসিনার
৭৪তম
জন্মদিন।
২০১৮
সালে
এদিনে
আমি
বঙ্গবন্ধুকন্যার
সঙ্গে
তাঁর
সফরসঙ্গী
হয়ে
জাতিসংঘের
৭৩তম
সাধারণ
অধিবেশনে
যোগ
দিতে
নিউইয়র্কে
ছিলাম।
সেখানে
অত্যন্ত
ঘরোয়া
ও
অনাড়ম্বর
পরিবেশে
দিনটি
তিনি
নিকটজনদের
নিয়ে
পালন
করেছিলেন।
চেষ্টা
করেছিলাম
একটু
ঘটা
করে
পালন
করা
যায়
কিনা
তা
জানতে।
তিনি
জানিয়ে
দিয়েছিলেন,
তাঁর
জন্মদিন
পরিবারের
সঙ্গে
কাটান,
বাইরে
কখনো
কোনো
অনুষ্ঠান
করেন
না।
সাধারণত
যে
তারিখে
শেখ
হাসিনার
জন্মদিন,
একই
সময়
জাতিসংঘের
সাধারণ
অধিবেশন
বসে
এবং
নিয়মিত
প্রধানমন্ত্রী
শেখ
হাসিনা
তাতে
উপস্থিত
থাকেন।
বাংলাদেশের
তো
বটেই,
বিশ্বের
নির্যাতিত
নিপীড়িত
জনগণের
মানুষের
কথা
বলেন,
ঠিক
১৯৭৪
সালে
প্রথমবারের
মতো
জাতিসংঘে
বাংলাদেশের
প্রতিনিধিত্ব
করতে
গিয়ে
তাঁর
পিতা
জাতির
জনক
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান যেমন
বলেছিলেন।
এই
বছর
তিনি
করোনাজনিত
কারণে
২৬
তারিখ
বাংলাদেশ
সময়
রাত
৮টায়
ভার্চুয়াল
পদ্ধতিতে
জাতিসংঘের
সাধারণ
পরিষদে
ভাষণ
দিয়েছেন।
তখন
নিউইয়র্ক
সময়
রাত
১০টা।
এর
আগে
শেখ
হাসিনা
১৬
বার
সশরীরে
বিশ্বসভায়
উপস্থিত
থেকে
বক্তৃতা
দিয়েছেন।
এবার
তার
ব্যতিক্রম
হলো।
এ বছর
শেখ
হাসিনা
তাঁর
বক্তৃতায়
জোর
দিয়েছেন
কভিড-১৯
মহামারীজনিত
সমস্যার
ওপর।
মহামারীর
মহাসংকটে
পৃথিবীর
সব
মানুষের
ভাগ্য
যে
‘একই সূত্রে
গাঁথা’,
সেই
সত্যটি
বিশ্বনেতাদের
মনে
করিয়ে
দিয়ে
শেখ
হাসিনা
তাদের বলেন,
এই
মহামারী
দমনে
টিকা
উদ্ভাবন
সম্ভব
হলে
তা
যেন
সব
মানুষের
হাতে
পৌঁছে
তার
দায়িত্ব
এই
বিশ্বনেতাদের
নিতে
হবে।
তিনি
মিয়ানমার
সেনাবাহিনীর
নির্যাতনে
সে
দেশের
১০
লাখ
রোহিঙ্গা
নাগরিকের
বাংলাদেশে
উদ্বাস্তু
জীবনযাপন
ও
তাদের
সমস্যা
সমাধানে
বিশ্বসম্প্রদায়ের
ভূমিকার
গুরুত্বের
কথা
মনে
করিয়ে
দেন।
আজকের
এই
দিনে
বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ
হাসিনা,
যিনি
পিতার
আদরের
‘হাচু’, তাঁকে
জন্মদিনের
শুভেচ্ছা
ও
উষ্ণ
অভিনন্দন।
বঙ্গবন্ধুর
জ্যেষ্ঠ
সন্তান
শেখ
হাসিনার
রাজনীতিতে
আসার
কথা
ছিল
না।
আজকাল
যেমন
মানুষ
কথায়
কথায়
রাজনীতিতে
চলে
আসে,
বঙ্গবন্ধুর
সময়
রাজনীতির
সংস্কৃতিটা
তেমন
ছিল
না।
তখন
যারা
রাজনীতিতে
আসতেন,
তাদের
সুস্থ
রাজনীতির
প্রতি
কমিটমেন্ট
ছিল।
টাকা
থাকলেই
রাজনীতিবিদ
হওয়া
যেত
না।
বঙ্গবন্ধু
বা
মওলানা
ভাসানীর
সঙ্গে
যারা
রাজনীতি
করেছেন,
তাদের
মধ্যে
কেউ
তেমন
একটা
অর্থবিত্তের
মালিক
ছিলেন
না।
বঙ্গবন্ধু
তো
ঢাকায়
এসে
ভাড়া
বাড়িতে
থাকতেন।
তাঁর
রাজনৈতিক
সহকর্মী
তাজউদ্দীন
আহমেদ
ধানমন্ডিতে
একটি
প্লট
কেনার
জন্য
বললে
বঙ্গবন্ধু
তেমন
একটা
আগ্রহ
দেখাননি।
তিনি
বলেছিলেন,
সেখানে
তো
সন্ধ্যা
নামার
আগেই
বাঘ
ডাকে।
শেখ
হাসিনা
মায়ের
সঙ্গে
টুঙ্গিপাড়ায়
থাকতেন।
১৯৫৪
সালে
যুক্তফ্রন্টের
মন্ত্রিসভায়
মন্ত্রী
হওয়ার
পর
তিনি
প্রথমবারের
মতো
পরিবারের
সদস্যদের
ঢাকায়
আনেন।
শেখ
হাসিনা
আজিমপুর
গালর্স
স্কুলে
ভর্তি
হন।
শেখ
হাসিনার
জীবনটা
অনেকটা
ব্যতিক্রমধর্মী।
জন্ম
থেকেই
বাবাকে
দেখেছেন
একজন
রাজনৈতিক
কর্মী।
নিয়মিত
জেলে
যাচ্ছেন
আর
আসছেন।
সংসার
সামাল
দিচ্ছেন
একেবারেই
আটপৌঢ়ে
আবহমান
একজন
মা,
যিনি
কখনো
সন্তানদের
বুঝতে
দেননি
বাড়ির
কর্তার
অবর্তমানে
সংসার
চালানো
কত
কঠিন।
পিতা
হিসেবে
একমাত্র
শেখ
হাসিনা
ও
কিছুটা
শেখ
রেহানার
কাছে
বঙ্গবন্ধু
পরিচিত
ছিলেন।
শেখ
কামাল
একবার
বড়
বোনের
কাছে
আবদার
করেছিলেন,
‘তোমার বাবাকে
আমি
একটু
বাবা
ডাকি?’
ড.
ওয়াজেদ
মিয়ার
সঙ্গে
শেখ
হাসিনার
বিয়ের
অনুষ্ঠানটা
অত্যন্ত
অনাড়ম্বর
ও
সাধামাটা
ছিল।
কারণ
বঙ্গবন্ধু
তখন
কারাগারে।
বেগম
মুজিবকে
এক
নিকটাত্মীয়ের
কাছে
টাকা
ধার
করতে
হয়েছিল
এই
বিয়ের
জন্য।
শেখ
হাসিনার
বৌভাতের
অনুষ্ঠান
হয়েছিল
চট্টগ্রামের
রাইফেল
ক্লাবে।
আয়োজন
করেছিলেন
চট্টগ্রামের
আওয়ামী
লীগ
নেতারা।
বিয়ের
পর
শেখ
হাসিনা
ঘরসংসার
নিয়ে
একজন
বাঙালি
বধূ
আর
বঙ্গবন্ধুকন্যা
ছাড়া
তাঁর
আর
কোনো
পরিচয়
ছিল
না।
কলেজ
জীবনে
তিনি
ইডেন
গার্লস
কলেজ
ছাত্র
সংসদের
নির্বাচিত
ভিপি
ছিলেন।
বিভিন্ন
রাজনৈতিক
আন্দোলনে
অন্য
আর
দশজন
শিক্ষার্থীর
মতো
অংশ
নিয়েছেন
কিন্তু
ছাত্রলীগের
কোনো
পদ-পদবি
পাওয়ার
চেষ্টা
করেননি।
১৯৭৫
সালের
১৫
আগস্ট
যখন
ঘাতকরা
বঙ্গবন্ধুকে
সপরিবারে
তাঁর
নিজ
বাসভবনে
হত্যা
করে,
শেখ
হাসিনা
তখন
স্বামীর
সঙ্গে
বেলজিয়ামে
বাংলাদেশের
রাষ্ট্রদূত
সানাউল
হকের
বাড়িতে।
এই
নৃশংস
হত্যাকাণ্ডের
মাত্র
১৫
দিন
আগে
শেখ
হাসিনা
দেশ
ছেড়েছিলেন
স্বামীর
সঙ্গে
যোগ
দিতে।
সঙ্গে
ছোট
বোন
শেখ
রেহানা।
খবর
শুনে
সানাউল
হক
তাঁদের
সবাইকে
অনেকটা
জোর
করে
বাড়ি
থেকে
বের
করে
দিয়েছিলেন।
সেই
থেকে
১৯৮১
সালের
১৭
মে
পর্যন্ত
তিনি
দেশের
বাইরে
শরণার্থী
জীবন
যাপন
করেছেন।
মাতৃস্নেহ
দিয়ে
ভারতের
প্রধানমন্ত্রী
তাঁকে
আগলে
রেখেছিলেন
দিল্লিতে।
তাঁর
স্বামীকে
একটি
চাকরি
জোগাড়
করে
দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর
অবর্তমানে
তখন
আওয়ামী
লীগ
অনেকটা
ছত্রভঙ্গ।
দলের
ভেতর
কোন্দল
তখন
চরমে।
অনেকে
জিয়ার
সঙ্গে
হাত
মিলিয়েছেন।
এমন
কঠিন
সময়ে
দলের
হাল
ধরেছিলেন
শহীদ
তাজউদ্দীনের
স্ত্রী
জোহরা
তাজউদ্দীন।
যারা
আওয়ামী
লীগ
আর
বঙ্গবন্ধুকে
ভালোবাসে,
তাদের
শঙ্কা
যে
দলটির
নেতৃত্বে
দেশটি
স্বাধীন
হলো,
সে
দলটির
পরিণতি
কি
মুসলিম
লীগের
মতো
হবে?
যারা
তখনো
মাটি
কামড়ে
পরে
আছে
আওয়ামী
লীগ
আবার
সমহিমায়
ফিরবে
বলে,
তাদের
বিশ্বাস
একমাত্র
বঙ্গবন্ধুর
রক্তের
উত্তরাধিকার
শেখ
হাসিনাই
বাঁচাতে
পারে
তাঁর
পিতার
হাতে
গড়া
আওয়ামী
লীগকে।
১৯৮১
সালের
ফেব্রুয়ারিতে
অনুষ্ঠিত
দলের
কাউন্সিলে
শেখ
হাসিনার
অবর্তমানে
তাঁকে
সভাপতি
করা
হলো।
তবে
সবাই
এই
নিয়োগ
যে
খোলামনে
নিয়েছিল,
তা
মনে
করলে
ভুল
হবে।
অনেকে
ধারণা
করেছিল,
শেখ
হাসিনা
হবেন
দলের
সাক্ষীগোপাল
সভাপতি
আর
দল
চালাবে
তারা।
তারা
ভুলে
গিয়েছিল
শেখ
হাসিনার
ধমনীতে
শেখ
মুজিবের
রক্ত,
যিনি
পাকিস্তানের
২৩
বছর
শাসনামলে
প্রায়
১৩
বছর
কারাগারে
কাটিয়েছেন,
মৃত্যুর
মুখোমুখি
হয়েছেন
অন্তত
দুবার।
তাঁর
কন্যার
তো
সাক্ষীগোপাল
কলাগাছ
হওয়ার
জন্য
জন্ম
হয়নি।
যিনি
একরাতে
সব
হারানোর
বেদনাকে
জয়
করতে
পারেন,
তাঁর
তো
হারানোর
আর
কিছু
থাকতে
পারে
না।
দেশে ফেরার পরের অভিজ্ঞতা তেমন সুখের ছিল না। একদিকে জিয়া তাঁর পথ আগলে রেখেছেন। ধানমন্ডির যে বাড়িতে শেখ হাসিনার মা-বাবাসহ পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, জিয়া তাঁকে সে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না। রাস্তার ওপর বসেই শেখ হাসিনা দলের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে দোয়া পড়লেন। এরপর দল গোছানোর মতো কঠিন কাজ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বদলে গেছে অনেক কিছু। জেনারেল জিয়ার বদান্যতায় দেশে চলছে স্বাধীনতাবিরোধীদের উল্লাস নৃত্য। চারদিকে রাজাকার, আলবদরদের রমরমা অবস্থা। দলের ভেতর কে যে শত্রু আর কে যে প্রকৃত মিত্র, তা বোঝা সহজ নয়। এবসময় বঙ্গবন্ধু যাদের নিজের মানুষ মনে করেছিলেন, তারাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বুকে প্রথম গুলি চালিয়েছে। রাজনীতি থেকে অনেক দূরের একজন শেখ হাসিনার এসব বুঝতে বেশ সময় লেগেছে। পিতার মতো ধৈর্য আর তাঁর প্রখর পর্যবেক্ষণ শক্তি সহায়ক ছিল। সঙ্গে ছিল কিছু আস্থাভাজন কর্মী। আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকেই তাঁর সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিল তৃণমূলের বিশাল কর্মী বাহিনী, যারা শত প্রতিকূল অবস্থায়ও দলকে ছেড়ে যায়নি। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এরশাদের পতনের পর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় অনেকটা অতিমাত্রায় আত্মসন্তুষ্টি আর ‘জিতেই তো যাচ্ছি’ চিন্তা নিয়ে গা-ছাড়া ভাব, সঙ্গে ছিল এক ভয়াবহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এরপর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে চার মেয়াদের শেখ হসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, যা উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। যে শেখ হাসিনা একজন গৃহবধূ হিসেবে সংসার পেতেছিলেন, তিনি এখন বিশ্বদরবারে শুধু একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত নন, তিনি এখন একুশ শতকের একজন মডেল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে যেকোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে তিনি যখন কথা বলেন, বিশ্বের অন্য নেতারা তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, সবাই স্বীকার করেন শেখ হাসিনার কাছে শেখার আছে অনেক কিছু।
শেখ হাসিনার
সরকারের
প্রথম
মেয়াদ
(১৯৯৬-২০০১)
ছিল
সবচেয়ে
কঠিন।
কারণ
বস্তুতপক্ষে
পুরো
আমলাতন্ত্রই
ছিল
পঁচাত্তর-পরবর্তী
সময়কালের
রিক্রুট।
এমনিতে
একটি
সরকার
কার্যকরভাবে
চালাতে
হলে
চাই
সরকার
সহায়ক
একটি
আমলাতন্ত্র।
বঙ্গবন্ধুকে
হত্যা
করার
পরিকল্পনা
তৈরিতে
সবচেয়ে
বড়
ভূমিকা
রেখেছে
সামরিক-বেসামরিক
আমলাতন্ত্র।
নাটের
অন্যতম
গুরু
মাহবুব
উল
চাষী
একজন
বড়
মাপের
আমলা
ছিলেন।
১৯৭৪
সালে
যখন
দেশে
খাদ্যাভাব
দেখা
দেয়
তখন
খাদ্য
সচিব
ছিলেন
আবদুল
মোমেন
খান
(বিএনপি নেতা
আবদুল
মঈন
খানের
পিতা)।
বঙ্গবন্ধুর
মৃত্যুর
পর
জিয়া
এই
মোমেন
খানকে
তাঁর
একজন
বিশ্বস্ত
উপদেষ্টা
হিসেবে
নিয়োগ
দেন।
২০০৯-১৪
থেকে
বর্তমান
সময়
পর্যন্ত
বাংলাদেশে
শেখ
হাসিনার
শাসন
এই
দেশটির
জন্য
শুধু
একটি
আশীর্বাদই
নয়,
একটি
টার্নিং
পয়েন্টও।
এই
তিন
মেয়াদে
তিনি
বঙ্গবন্ধুর
খুনিদের
বিচার
শেষ
করেছিলেন,
যা
বন্ধ
করার
জন্য
খালেদা
জিয়া
ও
তাঁর
সভাপরিষদ
অনেক
চেষ্টা
করেছে।
সবচেয়ে
দুরূহ
কাজ
মনে
করা
হতো
একাত্তরের
যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার
করা,
তাও
তিনি
করে
দেখিয়েছেন।
একটি
অর্থনৈতিকভাবে
অনুন্নত
ও
ক্ষয়িষ্ণু
বাংলাদেশকে
উন্নয়নের
সড়কে
তুলে
দিয়েছেন।
রিলিফ
শব্দটি
বর্তমান
প্রজন্মের
কাছে
অপরিচিত
করে
দিয়েছেন।
ঐতিহাসিকভাবে
একটি
খাদ্য
ঘাটতির
দেশকে
খাদ্য
উদ্বৃত্তের
দেশে
রূপান্তর
করে
দিয়েছেন।
একসময়
বিদ্যুতের
অভাবে
লোডশেডিং
সাধারণ
মানুষের
নিত্যদিনের
সঙ্গী
ছিল,
তা
এখন
মানুষ
ভুলতে
বসেছে।
যে
দেশের
মানুষ
তিন
দশক
আগেও
গরুর
গাড়িতে
বসতে
অভ্যস্ত
ছিল,
সেই
দেশ
এখন
মহাশূন্যে
নিজস্ব
উপগ্রহ
পাঠায়,
নিজের
অর্থায়নে
পদ্মা
সেতু
বানায়।
একটি
স্বল্পোন্নত
দেশ
থেকে
বাংলাদেশ
এখন
মধ্যম
আয়ের
দ্বারপ্রান্তে।
এতসব
অর্জনের
কৃতিত্ব
শেখ
হাসিনাকে
না
দিলে
তা
হবে
মহা
অন্যায়।
বঙ্গবন্ধুকন্যা
আক্ষরিক
অর্থেই
এখন
বাংলাদেশের
ব্র্যান্ড
অ্যাম্বাসেডর।
তবে
তাঁর
আমলের
সব
অর্জন
নস্যাৎ
করার
শপথ
নিয়ে
মাঠে
নেমেছে
একশ্রেণীর
হাইব্রিড
দলীয়
নেতাকর্মী,
যাদের
অর্থবিত্তের
লোভ
আর
কালো
টাকার
প্রতি
আত্মসমর্পণ
লাগামহীন
হয়ে
পড়েছে।
আর
তাদের
সর্বাত্মক
সহায়তা
করেছে
বঙ্গবন্ধুকন্যার
আস্থাভাজন
কিছু
আমলা
আর
কাছের
মানুষ,
যা
আজ
ওপেন
সিক্রেট।
জনমানুষের
নেতা
বঙ্গবন্ধুকে
জনগণ
থেকে
বিচ্ছিন্ন
করে
দিয়েছিল
তাঁরই
চারপাশে
থাকা
কিছু
মানুষ
আর
চাটুকার।
সার্বিক
অবস্থা
বিচার
করলে
মনে
হবে
বর্তমানে
শেখ
হাসিনাও
একই
পরিস্থিতির
শিকার
হচ্ছেন।
শেখ
হাসিনা
অসম্ভব
শ্রদ্ধা
করেন
এমন
একজন
শ্রদ্ধাভাজন
মানুষ
(বর্তমানে প্রয়াত)
একদিন
আমাকে
বলছিলেন,
তিনি
প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে
কথা
বলতে
গিয়ে
ব্যর্থ
হয়েছেন।
কারণ
তিনি
যাকে
ফোন
করে
প্রধানমন্ত্রীর
একটি
অ্যাপয়েন্টমেন্ট
চাইবেন,
তিনি
তাঁর
ফোন
রিসিভ
করেন
না।
এমন
অভিযোগ
আরো
কয়েকজনের
কাছে
শুনেছি।
অনেক
গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্তের
ফাইল
প্রধানমন্ত্রীর
কাছে
যাওয়ার
আগে
এক
অদৃশ্য
শক্তির
বলে
পাল্টে
যায়।
ভুল
উপস্থাপনার
কারণে
কখনো
কখনো
ভুল
সিদ্ধান্তও
হয়।
এতে
ক্ষতি
হয়
সরকারের।
শেখ হাসিনা
দেশে
ফেরার
পর
দেশকে
অনেক
দিয়েছেন।
তিনি
যখন
বলেন,
তিনি
দিনে
৫
ঘণ্টা
ঘুমাতে
পারেন
তখন
বোঝা
যায়
একজন
শেখ
হাসিনার
কাঁধের
ওপর
পুরো
বাংলাদেশটাই
যেন
ভর
করেছে।
তাঁর
সঙ্গে
তিনবার
বিদেশ
যাওয়ার
সুবাদে
বুঝতে
পারি,
তাঁর
সঙ্গে
যারা
কাজ
করেন
কেন
তাঁরা
বলেন,
শেখ
হাসিনার
সঙ্গে
কাজ
করলে
দৌড়ের
ওপর
থাকতে
হয়।
মনে
রাখেন
তিনি
সবকিছু।
অবলীলাক্রমে
বলতে
পারেন,
ক্ষমা
করে
দিয়েছি
কিন্তু
ভুলতে
পারব
না।
শেখ
হাসিনা
আজ ৭৩
শেষ
করে
৭৪
বছরে
পা
দিলেন।
মাঝে
মাঝে
বলেন,
তিনি
অবসরে
যাবেন।
আমি
লিখেছিলাম,
বিকল্প
তো
তৈরি
হয়নি,
কীভাবে
অবসরে
যাবেন?
বন্ধু
মুনতাসীর
মামুন
লিখেছেন,
শেখ
হাসিনার
বিকল্প
শেখ
হাসিনা।
এসব
কথা
আবেগের।
শেখ
হাসিনাকে
নিঃশর্তভাবে
সমর্থন
ও
ভালোবাসি
বলে।
কিন্তু
আবেগ
দিয়ে
তো
বেশি
দূর
যাওয়া
যাবে
না।
বিশ্বাস
করতে
চাই
শেখ
হাসিনা
তাঁর
পিতার
পর
বাঙালির
উজ্জ্বলতম
বাতিঘর।
কিন্তু
মানতে
চাই
না
তিনি
শেষ
বাতিঘর।
আবেগবর্জিতভাবে
চিন্তা
করতে
হবে
পরবর্তী
বাতিঘর
কে
হবেন।
পিতার
অসাধ্য
কাজ
কন্যার
হাত
ধরে
অনেক
দূর
এগিয়ে
গেছে,
তার
পরও
অনেক
পথ
পাড়ি
দিতে
হবে।
কে
হবেন
সে
পথের
দিশারি?
আবারো
বলি,
শেখ
হাসিনার
বিকল্প
তো
এখনো
দেখছি
না।
শেখ
হাসিনা,
আপনি
৫৬
হাজার
বর্গমাইলের
বাঙালিকে
অন্ধকার
থেকে
আলোতে
নিয়ে
যেতে
অনেকটা
অলৌকিকভাবে
আবির্ভূত
হয়েছিলেন।
ঘাতকের
বুলেটের
শিকার
হয়ে
বঙ্গবন্ধু
শতায়ু
হতে
পারেননি।
তাঁর
কন্যা
শতায়ু
হোন,
আজকের
দিনে
এই
প্রার্থনা
করি।
করোনাকালে
ভাগ্য
ভালো
থাকলে
শেখ
হাসিনার
সঙ্গে
হয়তো
কখনো
আবার
দেখা
হবে
অন্য
কোনো
প্রেক্ষাপটে।
আলাপ
হবে
তাঁর
সঙ্গে
কোনো
এক
অর্জনের
ইতিহাস
নিয়ে।
ততদিন
তিনি
ভালো
থাকুন,
সুস্থ
থাকুন,
এই
কামনা
করি।
আবদুল মান্নান: সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন





