ড. কাজী শহীদুল্লাহ
চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। এ অঞ্চলের মানুষ ও সমাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান বহুমুখী। একদিকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এনেছে রাজনৈতিক অর্জন। দক্ষ মানবসম্পদ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিসহায়তা দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছে। দেশের এমন কোনো খাত নেই, যেখানে শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান নেই।
১৯৬৯ সালে ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কের সূচনা। এরপর ১৯৭৩ সালে শিক্ষকতা শুরু, যা এখনো চলমান। সে হিসেবে শতবর্ষের পথচলার একটি বড় অংশজুড়ে আমিও ছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। সে অভিজ্ঞতা থেকে, যখন থেকে সংখ্যা গুরুত্ব পেতে থাকল, তখন থেকেই মানে ছেদ পড়া শুরু হয়। আশির দশক পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রমে মানই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। কার কয়টা আর্টিকেল ছাপা হলো, সেটি মুখ্য ছিল না। কে কতটা মানসম্মত কাজ করতে পারল, সেটিরই মূল্যায়ন করা হতো।
কিন্তু নব্বইয়ের দশকের দিক থেকে সংখ্যা গুরুত্ব পেতে থাকল। এ পদের জন্য এতটা আর্টিকেল লাগবে—এ ধরনের সংখ্যাভিত্তিক নানা শর্ত আসতে থাকল। তখন শিক্ষকরাও সংখ্যায় মনোযোগ দিতে থাকলেন। এভাবেই ক্রমান্বয়ে মানসম্মত মৌলিক গবেষণা কমতে থাকে।
মান কমার আলোচনায় বেশির ভাগ সময়ই ল্যাব না থাকা ও গবেষণায় বরাদ্দ কম থাকাকে দায়ী করা হয়। তবে আমার মতে, মান কমার সবচেয়ে বড় কারণ শিক্ষক। শিক্ষার মানোন্নয়নের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নির্ভর করে গুণগত শিক্ষক নিয়োগের ওপর। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি মেধা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়করণ ও দলীয়করণের মতো তদবিরবাজি করা যাবে না।





