বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বণিক বার্তার উদ্যোগে ৩ জুলাই অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র: ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ শীর্ষক গ্রন্থের ওপর একক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে এ ক্রোড়পত্র।
আলোচক: ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, এমপি
সাবেক মন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি
এ জেড এম সালেহ্
সহসভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি
নজিরবিহীন মহামারী
নভেল
করোনাভাইরাসের
দ্বিতীয়-তৃতীয়
ঢেউয়ে
আমাদের
প্রিয়
স্বদেশ
আজ
ভীষণভাবে
বিপন্ন-অসহায়।
পৃথিবীজুড়ে
শুরু
হয়েছে
অর্থনৈতিক
মহামন্দা।
এরই
সঙ্গে
অতিমারীর
অনিশ্চিত
প্রতাপ।
বৈশ্বিক
এ
মহাদুঃসময়ে
বাংলাদেশ
অর্থনীতি
সমিতি
খুঁজছে
শোভন সমাজ,
শোভন রাষ্ট্র, শোভন বিশ্বব্যবস্থা। আর
সেজন্যই
আয়োজন
ভার্চুয়াল
আলোচনা—‘শোভন সমাজের সন্ধানে’। এ
আলোচনায় দেশ
ও
দেশের
বাইরে
থেকে
জুম,
ইউটিউব
ও
ফেসবুকে যারা
যোগ
দিয়েছেন
তাদের
সবাইকে
আন্তরিক
শুভেচ্ছা
ও
অভিনন্দন।
ভার্চুয়াল পরিমণ্ডলের
এ
একক
আলোচনায়
বাংলাদেশ
অর্থনীতি
সমিতির
লক্ষ্য
ও
উদ্দেশ্য
হলো
একটি
শোভন
সমাজ,
শোভন
সংস্কৃতি,
শোভন
জীবনবোধ,
শোভন
জীবন
ব্যবস্থা,
শোভন
অর্থনীতি,
শোভন
রাষ্ট্র
বিনির্মাণে জ্ঞানভিত্তিক
প্রভাবকের
ভূমিকা
পালন
করা।
অর্থনীতি সমিতি
ড.
আবুল
বারকাতের
সমগ্র
গ্রন্থের
ওপর
একক
আলোচনার
নতুন
এ
কার্যক্রমের
সূচনা
করেছে।
আজকের ওয়েবিনারে একক আলোচক হিসেবে সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যোগ দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, এমপি। ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৯১-৯২ সময়কালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। তিনি নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য।
ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, এমপি
সাবেক মন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি
অধ্যাপক
ড.
আবুল
বারকাত
বাংলাদেশের
সামনের
সারির
বরেণ্য
অর্থনীতিবিদ।
তার
সাম্প্রতিক
গ্রন্থ
‘বড়
পর্দায়
সমাজ,
অর্থনীতি,
রাষ্ট্র,
ভাইরাসের
মহাবিপর্যয়
থেকে
শোভন
বাংলাদেশের
সন্ধানে’
সব
সুধীজনকে
ভাবিয়ে
তোলার
খোরাক
দিয়েছে।
সমাজ,
অর্থনীতি
ও
রাষ্ট্র
বিষয়ে
তার
চিন্তা
ও
কথা
তাকে
প্রশংসনীয়
মাত্রায়
একজন
সাহসী
চিন্তাবিদের
পরিচিতিতে
উদ্ভাসিত
করেছে।
ড.
বারকাত
এসব
বিষয়ে
তার
গভীর
ও
ব্যাপ্ত
চিন্তাগুলো
একীভূত
করেছেন
‘শোভন
সমাজের
সাধারণ
তত্ত্ব’-এর
অবয়বে।
বাংলাদেশকে
উদাহরণ
হিসেবে
উল্লেখ
করে
তিনি
তার
তত্ত্ব
সামগ্রিকভাবে
পুরো
বিশ্বের
জন্য
প্রযোজ্য
বলে
উল্লেখ
করেছেন।
তার
বিশ্লেষণে
তিনি
বিদ্যমান
পুঁজিবাদকে
শোষণ,
লালসা,
ব্যক্তিস্বার্থ
ও
মুনাফাভিত্তিক
ব্যবস্থা
বা
সিস্টেম
বলে
বিশেষায়িত
করেছেন।
তিনি
বলেছেন,
এ
সিস্টেম
(১) গণতন্ত্রবিরোধী,
(২) অসভ্য-বর্বর,
(৩) অদক্ষ
ও
জাতীয়
সম্পদ
অপচয়কারী
ও
(৪) জ্ঞান-বিজ্ঞান
বিকাশবিরোধী।
গণতন্ত্রবিরোধী
এ
সিস্টেমে
উৎপাদনের
৯৯
শতাংশ
উৎপাদনকৃত
পণ্যসামগ্রী
বা
সেবার
মালিক
হন
পুঁজির
মালিক,
আর
১
শতাংশ
প্রযুক্ত
হয়
৯৯
শতাংশ
শ্রমিকের
অনুকূলে
বা
তাদের
প্রয়োজন
মেটানোর
জন্য।
পুঁজিবাদ
বর্বর-অসভ্য
এ
কারণে
যে
মুষ্টিমেয়
পুঁজির
মালিকরা
নিজেদের
স্বার্থরক্ষায়
সাধারণ
জনগণের
স্বার্থবিরোধী
সব
দুষ্কর্ম
করে
থাকেন।
পুঁজিবাদ
যে
অসভ্য-বর্বর,
সে
ব্যাপারে
আমি
ড.
আবুল
বারকাতের
সঙ্গে
একমত।
সব
জনগণের
আর্থসামাজিক
অবস্থা
উন্নয়নে
প্রযুক্ত
হওয়ার
বিকল্পে
মুষ্টিমেয়রা
উপযোগ,
সম্পদ
ও
উৎপাদিত
পণ্যসামগ্রী
পান
বা
ব্যবহার
করেন
বলে
পুঁজিবাদ
জাতীয়
সম্পদের
অপব্যবহার
ঘটায়
এবং
উৎপাদন
ও
সেবার
ক্ষেত্রে
সম্পদ
অপচয়
করে।
মুনাফার
আয়প্রবাহ
এরই
মধ্যে
উৎপাদনে
প্রযুক্ত
প্রযুক্তি
অপরিবর্তিত
রাখার
অভিলাষে
পুঁজিবাদ
নিত্যনতুন
উদ্ভাবন
কিংবা
সে
উদ্দেশ্যে
জ্ঞান-বিজ্ঞানের
বিকাশ
ব্যাহত
করে।
সুতরাং
তার
মতে,
এ
সিস্টেমকে
বিকল্পায়িত
করতে
হবে
তিনটি
মৌল
উপাদানভিত্তিক
শোভন
সমাজ
ব্যবস্থা
দিয়ে।
ড.
বারকাত
বলেছেন,
এ
তিনটি
উপাদান
পরস্পর
সম্পর্কিত
ও
পরস্পর
নির্ভরশীল
বৃহৎ
বর্গীয়
ভিত্তিবিশিষ্ট।
এর
প্রথমটি
হলো
সামাজিক
ভিত্তি
উপাদান,
যার
মূল
অভীষ্ট
হলো
আলোকিত
মানুষ-জ্ঞানসমৃদ্ধ
মুক্তচিন্তার
সৃজনশীল
কর্মকাণ্ড,
পারস্পরিক
শ্রদ্ধা,
সম্মান,
সহমর্মিতা,
সহযোগিতা
ও
সংহতিসমৃদ্ধ,
কুসংস্কার,
কূপমণ্ডূকতা
ও
অপসংস্কৃতিমুক্ত
বিজ্ঞানমনস্ক
ও
যুক্তিশীল
মানুষ
কর্তৃক
সমাজ
পরিচালন।
দ্বিতীয়টি
হলো,
অর্থনৈতিক
ভিত্তি
উপাদান,
যার
অভীষ্ট
হলো
সাধারণের
বৈষম্য
থেকে
মুক্তি।
এ
অর্জনে
প্রকৃতিসৃষ্ট
সব
ধরনের
প্রাকৃতিক
সম্পদের
মালিকানা
হবে
জনগণের
তরফ
থেকে
রাষ্ট্রের,
মানুষের
সৃষ্ট
সব
উৎপাদনের
উপায়ের
মালিক
হবে
জনগণ।
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
ছাড়া
সব
ব্যাংক,
আর্থিক
প্রতিষ্ঠান
ও
শেয়ারবাজারের
বিলুপ্তি
এবং
এর
সঙ্গে
সঙ্গে
পুঁজিপতি
ও
ধনিক
শ্রেণীর
মূলোৎপাটন।
আর
তৃতীয়টি
হবে
রাজনৈতিক
ভিত্তি
উপাদান,
যেখানে
রাষ্ট্র
হবে
নিপীড়নবিহীন
সার্বভৌম
জনগণের
রাষ্ট্র—গণতন্ত্র
হবে
প্রকৃত
অর্থের
জনগণের
গণতন্ত্র,
প্রভুহীন
গণবিরোধী
আমলাতন্ত্রবিহীন
স্বাধীন
মানুষের
স্থানীয়
সমাজ
পরিচালিত
নাগরিক
শাসন
এবং
দেশরক্ষা
ও
প্রতিরক্ষার
দায়িত্বে
নিয়োজিত
হবে
সাধারণ
জনগণ।
ড.
বারকাতের
মতে,
এসব
পরিপ্রেক্ষিতে
সমাজ,
অর্থনীতি
ও
রাষ্ট্রকে
দেখতে
হবে
বড়
পর্দায়।
ড.
বারকাতের
ভাষায়,
“মানুষকে
দেখতে
হবে
প্রকৃতির
অবিচ্ছেদ্য
অংশ
হিসেবে।
কিন্তু
উল্টোটাই
এতকাল
আমাদের
ভাবনাজগৎ
ও
কর্মকাণ্ডজগতে
নিয়ামক-নির্ধারক
ছিল।
সে
কারণেই
কোনো
‘শোভন’
সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র
বিনির্মিত
হয়নি।
শোভন
সমাজ-শোভন
অর্থনীতি-শোভন
রাষ্ট্র
হলো
শেষ
বিচারে
প্রকৃতির
প্রতি
অনুগত
থেকে
বৈষম্যহীন
অর্থনীতি
ও
উচ্চ
নীতিনৈতিকতাসম্পন্ন
আলোকিত
মানুষের
জীবন
ব্যবস্থা।
এসব
গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ
একুশ
শতকের
এই
সময়ে
‘সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র’
ত্রিমাত্রিক
বিপর্যয়ের
শিকার—আর্থিকীকরণকৃত
রেন্টসিকিং-পরজীবী-লুটেরা
পুঁজির
নিরঙ্কুশ
আধিপত্যে
শোষণ-বঞ্চনা-বৈষম্য-অসমতা-বিচ্ছিন্নতার
নিরন্তর
ক্রমবর্ধমান
উৎপাদন-পুনরুৎপাদন,
যা
অর্থনীতিতে
অবশ্যম্ভাবী
করেছে
গভীর
ও
দীর্ঘমেয়াদি
মহামন্দা
(প্রথম বিপর্যয়),
আর্থিকীকরণকৃত
পুঁজিবাদ
ক্ষমতাকে
রাজনীতি
থেকে
বিচ্ছেদিত
করেছে,
অর্থাৎ
রাজনীতি-সরকার
থেকে
ক্ষমতা
অভিবাসিত
হয়েছে
(দ্বিতীয় বিপর্যয়),
আর
একই
সময়ে
ভাইরাসের
(আপাতত কোভিড-১৯)
কারণে
বিশ্বব্যাপী
মানুষ
হয়েছে
গৃহবন্দি-আতঙ্কিত-বিষণ্ন-অবসাদগ্রস্ত
মানসিকভাবে
চরম
বিপন্ন-হতাশ-নিরাশ
(তৃতীয় বিপর্যয়)।
এই
তিন
বিপর্যয়ের
মিথস্ক্রিয়ায়
সৃষ্টি
হয়েছে
এমন
অবস্থা,
যখন
বড়
পর্দায়
প্রকৃতির
প্রতি
পূর্ণ
আনুগত্য-আস্থা-সম্মানভিত্তিক
নতুন
এক
জীবন
ব্যবস্থা
‘শোভন
সমাজ
ব্যবস্থা’-উদ্দিষ্ট
আলোকিত
মানুষের
বৈষম্যহীন
সমাজ
বিনির্মাণ
সময়ের
দাবি।
এ
পথে
হাঁটা
ছাড়া
চলমান
অশোভন
পৃথিবীকে
শোভন
পৃথিবীতে
রূপান্তরের
বিকল্প
কোনো
পথ
নেই।
পথটা
দেখাবে
‘শোভন
রাজনীতি’।’
ড.
বারকাতের
মতে,
এটাই
‘শোভন
সমাজ
ব্যবস্থার
সাধারণ
তত্ত্ব’।
তার
এ
ভাষ্য
পাঠককে
মনে
করিয়ে
দেয়
সমাজ
বিবর্তনের
অষ্টাদশ
শতাব্দীর
মার্ক্সীয়
তত্ত্ব
এবং
মুদ্রা,
সুদ
ও
কর্মসংস্থানের
বিংশ
শতাব্দীর
কেইনসীয়
সমাধান।
আমার
দৃষ্টিতে
(ড. মহিউদ্দিন
খান
আলমগীর),
গত
১০০
বছরের
অভিজ্ঞতায়
আমরা
দেখেছি,
ধনতান্ত্রিক
দেশগুলো
সমাজতন্ত্রের
কতিপয়
জনসমর্থিত
উপাদান
গ্রহণ
করে
সমৃদ্ধ
হতে
সচেষ্ট
হয়েছে।
এরূপ
প্রচেষ্টা
শিক্ষা
ও
স্বাস্থ্যসেবা
বিস্তারের
মাধ্যমে
সুযোগের
সমতা
সৃষ্টি
করেছে,
সামাজিক
কুশলতা
ও
নিরাপত্তার
পরিধি
বাড়িয়েছে
এবং
নিপুণতর
উৎপাদন
বাড়ানোর
প্রয়োজনে
সঞ্চয়
ও
বিনিয়োগের
লভ্যতা
সৃষ্টি
করেছে।
তেমনি
সমাজতান্ত্রিক
দেশগুলো
তার
অর্থনীতির
ব্যবস্থাপনায়
ব্যক্তিদের
সন্দীপনের
ভূমিকা
স্বীকার
করে
সামাজিক
সেবাগুলো
ব্যাপ্ত
করার
সঙ্গে
সঙ্গে
ক্ষুদ্র
ব্যবসা,
শিল্প
ও
অর্থযোগ
সংগঠন
সৃজন
করছে।
এ
প্রক্রিয়ায়
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান
দেশগুলো
সমাজতন্ত্র
ও
পুঁজিবাদের
উৎপাদনশীল
মিশ্রণ
গ্রহণ
করে
সমাজ
থেকে
অভাব
অনটন
দূর
করার
লক্ষ্যে
পরিশ্রম,
মেধা
ও
উদ্যমের
সৃজনশীল
ভূমিকা
সৃষ্টি
ও
রক্ষণ
করে
চলেছে।
অনুরূপভাবে
উত্তর
গোলার্ধের
আইসল্যান্ড
ও
দক্ষিণ
গোলার্ধের
নিউজিল্যান্ড
পরিমিত
ধনতন্ত্রে
সামাজিক
প্রতিরক্ষণ
ও
সন্দীপন
বিকশিত
করার
কার্যক্রম
গ্রহণ
করেছে।
উল্লিখিত
পরিপ্রেক্ষিতে
এরই
মধ্যে
মানবসমাজ
যা
অর্জন
করেছে,
তা
দুমড়ে-মুচড়ে
দূরে
সরিয়ে
বিপরীতাত্মক
শোভন
সমাজ
সৃষ্টি
করা
কতটুকু
সম্ভব
কিংবা
মানবকল্যাণের
জন্য
প্রয়োজনীয়তা
নিরিখকরণে
ড.
বারকাত
যে
বিপ্লবের
রূপরেখা
এ
বইয়ে
দিয়েছেন,
তা
ঘটানো
কিংবা
অনুসরণ
করা
সম্ভব
ও
এমনকি
সংগত
হবে
বলে
মনে
হয়
না।
২০০
বছর
ধরে
যে
রাজনৈতিক,
অর্থনৈতিক
ও
সামাজিক
প্রতিষ্ঠান
গড়ে
উঠেছে,
তা
স্থান
বা
স্তরবিশেষে
সংস্কারের
দাবি
রাখে
কিন্তু
উপড়ে
ফেলে
দেয়ার
যুক্তি
প্রতিষ্ঠিত
করে
না।
ড.
বারকাতের
প্রস্তাবনার
বিপরীতে
উদাহরণ
হিসেবে
আমরা
বলতে
পারি
না
যে
দেশরক্ষার
ভার
পেশাদার
পারদর্শী
বাহিনী
বিলুপ্ত
করে
জনগণের
ওপর
অর্পিত
করা
কার্যকরণ
সূত্র
অনুযায়ী
গ্রহণীয়
হবে।
যেমন
এও
বলা
যায়
না
যে
প্রশিক্ষিত
আমলা
নিযুক্ত
বা
প্রয়োগ
না
করে
স্থানীয়
সমাজ
উৎসারিত
প্রযুক্তি
বা
মনোযোগের
ভিত্তিতে
আমরা
সমকালের
বহু
কাজ
ও
সামাজিক
কুশলে
নিযুক্তীয়
আমলাতন্ত্র
উঠিয়ে
দিতে
পারব
কিংবা
সমাজে
উৎপাদনবর্ধক
বা
সহায়ক
সন্দীপনীয়
শক্তিসম্পদের
সমমালিকানা
দিয়ে
সৃষ্টি
কিংবা
সংরক্ষণ
করা
সম্ভব
হবে।
সমাজের
সঞ্চয়কারীর
অর্থ
ব্যাংক
ব্যবস্থার
মাধ্যমে
বিনিয়োগকারী
বা
উদ্যোগীর
অনুকূলে
সঞ্চালিত
করার
সমকালীন
যে
ব্যাংক
ও
আর্থিক
ব্যবস্থা
কার্যশীল,
তা
উঠিয়ে
দিয়ে
সঞ্চয়
ও
উৎপাদনশীল
বিনিয়োগ
বাড়ানো
সম্ভব
নয়।
ড.
বারকাত
বলিষ্ঠভাবে
বড়
পর্দায়
সমকালীন
সামাজিক
ও
আর্থিক
ব্যবস্থার
ত্রুটিগুলো
সামনে
নিয়ে
এসেছেন।
একটি
জ্ঞানসমৃদ্ধ
ও
জ্ঞানতাপস
সমাজে
এসব
ত্রুটি
দ্রুত
দূর
করা,
উৎপাদনের
নতুনতর
ক্ষেত্র
শনাক্ত
এবং
সুযোগের
সমতা
বিস্তৃত
করা
এবং
সমাজ
ব্যবস্থাপনায়
সমতা
ও
মানবতাবোধকে
ভিত্তি
হিসেবে
গ্রহণ
ও
ব্যবহার
করার
পথে
ড.
বারকাত
আমাদের
তার
ভাষা,
উপলব্ধি
ও
আনুগত্যবোধ
দিয়ে
উদ্দীপ্ত
করেছেন
সন্দেহ
নেই
এবং
এ
পরিপ্রেক্ষিতে
তিনি
বাংলাদেশের
বড়
পর্দার
সংস্কারের
তালিকা
প্রণয়ন
করেছেন।
তার
বিশ্লেষণে
সাম্প্রদায়িকতা,
মৌলবাদ,
জঙ্গিবাদ,
উগ্রত্ব,
ফ্যাসিবাদ,
শ্বেতাঙ্গ
শ্রেষ্ঠত্ববাদ,
আধিপত্যবাদ,
ধর্মভিত্তিক
বর্ণবাদ
শোভন
রাষ্ট্র
বিনির্মাণের
মারাত্মক
প্রতিপক্ষ
ও
প্রতিবন্ধক।
কৃষি
ক্ষেত্রে
উৎপাদন
বাড়ানোর
লক্ষ্যে
ও
অনুকূলে
তিনি
বলেছেন,
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে
দরিদ্র
মানুষের
দারিদ্র্য
কিংবা
সামাজিক
বৈষম্য
কমায়
না,
দারিদ্র্য
অলসতা
কিংবা
উদ্যোগের
অপ্রতুলতায়
সৃষ্টি
হয়
না,
চাহিদা
বাড়লেই
দাম
বাড়ে
না
কিংবা
সরবরাহ
বাড়লেই
দাম
কমে
না,
উচ্চ
প্রবৃদ্ধি
হলেই
মূল্যস্ফীতি
ঘটে
না,
টাকা
ছাপলেই
মূল্যস্ফীতি
দেখা
দেয়
না।
তিনি
বলেছেন,
আমাদের
সমাজে
সামাজিক
প্রতিরক্ষণ
বিস্তৃত
না
করে
আমরা
প্রবৃদ্ধির
সুফল
সব
ঘরে
পৌঁছাতে
বা
নিশ্চিত
করতে
সক্ষম
হব
না।
এসবের
পরিপ্রেক্ষিতে
ড.
বারকাত
বাংলাদেশের
প্রবৃদ্ধি
ও
কর্মসংস্থান
বিষয়ে
পাঁচটি
প্রস্তাব
উত্থাপন
করেছেন—(১)
কর্মসংস্থানের
ব্যাপ্তি
বাড়ানোর
বিবেচনায়
প্রবৃদ্ধির
হার
বার্ষিক
১
দশমিক
শূন্য
১
শতাংশ
থেকে
১
দশমিক
৯৯
শতাংশে
সীমিত
রাখা,
(২) কর্মসংস্থানের
হার
৯১
শতাংশ
থেকে
৯৫
শতাংশে
বাড়ানো,
(৩) প্রবৃদ্ধির
জন্যই
প্রবৃদ্ধি
অর্জন
বা
অনুসরণ
না
করা,
(৪) আর্থসামাজিক
বৈষম্য
কমানো
এবং
(৫) সংবিধান
অনুযায়ী
সম্মানজনক
কর্মসংস্থান
নিশ্চিতকরণ।
তিনি
বলেছেন,
আর্থসামাজিক
রাজনৈতিক
লক্ষ্য
হিসেবে
এ
পাঁচটি
প্রস্তাব
আমাদের
গ্রহণ
করতে
হবে
(বড় পর্দায়
সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র:
ভাইরাসের
মহাবিপর্যয়
থেকে
শোভন
বাংলাদেশের
সন্ধানে,
আবুল
বারকাত,
পৃ.
২৪৩-২৪৪)।
তিনি
বলেছেন,
সমাজ
থেকে
আয়বৈষম্য,
সম্পদবৈষম্য,
স্বাস্থ্যবৈষম্য
ও
শিক্ষাবৈষম্য
বাজেট
বরাদ্দ
বাড়িয়ে
এবং
প্রয়োজনীয়
আইনি
ও
প্রশাসনিক
সংস্কার
এবং
পরিবর্তনের
মাধ্যমে
স্থায়ীভাবে
দূর
করতে
হবে।
তার
প্রস্তাবে
দেশের
অনগ্রসর
অঞ্চলগুলোর
অধিকতর
উন্নয়ন,
ক্ষুদ্র
জাতিগোষ্ঠী,
পাহাড়ি
ও
সীমান্ত
এলাকা,
আদিবাসী,
দলিত
সম্প্রদায়,
জেলে,
বেদেদের
দ্রুততর
উন্নয়নের
জন্য
সুনির্দিষ্ট
বাজেট
বরাদ্দ
থাকা
অভিপ্রেত।
এর
সঙ্গে
কৃষিপণ্যের
বিনিময়
হার
দেশের
শিল্পপণ্যের
তুলনায়
কৃষির
প্রতিকূল
যাতে
না
হয়,
তার
নিশ্চয়তা
দিতে
হবে।
১৯৮৪
সালের
ভূমি
সংস্কার
অধ্যাদেশ
অনুযায়ী
বর্গাস্বত্ব
আইন
দ্রুত
সংস্কার
ও
বাস্তবায়ন
করা
জরুরি
বলে
তিনি
আমাদের
দৃষ্টি
আকর্ষণ
করেছেন।
এলাকা
ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে
নারী-পুরুষের
সম-উত্তরাধিকারসহ
আইন
প্রণয়ন
করার
ওপর
তিনি
জোর
দিয়েছেন।
তার
বিশ্লেষণে
শিক্ষাকে
ব্যয়
হিসেবে
না
দেখে
মানুষ
ও
সমতা
সৃষ্টির
সর্বশ্রেষ্ঠ
সামাজিক
বিনিয়োগ
হিসেবে
বিবেচনা
করে
বরাদ্দ
বাড়াতে
হবে।
তার
মতে,
মাদ্রাসাশিক্ষাকে
দ্রুততার
সঙ্গে
বিজ্ঞান
ও
প্রযুক্তিশিক্ষায়
রূপান্তর
করতে
হবে
এবং
মৌলবাদ
ও
জঙ্গিবাদের
চারণভূমির
বৈশিষ্ট্য
থেকে
মুক্তি
দিতে
হবে।
তার
মতে,
স্বাস্থ্য
খাতকে
অর্থনৈতিক
ও
সামাজিক
উৎপাদনশীল
খাত
হিসেবে
বিবেচনা
করে
এ
খাতে
বিনিয়োগ
ব্যয়
কমপক্ষে
পাঁচ
গুণ
বাড়ানো
সমীচীন
হবে।
ড.
বারকাতের
মতে,
শিল্পায়নের
ক্ষেত্রে
নব্য
উদারবাদী
মনোভাব
ও
কার্যক্রম
বাদ
দিয়ে
রাষ্ট্রীয়
ও
সমবায়ী
উদ্যোগে
দেশজ
কৃষিভিত্তিক
উৎপাদন
কার্যক্রম
গ্রহণ
করতে
হবে
এবং
ভারী
শিল্পের
দিকে
অগ্রসর
হতে
হবে।
গবেষণা
ও
বিজ্ঞানচর্চায়
বরাদ্দকে
ব্যয়
বিবেচনা
না
করে
বিনিয়োগ
হিসেবে
বরাদ্দ
বাড়াতে
হবে।
বাজেটকে
জনকল্যাণমূলক
করার
লক্ষ্যে
সামাজিক
নিরাপত্তা
ও
কল্যাণ
ক্ষেত্রে
বাজেটের
১২
শতাংশ
এবং
গৃহায়ন
খাতে
৪
শতাংশ
বরাদ্দকরণ
লক্ষ্যানুগ
হবে।
ড.
বারকাতের
প্রস্তাব
অনুযায়ী
শিক্ষা,
স্বাস্থ্য,
সামাজিক
নিরাপত্তা
ও
সমাজকল্যাণ
খাতে
মোট
বরাদ্দ
বাজেটের
সমকালীন
২৭
শতাংশ
থেকে
প্রায়
৪০
শতাংশে
উন্নীত
করতে
হবে।
বাংলাদেশের
সমকালীন
কভিড-১৯
উৎসারিত
বিপর্যয়ের
শিকার
বিত্তহীন
ও
মধ্যবিত্তের
জীবন
ও
জীবিকা
বাঁচানোর
কর্মপ্রচেষ্টার
নিরিখে
ড.
বারকাতের
এ
ধরনের
প্রস্তাব
নীতিগতভাবে
অবশ্যই
প্রণিধান
ও
গ্রহণযোগ্য।
বড় পর্দায় সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র শীর্ষক বইয়ে গ্রন্থিত ড. বারকাতের উপরোক্ত সংস্কার ও পরিবর্তন প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে যথাসম্ভব পরিবর্তন ও সংস্কার আনলে দেশ ও সমাজ উন্নততর এবং প্রবৃদ্ধি দ্রুততর ও সাম্যধর্মী হবে বলে বলা চলে। প্রথাগত রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থবিজ্ঞানের পাঠ থেকে তার বিশ্লেষণ ও বিধানপত্র নিঃসন্দেহে প্রগতিশীল এবং আমাদের প্রথাগত সমাজবিজ্ঞানের অনুশাসন থেকে সাহসিক মাত্রায় ভিন্নতর। সমকালীন সমাজ ব্যবস্থাপনার সাহসী বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠিত সমালোচক সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি এজন্যই তাকে এ বই উপস্থাপনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। ড. বারকাতের বিশ্লেষণ ও মত অনুযায়ী সরকারের সমকালীন উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রমে ক্রমান্বয়ে সংস্কার আনলে তা জনহিতকর ও কুশলধর্মী হবে বলে সমর্থন করা যায়। বড় পর্দায় ড. বারকাত যে ধরনের ভিন্নতর, জনকুশলধর্মী ও সাহসী বিশ্লেষণ ও সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেছেন, সেজন্য তাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।
প্রশ্নোত্তর পর্ব
শ্রোতা-দর্শকদের প্রশ্ন এবং
ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের উত্তর (শ্রোতা-দর্শকদের
প্রশ্নের
বেশির
ভাগ
ক্ষেত্রে
গ্রন্থের
কোনো
না
কোনো
পৃষ্ঠার
উল্লেখ
করা
হয়েছে)
দেশে বৈষম্যের তীব্র বিস্তার ঘটছে।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: হ্যাঁ, দেশে
বৈষম্য
আছে
এবং
সেই
বৈষম্য
দূর
করার
জন্যই
কিন্তু
আজকে
এ
আলোচনা।
বৈষম্য
দূরীকরণের
জন্যই
ড.
আবুল
বারকাত
তার
তরফ
থেকে
যা
জোরেশোরে
বলা
প্রয়োজন,
নির্ভয়ে
বলা
প্রয়োজন,
তা
তিনি
বলেছেন।
আমরা
সবাই
যদি
অর্থাৎ
অর্থনীতির
যারা
ছাত্র,
শিক্ষক
কিংবা
আমরা
যারা
ব্যবহারবিদ,
তারা
যদি
বৈষম্য
সম্পর্কে
সচেতন
থাকি,
তাহলে
নিশ্চিতভাবে
জনকল্যাণে
এ
বৈষম্য
দূর
করার
জন্য
যেসব
পদক্ষেপ
নেয়া
প্রয়োজন,
আমাদের
তরফ
থেকে
সেসব
পদক্ষেপ
শনাক্ত
করতে
সক্ষম
হব।
পূর্ব পাকিস্তানের কৃষকের শ্রমে
রফতানি আয়ের
৪১ শতাংশ
পশ্চিম পাকিস্তান সরাসরি আত্মসাৎ করত।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: তত্কালীন পূর্ব
পাকিস্তানের
আয়কৃত
বা
অর্জিত
বৈদেশিক
মুদ্রা
এ
দেশে
ব্যবহূত
হয়নি,
সঞ্চারিত
হয়নি।
সেসব
মুদ্রা
পশ্চিম
পাকিস্তানে
চলে
গেছে,
যেটা
বৈষম্যের
নামান্তর
বলে
আমরা
মনে
করি।
আমাদের
স্বাধীনতা
সংগ্রামের
সময়
আমরা
এর
যে
তাত্ত্বিক
বৈশিষ্ট্য
এবং
ভিত্তি
তা
পৃথিবীর
কাছে
উপস্থাপন
করেছি,
যেখানে
এ
তথ্যগুলো
সন্নিবেশিত
আছে।
প্রণোদনা প্যাকেজের ১ পয়সাও
ধনীদের নগদ
অর্থে দেয়া
উচিত না।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: এ ব্যাপারে
আমি
মনে
করি,
এ
সংখ্যাটা
অত
বেশি
হবে
না
বলে
আমরা
নিশ্চিত।
তবে
হ্যাঁ,
যে
বৈষম্যের
কথা
এখানে
পরস্ফুিটিত
হয়েছে,
সেই
বৈষম্য
যাতে
আমাদের
রাষ্ট্র
পরিচালনার
ক্ষেত্রে,
অর্থ
ব্যবস্থাপনার
ক্ষেত্রে
উদ্ভূত
হতে
না
পারে
এবং
এরই
মধ্যে
যা
উদ্ভূত
হয়েছে,
তা
যেন
যথাযথভাবে
নিচে
নামিয়ে
আনতে
পারি,
সেজন্য
আমাদের
সবাইকে
সচেতন
ও
সচেষ্ট
থাকতে
হবে।
মানুষের স্বাস্থ্য এখন জিম্মি।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
কতিপয়
লোকের
হাতে
জিম্মি
হয়ে
আছে—এমনটা
আমি
মনে
করি
না।
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থায়
যে
নিপুণতার
অভাব
আছে,
সে
ব্যাপারে
আমার
কোনো
সন্দেহ
নেই।
কিন্তু
কতিপয়
লোকের
হাতে
চলে
গেছে
সেটা
বলা
ঠিক
হবে
না।
এ
প্রসঙ্গে
আমি
বলতে
চাই
যে
কাঠামোগতভাবে
বাংলাদেশই
বোধহয়
পৃথিবীর
একমাত্র
দেশ,
যেখানে
গড়ে
প্রতি
১৫
হাজার
লোকের
জন্য
একটি
স্বাস্থ্যসেবা
কেন্দ্র
স্থাপন
এরই
মধ্যে
করা
হয়ে
গেছে
কিংবা
করার
শেষ
পর্যায়ে
আছে।
এসব
স্বাস্থ্যকেন্দ্র
যেগুলো
আমরা
স্থাপন
করছি
সাধারণ
মানুষের
জন্য,
তা
যদি
সুচারুভাবে
পরিচালিত
করতে
পারি,
তাহলে
যে
অভিযোগ
উত্থাপিত
হয়েছে,
আমাদের
সম্পদ
ব্যবস্থাপনার
ক্ষেত্রে,
তা
এ
মাত্রায়
উত্থাপিত
হবে
না।
আয়-সম্পদ-স্বাস্থ্য-শিক্ষাবৈষম্য ক্রমাগত বাড়তে
থাকলে নিরাপত্তার হুমকিতে পড়ে।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: আয়বৈষম্য প্রকট
হলে
তা
আমাদের
নিরাপত্তার
প্রতিকূল।
হ্যাঁ,
আমি
এ
ব্যাপারে
একমত।
আয়বৈষম্য
প্রকট
হলে
তা
মানুষের
নিরাপত্তার
প্রতিকূলে
যায়,
সে
ব্যাপারে
কোনো
সন্দেহ
নেই।
এ
ব্যাপারে
আমাদের
সবাইকে
সচেতন
হতে
হবে।
এখানে
উপস্থিত
সবাই
এবং
ড.
আবুল
বারকাত,
যারা
এ
ব্যাপারে
জোর
দিয়ে
বারবার
বলছেন,
তাদের
আমি
ধন্যবাদ
জানাই।
এ
উৎসাহ
যদি
অব্যাহত
থাকে,
তবে
আমি
নিশ্চিত
এক্ষেত্রে আমরা
যে
অপূর্ণাঙ্গতা
লক্ষ
করছি,
তা
সফলভাবে
দূর
করতে
সক্ষম
হব।
কালো টাকা
সাদা করা
নীতিগতভাবে কতটা
সমর্থনযোগ্য?
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: হ্যাঁ। বাজেটে
গত
বছর
যারা
যে
আয়
করেছেন,
তার
যে
অংশ
তারা
আয়করের
আওতায়
আনার
প্রস্তাব
করেননি
বা
উপস্থাপন
করেননি,
তারা
১০
শতাংশ
কর
দিয়ে
তা
আয়করের
আওতায়
আনতে
পারবেন—এটা
নীতিগতভাবে
সবাই
আমরা
সমর্থন
করব,
সেটা
আমি
আশা
করছি
না।
তবে
এখানে
পরিচালন
দৃষ্টিতে
আমাদের
একটা
বিষয়
মনে
রাখতে
হবে
যে
আমরা
প্রায়
১০
বছর
ধরে
এমনকি
তারও
আগে
থেকে
এ
ধরনের
অপ্রদর্শিত
আয়কে
প্রদর্শিত
করার
ক্ষেত্রে
সন্দীপনীয়
শর্ত
আয়কর
আইনে
এনেছি।
তথাপি
কিছু
সফলতা
এসেছে,
সার্বিক
সফলতা
আসেনি।
এখানে
যে
কথাটি
পরিচালন
ও
ব্যবহারিক
দৃষ্টিকোণ
থেকে
আমাদের
মনে
রাখতে
হবে,
১০
শতাংশ
জরিমানা
দিয়েও
একবার
যদি
তা
প্রদর্শন
করেনই,
তাহলে
কিন্তু
তিনি
আয়করের
জালে
আটকে
গেলেন।
পরবর্তী
বছর
তাকে
পূর্ণাঙ্গ
আয়কর
দিতে
হবে।
যেখানে
আমাদের
সামাজিক
অথবা
প্রশাসনিক
দুর্বলতার
কারণে
সব
অপ্রদর্শিত
আয়
প্রদর্শন
করতে
সক্ষম
নই,
সেখানে
একবার
প্রদর্শন
করার
সুযোগ
দিয়ে
তাদের
সবাইকে
যদি
পরবর্তী
বছরগুলোর
জন্য
আয়করের
বেড়াজালে
আবদ্ধ
করা
যায়,
তাহলে
সেটা
সামাজিকভাবে
আমাদের
সবার
জন্য
লাভজনক
হবে
বলে
মনে
করি।
অনুৎপাদনশীল আর্থিকীকরণকৃত-রেন্টসিকিং পুঁজি
সব খেয়ে
ফেলছে। সরকারের লক্ষ-কোটি
টাকা প্রণোদনার কতটুকু দরিদ্র
জনগণ পাচ্ছে?
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: মহামন্দা দূর
করার
জন্য
যে
প্রণোদনা
দেয়া
হয়েছে
তা
নিশ্চিতভাবে
দরিদ্রদের
পুরোপুরি
সহায়তা
করছে
না।
তবু
আমাদের
মনে
রাখা
দরকার,
এ
প্রণোদনার
ভিত্তিতে
ক্ষুদ্র
ও
মাঝারি
শিল্পকে
যদি
আমরা
বাঁচাতে
পারি,
প্রসারিত
করতে
পারি
এবং
সেখানে
যদি
কর্মসংস্থানের
মাত্রা
অপরিবর্তিত
থাকে
বা
বাড়ে,
তাহলে
এটা
জনস্বার্থে
প্রযোজ্য
হয়েছে
বলে
ধরে
নেয়া
যেতে
পারে।
যত বেশি
প্রবৃদ্ধি তত
বেশি বহুমাত্রিক দারিদ্র্য। ৭০-৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফল ১-২ শতাংশ ধনীর
হাতে।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: এটা ঠিক
এভাবে
বলা
বা
গ্রহণ
করা
আমার
মনে
হয়
ঠিক
নয়।
ঠিক
নয়
এজন্য,
আমরা
বলতে
চাইছি
যে
কেবল
নির্বিচার
প্রবৃদ্ধির
ওপর
জোর
দিলে
দারিদ্র্য
কমবে
না।
কিন্তু
তার
অর্থ
এই
নয়
যে
প্রবৃদ্ধিকে
বাদ
দিয়ে
আমরা
দারিদ্র্য
কমিয়ে
রাখতে
পারব।
মনে
রাখতে
হবে,
আমরা
সবকিছু
বিতরণ
করতে
পারি
কিন্তু
দারিদ্র্য
বিতরণ
করা
সম্ভব
নয়।
বাংলাদেশ এখন
বিপজ্জনক আয়বৈষম্যের দেশ।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: হ্যাঁ, আমাদের
এ
অসমতা
দূর
করতে
হবে।
কারণ
স্রষ্টার
সৃষ্টির
সব
মানুষকে
সমান
মনে
করে
সবার
জন্য
উপরে
ওঠার
সিঁড়ি
উন্মোচিত
রাখতে
হবে।
সবার
উপরে
ওঠার
সিঁড়ি
যদি
উন্মোচিত
রাখি
তাহলে
সত্যি
একটা
চলিষ্ণু
এবং
প্রগতিশীল
অর্থ
ও
সমাজ
ব্যবস্থা
আমরা
অন্তর্বর্তীকালীন
এ
সময়ে
সৃজন
করতে
সক্ষম
হব
বলে
আমি
বিশ্বাস
করি।
কৃষি থেকে
শিল্প উন্নয়ন
বাদ দিয়ে
সেবা পর্যায়ে আমরা উৎপাদনক্ষমতা সৃজন করার
চেষ্টায় প্রবৃত্ত আছি।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: এ কথাটা
বোধহয়
সঠিক
নয়।
এটা
ঠিক
যে
আমরা
শিল্পকে
অনেক
অবহেলা
করেছি।
কিন্তু
শিল্পকে
বাদ
দিয়ে
চট
করে
আমরা
সেবায়
চলে
যাব;
তার
ভিত্তি
তো
আমাদের
পেতে
হবে,
যা
পেতে
হলে
কৃষির
পর
শিল্প
এবং
শিল্পের
পর
আমাদের
সেবায়
যেতে
হবে।
তবে
মনে
রাখতে
হবে,
কৃষি-শিল্প-সেবা
প্রায়
একযোগে,
সম্মিলিতভাবে
সব
মানুষের
প্রচেষ্টার
হূদয়
হিসেবে
আমাদের
গ্রহণ
ও
ব্যবহার
করতে
হবে।
বিশ্বব্যাংক ও
আইএমএফের লোকজন
প্রায়ই বাংলাদেশে কেন আসে,
এতে আমাদের
কী উপকার?
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: সব ক্ষেত্রে
তাদের
পরামর্শ
নেতিবাচক
নয়।
দু-এক
ক্ষেত্রে
তা
নেতিবাচক
হতে
পারে।
মনে
রাখা
দরকার,
আইএমএফ
বা
বিশ্বব্যাংক
আমাদের
উপদেশ
দেয়,
তবে
এখন
পর্যন্ত
কোনো
কিছু
আমাদের
ওপর
জোর
করে
চাপিয়ে
দেয়নি।
তাদের
উপদেশ
ভিন্নতর
দৃষ্টিকোণ
থেকে
দেখে
যদি
আমাদের
তরফ
থেকে
প্রণীত
অর্থনৈতিক
প্রস্তাবগুলো
পরিশীলিত
করতে
পারি
তাহলে
সবার
জন্য
মঙ্গলকর
হবে।
গত
সপ্তাহে
বিশ্বব্যাংক
কভিড-১৯
অতিমারীর
জন্য
যে
সহায়তা
দিয়েছে,
তাকে
আমরা
স্বাগত
জানাই।
সব
ক্ষেত্রে
বিশ্বব্যাংক
যে
খারাপ
কাজ
করে,
সেটা
বলা
ঠিক
হবে
না।
১৯৪৪
সালে
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের
ব্রেটন
উডস
চুক্তি
অনুযায়ী
যে
প্রতিষ্ঠানগুলো
সৃষ্টি
হয়েছিল,
সেগুলো
তাদের
সীমাবদ্ধতার
পরও
এ
পৃথিবীতে
বাণিজ্য
সম্প্রসারণে
এবং
আর্থিক
বিনিয়োগবর্ধনে
মোটামুটি
ইতিবাচক
ভূমিকা
রেখেছে
বলে
আমরা
বলতে
পারি।
আমরা
যতটুকু
ফল
পেয়েছি,
এদের
অবর্তমানে
ততটুকু
ফল
অর্জন
করতে
সক্ষম
হতাম
না।
শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও
শিক্ষার গুণগত
উত্কর্ষ বাড়াতে
হবে।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: অবশ্যই শিক্ষার
উত্কর্ষ
বাড়াতে
হবে।
বাংলাদেশে
এখন
৫-১২
বয়সের
সব
শিশু
প্রাথমিক
শিক্ষা
পাচ্ছে।
১০৬টি
বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে।
বাংলাদেশে
সাক্ষরতার
হার
প্রায়
৮৫
শতাংশে
উন্নীত
হয়েছে।
সব
ক্ষেত্রে
যদি
আমরা
জ্ঞান-বিজ্ঞানকে
ভিত্তি
করে
গুণগত
উত্কর্ষ
বাড়াতে
চাই,
তাহলে
নিশ্চিতভাবে
শিক্ষাকে
আমাদের
উন্নয়নের
বড়
উপকরণ
হিসেবে
ব্যবহার
করতে
হবে।
শিক্ষক
ও
শিক্ষার
ওপর
আমরা
যত
বেশি
জোর
দেব,
আমাদের
জন্য
তত
বেশি
মঙ্গলজনক
হবে।
শতকরা ৩৫
ভাগ সরাসরি
বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিএ) এবং
সেকেন্ড রাউন্ড
বেইল আউট।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: আমরা আমাদের
সঞ্চয়
বা
বিনিময়যোগ্য
যে
সম্পদ
শনাক্ত
করতে
সক্ষম
হয়েছি,
আমাদের
জাতীয়
আয়ের
৩৫
শতাংশ
ব্যবহারের
জন্য
অষ্টম
পঞ্চবার্ষিক
পরিকল্পনা
করেছি।
এটা
আমাদের
জন্য
মোটামুটিভাবে
প্রচেষ্টার
জন্য
ভালো
হবে।
এক্ষেত্রে
ড.
বারকাত
যেসব
সংস্কার
প্রস্তাব
আমাদের
দিয়েছেন,
আমরা
সম্পন্ন
না
করে
সেটা
করতে
পারব
না।
আর
২৫
লাখ
কর্মসৃজন
করার
কথা
যেটা
বলেছেন,
আমি
সে
ব্যাপারে
একমত।
বিদেশী
বিনিয়োগ
আমাদের
প্রস্তাবিত
বিনিয়োগের
চেয়ে
কম
হবে।
গত
বছরও
কম
হয়েছে।
বিদেশী
বিনিয়োগ
আমরা
সব
ক্ষেত্রে
গ্রহণ
করি
না।
বিদেশী
বিনিয়োগের
প্রতি
আমাদের
যে
নির্ভরশীলতা,
সেটা
আমরা
সৌভাগ্যবশত
কমাতে
সক্ষম
হয়েছি।
প্রয়োজন
হলে
সেকেন্ড
রাউন্ড
বেইল
আউট
করতে
হবে।
‘কর ব্যবস্থা’
এক ধরনের
দাসত্ব।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: কর ব্যবস্থার
উত্পত্তির
ঐতিহাসিক
সত্য
সম্পর্কে
ড.
বারকাত
তার
গ্রন্থে
যে
কথা
বলেছেন,
অর্থাৎ
আমরা
যে
অসম
সমাজ
ব্যবস্থায়
বাস
করি,
এ
কর
ব্যবস্থা
তার
উদ্ভাবন।
হ্যাঁ,
নিশ্চিতভাবে
তারই
উদ্ভাবন।
তবে
হ্যাঁ,
এই
উদ্ভাবিত
ব্যবস্থা
ছাড়া
উদ্বৃত্ত
সম্পদ
যে
গোষ্ঠীর
কাছে
আছে,
তার
কাছ
থেকে
রাষ্ট্র
ও
সমাজের
কল্যাণে
আহরণ
করতে
সক্ষম
হতাম
না।
এ
কর
ব্যবস্থা
উন্নত
করা
ও
সংস্কারের
সুযোগ
যথেষ্ট
বিস্তৃত।
কিন্তু
এ
কর
ব্যবস্থাকে
বাদ
দিয়ে
কিছু
করতে
পারব,
সমাজ
ব্যবস্থা
পরিচালন
করতে
পারব,
এটা
বোধহয়
আমরা
বলছি
না।
সেই
দৃষ্টিকোণ
থেকে
আমাদের
তরফ
থেকে
যেসব
প্রস্তাব,
সেগুলো
যদি
আমরা
উত্থাপন
করি,
তাহলে
তা
সবার
জন্য
অনুধাবন
করা
সহজ
হবে।
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক মতাদর্শ ধর্মীয়
ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে
ব্যবহার
করার
চেষ্টা
নিশ্চিতভাবে
হচ্ছে।
ধর্মকে
যাতে
কোনোভাবে
কখনো
রাজনৈতিকভাবে
ব্যবহার
করা
না
হয়,
তার
দিকে
আমাদের
প্রখর
দৃষ্টি
দিতে
হবে।
আমাদের
সংবিধানে
সুস্পষ্টভাবে
সবার
সমান
অধিকারের
কথা
বলা
হয়েছে
এবং
একটি
ধর্মান্ধ
রাষ্ট্র-সমাজ
যাতে
সৃষ্টি
না
হয়,
সেজন্য
প্রখর
নজর
রেখে
আমরা
যাতে
সবার
অধিকারসমৃদ্ধ
একটি
অসাম্প্রদায়িক
রাষ্ট্র
সৃষ্টি
ও
পরিচালন
করতে
পারি,
সেজন্য
আমাদের
অনুশাসন
আছে
সংবিধানে।
এ
বক্তব্যের
নির্যাসকে
আমি
স্বাগত
জানাই।
অর্থনীতিশাস্ত্র নিয়ে
গুরুতর পুনর্ভাবনা জরুরি।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: যে মাত্রায়
বা
যে
অবয়বে
তথাকথিত
ধনবাদী
সমাজে
এই
বিত্তবানরা
আছেন,
তাদের
কর্মতত্পরতা
যদি
আমরা
আলোচনা
করি,
তাহলে
বলতে
হয়
কিছু
ক্ষেত্রে
তারা
আছেন।
এই
যে
ব্রিটেনের
কর্নওয়ালে
জি৭
জোটের
বার্ির্ষক
অধিবেশন
হয়েছে,
সেখানে
কভিড
নিয়ন্ত্রণে
কী
কী
পদক্ষেপ
সামগ্রিকভাবে
নেয়া
যায়,
তা
নিয়ে
বিশ্লেষণ
করা
হয়েছে।
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের
মেলিন্ডা
গেটস
একটি
ভ্যাকসিন
উদ্ভাবনের
কেন্দ্র
করেছেন।
ভারতের
টাটার
কলকারখানায়
কিন্তু
শ্রমিকদের
প্রতিনিধিত্ব
আছে,
সেখানে
শ্রমিক
ধর্মঘট
হবে
বলে
আমরা
মনে
করি
না।
ধনবাদী
ব্যবস্থা
সর্বদা
দারিদ্র্যের
প্রতিকূলে
কাজ
করে,
তেমনটা
বলা
সব
ক্ষেত্রে
সত্য
হবে
না।
অর্থনীতি
বা
অর্থ
ব্যবস্থার
সংস্কারের
যে
প্রস্তাব
ড.
বারকাত
করেছেন,
সে
প্রস্তাবগুলো
আমরা
ক্রমান্বয়ে
গ্রহণ
করে
যাব।
কিন্তু
গ্রহণ
করার
আগে
এরই
মধ্যে
যে
ব্যবস্থা
আমাদের
ইতিবাচক
ফল
দিয়েছে,
সেগুলো
উপড়ে
ফেলে
দেব,
সেটা
বোধহয়
বুদ্ধিমানের
কাজ
হবে
না।
চাহিদা বাড়লে
দাম বাড়ে,
সরবরাহ বাড়লে
দাম কমে—এ
এক
মহাভ্রান্ত
তত্ত্ব।
মহিউদ্দিন খান
আলমগীর: এটা সমকালীন
অর্থবিজ্ঞানের
সূত্র।
এটা
নিয়ে
নতুন
করে
আলোচনার
কিছু
নেই।
তেমনিভাবে
চাহিদা
কমলে
দাম
কমে
যায়,
এটাও
কিন্তু
সমকালীন
অর্থশাস্ত্রের
যে
বিশ্লেষণ,
সেখানে
প্রতিভাত
নয়।
১৯৪৩
সালের
দুর্ভিক্ষের
বিশ্লেষণ
করে
অমর্ত্য
সেন
নোবেল
পেয়েছেন।
সাম্প্রতিককালে
জোসেফ
স্টিগিলজ
যে
কথাগুলো
বলেছেন,
তা
বিশ্লেষণ
করলে
দেখব,
এখানে
চাহিদা
বা
সররবাহ
নিয়ন্ত্রণের
সঙ্গে
সঙ্গে
অন্য
যেসব
অর্থনৈতিক
হাতিয়ার
আছে,
সেগুলো
যদি
সঠিকভাবে
আমরা
প্রয়োগ
করতে
সক্ষম
হই,
তাহলে
প্রথাগতভাবে
চাহিদা
বাড়লে
দাম
বাড়বে
কিংবা
চাহিদা
কমলে
দাম
কমবে—এটা
বিশ্বাস
করার
কোনো
কারণ
নেই
এবং
এ
বিশ্বাস
গ্রহণ
না
করে
আমাদের
রাষ্ট্রের
তরফ
থেকে
আর্থসামাজিক
যে
পদক্ষেপগুলো
গ্রহণ
করা
দরকার,
তার
জন্য
আমরা
এগিয়ে
যেতে
পারি।
ড. বারকাত
যে
গ্রন্থ
রচনা
করেছেন,
তার
যে
ধরনের
বিশ্লেষণ—আর্থসামাজিক
বিশ্লেষণ
আমাদের
সামনে
উপস্থাপিত
হয়েছে,
বাংলাদেশের
গত
৫০
বছরের
ইতিহাসে
এই
সমতুল্য
বিশ্লেষণ
এর
আগে
উপস্থাপিত
হয়নি।
আমাদের সমাজ সংস্কার করতে হবে, আমাদের রাজনীতি সংস্কার করতে হবে, আমাদের সবার জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে এবং এ দৃষ্টিকোণ থেকে সব গ্রহণযোগ্য তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে সামষ্টিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োগ করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও মূল্যবান গ্রন্থ আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।





