শতবর্ষে পদার্পণ করেছে পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চশিক্ষার পীঠস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই একশ বছরের স্থিতিপত্রে, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়টির অতীত সময়ে উল্লেখযোগ্য ভালো সম্পদের দেখা মেলে। যদিও বর্তমানে সম্পদের চেয়ে দায় বেশি। আগে এ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এতদঞ্চলের খ্যাতিজোড়া উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র। এখানে বিশ্বের খ্যাতিমান অনেক শিক্ষকই পড়িয়েছেন, যারা জ্ঞান বিস্তারে তাত্পর্যজনক অবদান রেখেছিলেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন ড. ডব্লিউ এ জেনকিংস, অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসু, ড. জে সি ঘোষ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, অধ্যাপক মোকার্রম হোসেন খন্দকার, ড. কাজী মোতাহার হোসেন, কে জি নিউম্যান, ড. আহমদ হাসান দানী, কালিকারঞ্জন কানুনগো, আর সি মজুমদার প্রমুখ। এ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বসেই বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব সৃষ্টিতে সত্যেন্দ্রনাথ বসু আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছিলেন। চিঠি চালাচালি করেছিলেন। এটা বিরাট অবদান। একইভাবে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও একটা বড় অবদান রেখেছিলেন। ১৯০৭ সালে তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে চর্যাপদের প্রথম কপি আবিষ্কার করেছিলেন। এটি আবিষ্কার না হলেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনেক কিছুই অজানা রয়ে যেত। এ অবদান অবশ্যই স্মরণীয়।
খ্যাতিমান শিক্ষকদের জ্ঞানজগতে অবদানের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বিরাট অবদান রেখেছে। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রগতিশীল আন্দোলনের সূতিকাগার। এর প্রত্যক্ষ ফসল আজকের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি। যেহেতু এসব আন্দোলন তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, সেহেতু ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ এ সময়পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক তরুণই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বেগবান করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। অধিকন্তু এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির আগেই এসব আন্দোলনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সমাজে। রক্তের বিনিময়ে ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন সফলভাবে আইয়ুব খানের বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ব্যর্থ করে দিয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ছয় দফার মূল বার্তাগুলো জনগণের কাছে পৌঁছেছিল। ছয় দফার সঙ্গে সংগতি রেখে ছাত্ররা ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি এগার দফা ঘোষণা করেছিল। সারবত্তা ও মূলনীতির দিক থেকে ছাত্রদের দাবিগুলো আরো বেশি বৈপ্লবিক ছিল। অনেক স্লোগানের মাধ্যমে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান (১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি) স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে অন্যতম স্লোগান ছিল ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। তরুণদের এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাঙালির ক্ষোভ-বিক্ষোভ ঘনীভূত হয়েছিল, জাতীয়তা বোধ আরো শাণিত হয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি (স্বাধীন হতে যাওয়া নতুন রাষ্ট্রের নাম) জনসম্মুখে উচ্চারিত হয়েছিল। সর্বোপরি, গণ-অভ্যুত্থান (পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু অংশে একই ধরনের অভ্যুত্থানসহ) আইয়ুব খানকে উত্খাতে সমর্থ হয়েছিল এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের (অন্য অভিযুক্তরাসহ) মুক্তি নিশ্চিত করেছিল। পরের দিন (২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯) তরুণদের সংগঠিত এক শোভাযাত্রা রেসকোর্স ময়দানে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা দিয়েছিল। এ শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়া হয়। সিরাজুল আলম খানের নির্দেশনায় ১৯৭০ সালের ৬-৭ জুন কিছু ছাত্র ইকবাল হলের (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক) ১১৬ নং কক্ষে ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পতাকা তৈরি করা হয় এবং ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের পশ্চিমাংশে ওই পতাকা প্রথমবারের মতো ওড়ানো হয়। ওই তরুণরা ছিলেন ১৯৭১ সালের মার্চের (২-২৫ মার্চ) অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক, যা আক্ষরিক অর্থে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক শাসন বিলোপ করেছিল এবং বঙ্গবন্ধুকে এ প্রদেশের বাস্তব শাসকে পরিণত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে (১৬ মার্চ-১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১) এ তরুণরা স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-তরুণরা অতীত সৌরভ-উজ্জ্বলতা অনেকটাই হারিয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে প্রথম যে ঘটনা ক্যাম্পাসে আলোড়িত হয়েছিল তা ছিল যুদ্ধফেরত শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশনের দাবিকেন্দ্রিক। এর প্রতিক্রিয়ায় তত্কালীন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘তোমরা আমার লাশের ওপর দিয়ে অটো প্রমোশন পেতে পারো।’ উপাচার্যকে বাঁচাতে এবং ছাত্রদের প্রশমিত করতে বঙ্গবন্ধুকে তখন ক্যাম্পাসে আসতে হয়েছিল। উল্লিখিত ঘটনার ভিত্তিতে এটা বলা চলে, উপাচার্য তার পদ এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রেখেছিলেন, পরবর্তী সময়ে যা আর কখনো দেখা যায়নি। আগে যে যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ হতো এটা তার আরেকটি প্রমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অতীত গৌরব সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে কিছুটা ফিরে এসেছিল। এর ফলস্বরূপ ১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে এরশাদের পতন ঘটে। এর পর থেকে এ ধরনের অর্জন আর পুনরাবৃত্ত হয়নি। জাতীয় রাজনীতির ভিত্তিতে বিভাজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে কাজ করে। ফলে ক্যাম্পাসে পরিচালনাধীন ছাত্রসংগঠনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিবাদ-বিসংবাদের বিষয়গুলো অনুকরণ করতে দেখা যায়। একাত্তর-পূর্ব ছাত্রসংগঠনগুলোর মতো বর্তমান ছাত্রসংগঠনগুলোর আদর্শিক কোনো শেকড়-ভিত্তি নেই। ১৯৭১ সালের আগের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি ছিল ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতাদের জন্মদাতা, কিন্তু বর্তমানে তেমনটা ঘটে না। ফলে প্রত্যাশিত মাত্রায় জাতীয় রাজনীতির মান বাড়েনি।
পাকিস্তান শাসনামাল ও মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়ে হওয়া জাতীয় আন্দোলনগুলো ছিল তারই ফল, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক উভয়েরই ভূমিকা ও আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ হয়েছিল। পাকিস্তানিদের চালানো অপারেশন সার্চলাইটের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হত্যা করা। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে যা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, পাকিস্তানি বাহিনীর ন্যক্কারজনক আত্মসমর্পণের দুই দিন আগে। ওই গণহত্যায় অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন ড. জি সি দেব, ড. এএনএম মুনিরুজ্জামান (মুনীর চৌধুরী), সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. আবুল খায়ের, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ড. সিরাজুল হক খান, রাশিদুল হাসান, আনোয়ার পাশা, ড. ফজলুর রহমান, ড. ফয়জুল মহি, আব্দুল মুক্তাদির (বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক), শারাফাত আলী, সাদত আলী, এআর খান, অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। আমাদের দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খুন হয়েছিলেন এবং তাদের রক্ত রঞ্জিত পথেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
এ পর্যায়ে তখন (পাকিস্তান আমলে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পঠন-পাঠনের মান সম্পর্কে দুই-এক ছত্র লেখা জরুরি মনে করছি। বিষয়টি আমি নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শেয়ার করছি। আমার ছাত্রত্ব শুরু হয়েছিল ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে, শেষ হয়েছিল ১৯৭০ সালের জুন নাগাদ। শিক্ষকদের কীভাবে নিয়োগ দেয়া হতো, তার একটা নমুনা আমার ব্যক্তিজীবনেই রয়েছে। উচ্চ বেতন দিয়েই আমাকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। মূল বেতনের সঙ্গে দেয়া হয়েছিল কয়েকটি ইনক্রিমেন্ট। ফলে আমি কিছু শিক্ষকের চেয়ে বেশি বেতনে আমার শিক্ষকতা ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। তত্কালীন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী (একজন কৃতবিদ্য ব্যক্তি) এটি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে আমাকে তত্কালীন পাকিস্তানের সেন্ট্রাল
সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় (সিএসএস) বসা থেকে নিবৃত্ত করতে এমনটা করেছিলেন। যেন শুধু একজন আমলা হিসেবে আমার জীবনটা নিঃশেষিত না হয়।
ওই সময়ে শিক্ষকতার মান সম্পর্কে আরো দুটি ঘটনা শেয়ার করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন। প্রথম ক্লাসের শিডিউল পড়েছিল উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাস বিষয়ে বিভাগের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্যের। ওই ক্লাসের শেষে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কীভাবে প্রথম শ্রেণী পাওয়া যায়। তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দুই অংশে দিয়েছিলেন। প্রথমত, তিনি কোর্সের প্রথম থেকেই প্রথম শ্রেণী পাওয়া বিষয়ে আমাকে সজাগ থাকতে বলেছিলেন। দ্বিতীয়ত বলেছিলেন, প্রথম শ্রেণী পেতে হলে উত্তরপত্র ব্যাকরণগতভাবে ত্রুটিমুক্ত এবং ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণের দিক থেকে বিশ্লেষণী হতে হবে। আমার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় তেমন একটা ঘটনা ঘটেছিল। আমি তার কোর্সে ব্যাকরণগতভাবে ভুল করেছিলাম। উত্তরপত্রে কমা ও সেমিকোলন ব্যবহার যথাযথভাবে করতে পারিনি। ফল প্রকাশের আগেই এ তথ্য তিনি প্রকাশ করেছিলেন। আমার শিক্ষকদের মধ্যে তখন এ ধরনের অকপটতা ছিল। তার ভাষ্যমতে, যদিও তার কোর্সে আমি প্রথম শ্রেণীর মার্কস পাইনি, তবে সৌভাগ্যবান ছিলাম যে আমার বহিঃস্থ নিরীক্ষক (এক্সটারনাল এক্সামিনার) করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আহমদ হাসান দানী প্রথম শ্রেণীর মার্কস দিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের বর্তমান পদ্ধতি কী? শিক্ষকদের মান কী? অধিকন্তু শিক্ষকদের ভাষা দক্ষতা (বাংলা ও ইংরেজি উভয়ই) কেমন? আমি নিশ্চিত বর্তমান বাস্তবতায় এসব প্রশ্নের উত্তর না-বোধকই আসবে। স্বীকার করি কিছু ব্যতিক্রম আছে, কিন্তু তা খুব কমসংখ্যকই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের বিষয়ে আরেকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি। ১৯৮৭ সালের দিকে আমি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ওপর একটা জরিপ পরিচালনা করি। আমার উদ্দেশ্য ছিল, কতজন শিক্ষক গ্রন্থাগার ব্যবহার করেন। তখন শিক্ষকদের সংখ্যা ছিল ৯৫২ জন। তার মধ্যে কেবল ২৮৭ জন গ্রন্থাগার কার্ড ব্যবহার করেছিলেন! এমনকি আজকের ই-বুক/ জার্নালের দিনেও গ্রন্থাগার ব্যবহার না করা ছাড়া একজন শিক্ষক কীভাবে যথাযথভাবে ক্লাসরুমে পাঠদান করবেন কিংবা গবেষণাকর্ম করবেন? কাগজে-কলমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী একজন শিক্ষকের নিজস্ব গবেষণাকর্ম প্রকাশ করা আবশ্যক। তবে বাস্তবতা হলো প্রভাষক থেকে অধ্যাপকে পদোন্নতি পেতে অ-গবেষক কিংবা নিজস্ব প্রকাশনা না থাকাদের কোনো অসুবিধা হয় না। সাম্প্রতিক অতীতে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সুবাদে তথাকথিত এমন এক অধ্যাপক উপাচার্য হয়েছিলেন এবং দুই মেয়াদে ওই পদে আসীন ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে অন্য নির্মম বাস্তবতা হলো উপাচার্যরা এখন তাদের একাডেমিক কৃতিত্ব বা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত হন না; নিশ্চিতভাবে নিয়োগ হয় ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক আনুকূল্যের ভিত্তিতে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধান বা প্রধান খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি এ ধরনের প্রধানরা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানও প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। নিকট অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছে বৈকি।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: বঙ্গবন্ধু চেয়ার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)





