স্বাধীনতা-পরবর্তী
বাংলাদেশে অবকাঠামোগত
উন্নয়নের পাশাপাশি
অন্যতম বড়
প্রতিবন্ধকতাই ছিল
খাদ্য ঘাটতি
কমিয়ে এনে
গ্রামীণ অর্থনীতিকে
চাঙ্গা করা।
সেই লক্ষ্যে
বাংলাদেশের প্রথম
অর্থবছরেই বড়
ধরনের বরাদ্দ
রাখা হয়।
১৯৭২-৭৩
সালে ৫০০
কোটি টাকা
উন্নয়নের জন্য
বরাদ্দ রাখা
হয়েছিল। এর
মধ্যে ১০১
কোটি টাকা
শুধু কৃষি
উন্নয়নের জন্য
রাখা হয়েছিল।
সার্বিকভাবে খাদ্য
সরবরাহ বৃদ্ধির
জন্য উৎপাদন
ও আমদানি
বাড়াতে স্বাধীনতার
পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে
রাখা হয়
ভর্তুকি। খাদ্য
সহায়তা ও
আমদানি কমিয়ে
আনার পরিকল্পনা
বাস্তবায়নে নেয়া
হয়েছিল নানা
ধরনের কার্যক্রম
ও পরিকল্পনা।
ফলে প্রথম
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়
কৃষি খাতে
বার্ষিক গড়
প্রবৃদ্ধি উন্নীত
হয় শতকরা
প্রায় ৫
ভাগে। ১৯৭৫-৭৬
সালে খাদ্য
উৎপাদন ৮৭
লাখ টন
থেকে বৃদ্ধি
পেয়ে ১
কোটি ১৩
লাখ টনে
উন্নীত হয়।
আজকের
কৃষি উন্নয়নের
যে নানা
সূচকের উন্নতি
হচ্ছে তার
ভিত্তি মূলত
৭০-এর
দশকেই রচিত।
সব মিলিয়ে
কৃষিতে আজ
আট কোটি
টন শস্য
উৎপাদন হচ্ছে।
এর মধ্যে
দানাদার খাদ্যশস্য
প্রায় চার
কোটি টন।
স্বাধীনতার পরে
এর পরিমাণ
ছিল এক
কোটি টনের
নিচে। কৃষি
উন্নয়নের শুরুটা
হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর
পরিকল্পনা ও
নির্দেশেই। সোনার
বাংলার অন্যতম
ভিত্তি ছিল
কৃষি। দেশে
সবুজ বিপ্লবের
মাধ্যমে কৃষি
বিপ্লবের ডাক
দেয়ার মাধ্যমে
কৃষিতে গ্রামীণ
উন্নয়ন আর
আধুনিক কৃষি
প্রযুক্তির ব্যবহার।
মওকুফ করেন
২৫ বিঘা
পর্যন্ত খাজনার
দায়। প্রত্যাহার
করেন লাখ
লাখ কৃষিঋণের
সার্টিফিকেট মামলা।
ভূমিহীন কৃষকের
নামে বিতরণ
করা হয়
খাসজমি, দেশে
প্রথম প্রবর্তন
করা হয়
কৃষিঋণ ব্যবস্থার
এবং প্রতিষ্ঠা
করা হয়
কৃষি ব্যাংক
ও গঠন
করা হয়
কৃষিতে জাতীয়
পুরস্কার তহবিল।
মানসম্মত বীজ,
সারের কারখানা
প্রতিষ্ঠা, সেচ
ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুকরণ,
বালাইনাশক কারখানা
তৈরি, জমির
ক্ষয় রোধ,
বন্যা থেকে
রোধে বাঁধ
নির্মাণ, কৃষির
আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ,
সমন্বিত কৃষি
বাস্তবায়ন, জমির
প্রকৃৃতি বুঝে
ফসল ফলানো,
সময়মতো ফসল
উৎপাদন, জরিপ
করেই কেবল
পরিকল্পনা গ্রহণ,
রবি মৌসুমে
বেশি করে
ফসল ফলানোর
তাগিদ, শহর
ছেড়ে গ্রামমুখী
হওয়া, কৃষকদের
প্রশিক্ষণ দিয়ে
দক্ষ করে
গড়ে তোলাসহ
কৃষি উন্নয়ন
আর সমৃদ্ধির
অগণিত কার্যক্রম।
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা অর্জনের
পর জাতির
জনক বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমান ১৯৭৩
সালে কৃষি
উন্নয়নে অনুপ্রেরণা
জোগাতে কৃষিতে
পুরস্কার প্রবর্তন
করেন। বঙ্গবন্ধু
কৃষি উন্নয়নের
যে জয়যাত্রা
শুরু করেছিলেন,
বর্তমান সরকার
তা অনুসরণ
করে সে
অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত
রেখে আরো
বেগবান করা
হয়েছে। কৃষি
ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য
ও অনুকরণীয়
অবদানের জন্য
রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ
সম্মাননা দেয়া
হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু
জাতীয় কৃষি
পুরস্কার’।
এ পুরস্কার
দেশের কৃষি
উন্নয়নে বিশেষ
অবদান রাখছে।
১৯৭৩ সালের
১৩ ফেব্রুয়ারি
বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোষিত
হয় কৃষিবিদদের
আর্থসামাজিক মর্যাদার
স্বীকৃতি প্রথম
শ্রেণীর পদমর্যাদা।
গৌরবময় এ
দিনটি কৃষিবিদরা
‘কৃষিবিদ
দিবস’ হিসেবে
পালন করে
থাকেন। দেশের
মানুষের ভাতের
চাহিদা মেটাতে
সবচেয়ে বড়
অবদান বাংলাদেশ
ধান গবেষণা
ইনস্টিটিউটের (ব্রি)।
গত ৫০
বছরে প্রতিষ্ঠানটি
প্রায় ১০০
ধানের জাত
উদ্ভাবন করেছে।
এছাড়া দেশের
প্রায় ৯০
শতাংশের বেশি
জমিতে ব্রি
উদ্ভাবিত জাতের
ধান আবাদ
করা হয়।
ধান ব্যতিরেকে
বহুমুখী ফসল
গবেষণার সুযোগ
সম্প্রসারণের উদ্যোগ
নেয়া হয়
বাংলাদেশ কৃষি
গবেষণা ইনস্টিটিউটের
(বারি) মাধ্যমে।
স্বাধীনতার পর
১৯৭৩ সালে
জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান
দেশের কৃষি
ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন
ও যুগোপযোগী
করার লক্ষ্যে
বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করেছিলেন। এরই
ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬
সালে বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
ইনস্টিটিউট স্বায়ত্তশাসিত
প্রতিষ্ঠান হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করে।
এরপর দেশকে
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ
করার চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায় এ
প্রতিষ্ঠানটি সর্বতোভাবে
নিয়োজিত রয়েছে।
বারি এখন
দেশের বৃহত্তম
বহুবিধ ফসল
গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
দানাশস্য, কন্দাল,
ডাল, তৈলবীজ,
সবজি, ফল,
মসলা, ফুল
ইত্যাদির উচ্চফলনশীল
জাত উদ্ভাবন
বিষয়ে গবেষণা
করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি মৃত্তিকা
এবং শস্য
ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই
এবং পোকামাকড়
ব্যবস্থাপনা, পানি
এবং সেচ
ব্যবস্থাপনা, কৃষি
যন্ত্রপাতির উন্নয়ন,
খামার পদ্ধতির
উন্নয়ন, শস্য
সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি
উদ্ভাবন এবং
আর্থসামাজিক সংশ্লিষ্ট
উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত,
বিপণন ও
পরিমাণ নির্ধারণ
বিষয়ে গবেষণা
করে থাকে।
পুনর্গঠন
করা হয়
হর্টিকালচার বোর্ড,
তুলা উন্নয়ন
বোর্ড, সিড
সার্টিফিকেশন এজেন্সি,
রাবার উন্নয়ন
কার্যক্রম, বাংলাদেশ
কৃষি উন্নয়ন
করপোরেশন (বিএডিসি),
মত্স্য ও
প্রাণিসম্পদ গবেষণা
প্রতিষ্ঠানসহ গবেষণা
সমন্বয়ের সর্বোচ্চ
প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
কাউন্সিল (বিএআরসি)।
সোনালি আঁশের
সম্ভাবনার দ্বার
উন্মুক্ত করতে
প্রতিষ্ঠা করা
হয় পাট
মন্ত্রণালয়। তবে
৭০-এর
দশকে দেশের
কৃষি ও
গ্রামীণ খাতের
উন্নয়নে আন্তর্জাতিক
সংস্থাগুলোর অবদান
রয়েছে। ১৯৭৪
সালে বিশ্বব্যাংকের
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন
সংস্থা (আইডিএ)
৫ কোটি
ডলারের অর্থায়ন
করে। এ
অর্থায়নের মাধ্যমে
খাদ্য আমদানি
যাতে কমানো
যায়, সেজন্য
দেশেই খাদ্য
উৎপাদন বাড়াতে
সহায়ক কর্মসূচি
নেয়া হয়।
বিশ্বব্যাংক ১৯৭৬
সালে ১
কোটি ৬০
লাখ ডলারের
গ্রামীণ উন্নয়ন
প্রকল্প বাস্তবায়নে
বড় ধরনের
অর্থায়ন করে।
এ প্রকল্পের
মাধ্যমে বগুড়া
ও ময়মনসিংহের
কৃষি ও
গ্রামীণ উন্নয়নে
কার্যক্রম পরিচালনা
করা হয়।
এছাড়া ১৯৭৯
সালে মত্স্য
খাতের উন্নয়নে
বড় ধরনের
অর্থায়ন করে
বিশ্বব্যাংকের আইডিএ।
১৯৮২ সালে
দেশের কৃষি
গবেষণা ও
সম্প্রসারণ খাতের
উন্নয়নে অর্থায়নের
মাধ্যমে অবকাঠামোগত
উন্নয়ন করা
হয়। পাশাপাশি
দেশের সার্বিক
কৃষি খাতের
উন্নয়নে অন্যান্য
উন্নয়ন সহযোগী
বিভিন্ন সংস্থার
বিশেষ অবদান
রয়েছে। এ
সংস্থাগুলোর অবদানের
কারণে দেশের
কৃষি খাতের
উন্নয়নের জন্য
অবকাঠামো খাত
দ্রুত উন্নয়ন
করা সহায়ক
হয়েছে।
দেশের
কৃষি উপকরণ
ও সেচের
জন্য নির্ভরযোগ্য
প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ
কৃষি উন্নয়ন
করপোরেশন (বিএডিসি)।
বিএডিসি মূলত
তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তান
কৃষি উন্নয়ন
করপোরেশন নামে
কৃষি উন্নয়ন
করপোরেশন অধ্যাদেশ,
১৯৬১ (ই.পি.
অধ্যাদেশ XXXVII,১৯৬১)-এর
মাধ্যমে ১৬
অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত।
১৯৭৫ সালে
বিএডিসিকে বাংলাদেশ
কৃষি উপকরণ
সরবরাহ এবং
সেবা করপোরেশন
(বিএআইএসএসসি) হিসেবে
পুনঃনামকরণ করা
হয়। কিন্তু
১৯৭৬ সালে
বিএআইএসএসসির নাম
পুনঃপরিবর্তন করে
বিএডিসি নাম
পুনর্বহাল করা
হয়। প্রতিষ্ঠানটির
মৌলিক কাজগুলোর
মধ্যে সারা
দেশে কৃষি
উপকরণ উৎপাদন,
সংগ্রহ (ক্রয়),
পরিবহন, সংরক্ষণ
এবং বিতরণ
ব্যবস্থাপনা টেকসই
করা। অত্যাবশ্যকীয়
কৃষি উপকরণ
বিশেষ করে
বীজ, সার
সরবরাহ এবং
ভূউপরিস্থ ও
ভূগর্ভস্থ পানি
ব্যবহারের মাধ্যমে
কৃষকের জন্য
সেচের সুযোগ
সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখছে।
তবে দেশের কৃষিতে বড় অবদান রেখেছেন সম্প্রসারণ কর্মীরা। বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণের পেছনে শতাধিক বর্ষের ঘটনাবহুল ইতিবৃত্ত রয়েছে। ১৮৬২-৬৫ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার জন্য দুুর্ভিক্ষ কমিশন প্রথম কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। যার ফলে ১৮৭০ সালে রাজস্ব বিভাগের অংশ হিসেবে কৃষি বিভাগের জন্ম হয়। পরে ১৯০৬ সালে স্বতন্ত্র কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। একই সময়ে ঢাকার মনিপুর (বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায়) কৃষি খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি এক হাজার একর জমি নিয়ে বিস্তৃত। খামারটি কৃষি বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। ১৯০৯ সালে ওই খামারের কৃষি গবেষণার জন্য একটা ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। ১৯১৪ সালে তত্কালীন প্রতিটি জেলায় একজন করে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে কোনো কৃষিবিজ্ঞানে জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তা ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৩ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ কৃষি কলেজ থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা কৃষি বিভাগে যোগদান করেন এবং তখন থেকেই বাস্তবিকপক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়। ১৯৫০ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন (পিএআইডি) প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সম্প্রসারণ শিক্ষা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৬ সালে উদ্ভিদ সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১৯৬১ সালে বিএডিসি, ১৯৬২ সালে এআইএস, ১৯৭০ সালে ডিএইএম এবং ডিএআরই সৃৃষ্টি হলেও কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তেমন কোনো পরিকল্পিত সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডকে জোরদার করার লক্ষ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, তামাক উন্নয়ন বোর্ড, হর্টিকালচার বোর্ড এবং ১৯৭৫ সালে কৃষি পরিদপ্তর (পাট উৎপাদন), কৃষি পরিদপ্তর (সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনা ) নামে ফসলভিত্তিক স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টি করা হয়। তবে কার্যক্রমকে জোরদার করতে ১৯৮২ সালে ফসল প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়োজিত এ ছয়টি সংস্থাকে একত্রিত করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সৃষ্টি করা হয়। ফসলের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষিজ পণ্যের সহজলভ্যতা ও সরবরাহ বৃদ্ধি, কৃষি ভূ-সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, কর্মব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্বের উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।
খাদ্য
বলতে শুধু
ধান, চাল,
আটা, ময়দা
আর ভুট্টাকে
বোঝায় না।
বরং মাছ,
মাংস, ডিম,
দুধ, শাকসবজি
এসবকে বোঝায়।
সুতরাং সার্বিক
কৃষির উন্নতি
করতে হলে
শস্য খাতের
বাইরে এসব
খাদ্যশস্যের উৎপাদন
উন্নতি করতে
হবে। কৃষক
সমাজের সমৃদ্ধি
অর্জন, দারিদ্র্য
দূরীকরণ, গ্রামীণ
সম্প্রদায়ের টেকসই
স্বনির্ভরতা নিশ্চিত
করা এবং
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায় কৃষি
গবেষণার ক্ষেত্রে
সুযোগ সৃষ্টি
এবং সম্পদের
সুষ্ঠু ও
সঠিক ব্যবস্থাপনা
এবং পরিকল্পিত
সমন্বয়ের প্রয়োজন
ছিল। এরই
ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩
সালে জাতীয়
পর্যায়ে কৃষি
গবেষণা সমন্বয়,
পরিকল্পনা, গবেষণার
বাস্তবায়ন ও
মূল্যায়নের জন্য
সংবিধিবদ্ধ সংস্থা
হিসেবে বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
কাউন্সিল (বিএআরসি)
প্রতিষ্ঠা লাভ
করে। ১৯৯৬
সালে কাউন্সিলকে
সমন্বয়কারীর দায়িত্ব
প্রদানপূর্বক ‘বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
কাউন্সিল আইন
১৯৯৬’ পুনঃপ্রণয়ন
করা হয়।
এ আইনের
আওতায় কৃষি
খাতের অধীন
শস্য, প্রাণিসম্পদ,
মত্স্য ও
বন বিষয়ক
উপখাতের সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট ১০টি
জাতীয় গবেষণা
ইনস্টিটিউট ও
বাংলাদেশ কৃষি
গবেষণা কাউন্সিলকে
নিয়ে জাতীয়
কৃষি গবেষণা
সিস্টেম (এনএআরএস)
পুনর্গঠিত হয়।
কৃষি গবেষণা
সিস্টেমের কার্যকর
সমন্বয় সাধনে
বিএআরসির ভূমিকা
অধিকতর জোরদার
করার লক্ষ্যে
২০১২ সালের
৮ মার্চ
সংসদ কর্তৃক
বাংলাদেশ কৃষি
গবেষণা কাউন্সিল
আইন, ২০১২
অনুমোদন করা
হয়। বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
কাউন্সিল আইন
২০১২ কৃষি
গবেষণা কর্মসূচি
সমন্বয়কল্পে বিএআরসিকে
গবেষণা সম্পদ
বরাদ্দকরণে ক্ষমতা
প্রদান করেছে।
তবে
দেশের কৃষি
কাঠামো গঠনে
সবচেয়ে বড়
ভূমিকা নেন
ড. কাজী
এম বদরুদ্দোজা।
তার সুদক্ষ
নেতৃত্বে গড়ে
ওঠে বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বারি)।
১৯৭৪-১৯৭৯
সাল পর্যন্ত
তিনি বারির
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের
দায়িত্ব পালন
করেন। ১৯৭২
সালে দেশে
ফিরে কৃষি
মন্ত্রণালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল
রিসার্চ কাউন্সিলের
‘ডিরেক্টর
অব রিসার্চ
অ্যান্ড এডুকেশন’
হিসেবে যোগ
দিয়েছিলেন। নতুন
ও হারানো
জাতের শস্য,
উদ্ভিদ, শাকসবজির
উৎপাদনসহ সব
ধরনের শস্যের
গবেষণাই তার
হাতে বারিতে
শুরু হয়েছে।
শুধু গবেষণার
নতুন ক্ষেত্রই
নয়, বাংলাদেশের
কৃষি গবেষক
তৈরির পাশাপাশি
বারির বিভিন্ন
আঞ্চলিক গবেষণা
কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায়
কাজ করেছেন
তিনি। বাংলাদেশ
অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ
কাউন্সিলের (বিএআরসি)
চেয়ারম্যান হিসেবে
কাজ করার
সময়ই বারি
প্রতিষ্ঠা করেন।
এ প্রতিষ্ঠানের
অধীনেই বারি
পরিচালিত হয়।
সে সময়ে
বিএআরসির অধীনে
আটটি সংস্থা
থাকলেও এখন
বারি, ব্রিসহ
এর অধীনে
১২টি প্রতিষ্ঠান
রয়েছে। শুধু
শস্যক্ষেত্রেই নয়
প্রাণিসম্পদ ও
মত্স্য গবেষণা
প্রতিষ্ঠান তৈরিতে
রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা। সরকারের
কাছ থেকে
সাভারে তাদের
জন্য ৫০০
একর জায়গা
বরাদ্দ অনুমোদন
করাতে রাখেন
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
একইভাবে মত্স্য
গবেষণা ইনস্টিটিউটটির
প্রকল্পটি প্রস্তুত
করে অর্থের
জোগান দিতে
সর্বাত্মক কাজ
করেন তিনি।
বিশ্বব্যাংক ও
ইউনাইটেড নেশনস
ফুড অ্যান্ড
অ্যাগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন
(এফএও) অর্থের
জোগান দিল।
এ প্রতিষ্ঠানেরও
প্রয়োজনীয় জমি
ছিল না।
বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ
থেকে ১০০
একর জমি
নেয়া হয়।
এসব কাজে
সামনে থেকে
নেতৃত্ব দেন
তিনি।
তবে
কৃষি খাতের
প্রাতিষ্ঠানিক ও
অবকাঠামোগুলো এখনো
বেশ বিচ্ছিন্নভাবেই
চলছে। সেক্ষেত্রে
বাংলাদেশের জন্য
উত্কৃষ্ট উদাহরণ
হতে পারে
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল
অব এগ্রিকালচার
রিসার্চ (আইসিএআর)।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল
অব এগ্রিকালচার
রিসার্চ (আইসিএআর)
প্রতিষ্ঠিত হয়
১৯২৯ সালে।
এরপর থেকেই
ভারতের কৃৃষির
সামগ্রিক উন্নয়নে
কাজ করে
যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতের কৃষি
সম্পর্কিত ৯৯টি
প্রতিষ্ঠান এবং
৫৩টি রাষ্ট্রীয়
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের
কার্যক্রম ও
গবেষণা সমন্বয়ে
এপেক্স বডি
হিসেবে কাজ
করছে এ
আইসিএআর। গত
৫০ বছরের
ব্যবধানে ভারতের
চার গুণ
খাদ্যশস্য উৎপাদন,
ছয় গুণ
উদ্যানশস্য, ১৭
গুণ অভ্যন্তরীণ
মত্স্য উৎপাদন,
নয় গুণ
দুধ এবং
২৭ গুণ
ডিমের উৎপাদন
বাড়ানো সম্ভব
হয়েছে মূলত
আইসিএআরের দূরদৃষ্টি
ও সময়োপযোগী
গবেষণা ও
তা সম্প্রসারণের
কারণে। ভারতের
কৃষি মন্ত্রণালয়ের
অধীন এ
সংস্থাটি ৩
হাজার ৩০০টি
বিভিন্ন জাতের
উচ্চফলনশীল ও
হাইব্রিড শস্য
এবং ৩৩টি
নতুন মাছের
জাত আবিষ্কার
করতে সক্ষম
হয়েছে আইসিএআর।
ফলে বাংলাদেশে
কৃষি বিশেষ
করে শস্য,
মত্স্য ও
প্রাণিসম্পদ খাতে
সমন্বিত প্রতিষ্ঠানের
প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সম্মিলিতভাবে একক
প্রতিষ্ঠানের অধীন
এ ধরনের
প্রতিষ্ঠান গড়ে
তুলতে পারলে
হয়তো আরো
উৎপাদন বৃদ্ধি
করা সম্ভব।
সেই ভূমিকায়
বিএআরসি কিংবা
নতুন ফরম্যাটে
তৈরি হতে
পারে।
আবার
এ অঞ্চলের
প্রাতিষ্ঠানিক তেমন
সুবিধা গড়ে
না উঠলেও
বিশেষ কিছু
পণ্যের ঐতিহাসিক
বাজার ছিল,
বিশেষ করে
চিনির। বাংলাদেশের
দোবারা চিনি
প্রস্তুতের জন্য
নদীয়া জেলার
শান্তিপুর ছিল
বিখ্যাত। প্রায়
২০০ বছর
আগে ১৮৩৭-৩৮
সালে কলকাতা
বন্দর দিয়ে
ব্রিটেন ও
অন্যান্য দেশে
প্রায় ৮
লাখ ১৫
হাজার মণ
চিনি রফতানি
করে প্রায়
৬৭ লাখ
১৯ হাজার
টাকা আয়
করেছিল বাংলাদেশ।
সেই চিনি
আর এ
শিল্পের ঐতিহ্য
এখন ধ্বংসের
দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশ
চিনি ও
খাদ্য শিল্প
করপোরেশন দেশের
আখচাষীদের উন্নয়ন
কিংবা আখের
উৎপাদন ও
বিপণনের সংযোগকারী
সংস্থা হলেও
সেই কার্যক্রম
করতে ব্যর্থ
হয়েছে। সেটির
পেছনে নানা
ধরনের কার্যক্রম
কিংবা অন্তর্নিহিত
কারণ বিশ্লেষণের
প্রয়োজন রয়েছে।
তবে মোটা
দাগে বলতে
হয় আখচাষীদের
উন্নয়নে এ
করপোরেশনের ভূমিকা
আজ মৃতপ্রায়
হতে চলেছে।
যেসব প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠার পর
ভালো করছে,
সেগুলো অবশ্যই
সাধুবাদ পাওয়ার
দাবি রাখে।
তবে যেগুলো
কৃষি ও
কৃষকের উন্নয়নে
যথার্থ ভূমিকা
রাখতে পারছে
না, সেগুলোকে
বন্ধ না
করে পুনর্বিন্যাস
ও পুনর্গঠন
করা প্রয়োজন।
আবার যেসব
প্রতিষ্ঠান দক্ষতা
দেখাতে পারছে
না, সেখানে
নতুন চিন্তা
ও বহির্বিশ্বের
অভিজ্ঞতার আলোকে
ঢেলে সাজানো
যেতে পারে।
খাদ্য ও
পুষ্টি নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে
এবং প্রাতিষ্ঠানিক
সক্ষমতা বৃদ্ধির
জন্যই এ
পদক্ষেপ নিতে
হবে।
কৃষির
উন্নয়নে নিয়োজিত
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠা
সাল
বাংলাদেশ
ধান গবেষণা
ইনস্টিটিউট (ব্রি)-
১৯৭০
তুলা
উন্নয়ন বোর্ড
(সিডিবি)- ১৯৭২
বাংলাদেশ
কৃষি গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বারি)-
১৯৭৬
কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
(ডিএই)- ১৯৮২
মৃত্তিকা
সম্পদ উন্নয়ন
ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)-
১৯৮৩
বাংলাদেশ
পরমাণু কৃষি
গবেষণা ইনস্টিটিউট
(বিনা)- ১৯৮৪
বাংলাদেশ
লাইভস্টক রিসার্চ
ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-
১৯৮৪
বাংলাদেশ
মত্স্য গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-
১৯৮৪
বাংলাদেশ
ইক্ষু গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই)-
১৯৪৪
বাংলাদেশ
পাট গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)-
১৯৫১
বাংলাদেশ
বন গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-
১৯৫৫
বাংলাদেশ
চা গবেষণা
ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)-
১৯৫৮
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিএসআরটিআই)- ১৯৬২





