ড. মো. আখতারুজ্জামান
উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ব মানচিত্রে এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠের নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার সোনালি ইতিহাসের ছোঁয়া পড়ছে বাঙালি জাতির মুক্তির ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে। দেশের শিক্ষা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর, মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের লালনক্ষেত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অতিক্রম করছে তার স্বর্ণালি ইতিহাসের শততম বর্ষ। এ সময়টা আমাদের সবার জন্যই যেমন আবেগের, তেমনই অতীত ইতিহাসের সোনালি দর্পণে নিজেদের আজকের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে আরো একবার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বীজ বপন করার।
তাত্পর্যময় এ বছরটির উদ্যাপন নিয়ে ছিল আমাদের সুদীর্ঘ পরিকল্পনা। কিন্তু এ বিশেষ মুহূর্তটিকে ঠিক যে আবেগ ও উচ্ছ্বাসে সবার অংশগ্রহণে উদযাপন করার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বব্যাপী করোনা সংকটময় অবস্থার জন্য সেটি এ মুহূর্তে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও ‘টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা রকম উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শতবর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে দেশকেন্দ্রিক যেকোনো স্বপ্নকে বাস্তবায়নের বন্ধুর পথকে মসৃণ করার গুরুদায়িত্ব নিজের বলেই মনে করে। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং স্বপ্ন দেখছে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে জায়গা করে নেয়ার। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র তকমা থেকে যে বাংলাদেশ আজকের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় এসেছে, সেটির অন্যান্য স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা অসম্ভব কোনো কাজ নয় বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
শতবর্ষী মাতৃসম এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দ্বিতীয় শতবর্ষের উপযোগী বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা সামষ্টিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে নিজস্ব অবস্থান থেকে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠের জন্য সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করতে আমি আপনাদের সবার প্রতি বিনম্র আহ্বান জানাচ্ছি।





