প্লাস্টিক সেক্টর বাংলাদেশে একটি প্রতিশ্রুতিশীল ও দ্রুতবর্ধনশীল খাত। বাংলাদেশে রফতানির ৮০ শতাংশেরও অধিক রফতানি তৈরি পোশাক খাত করে থাকে বলে রফতানি বহুমুখীকরণে অন্য কিছু খাতের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে প্লাস্টিক শিল্প একটি বিশেষ অভিনিবেশের দাবিদার, কারণ বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি রফতানি এবং ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরোক্ষ প্লাস্টিকপণ্য রফতানি হয়। বাংলাদেশের রফতানি নীতি ২০১৮-২০২১ এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারসম্পন্ন খাত হিসেবে প্লাস্টিক খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জীবনমানের উন্নয়নেও প্লাস্টিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিবিধ পণ্যের মোড়ক হিসেবে প্লাস্টিক হালকা, সস্তা, অপচনশীল, পানি ও বায়ুনিরোধক এবং বহু দিক দিয়ে সুবিধাজনক।

দেশীয় উৎপাদনের ধারা ভালো থাকা সত্ত্বেও প্লাস্টিক খাত থেকে রফতানি আয় সন্তোষজনক নয়। প্যাকেজিং উপকরণ ও আনুষঙ্গিকের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে রফতানি কিছুটা বেশি হলেও সরাসরি রফতানি অনেক কম। উচ্চ সম্ভাবনাময় এ শিল্প এখনো বাংলাদেশের মোট রফতানির মাত্র ৩ শতাংশ (প্রত্যক্ষ ও স্বীকৃত রফতানিসহ) অবদান রাখে। প্লাস্টিক মার্কেট-গ্লোবাল ও রিজিওনাল অ্যানালাইসিস এবং প্লাস্টিক মার্কেট সাইজ, শেয়ার, ট্রেন্ড নামক দুটি রিপোর্ট অনুসারে ২০২০ সালে বৈশ্বিক প্লাস্টিক বাজারের মূল্যমান ছিল ৫৭৯.৭০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬২১.৯০ বিলিয়ন ডলার। আশা করা যায় যে ২০২৮ সালে বৈশ্বিক প্লাস্টিক বাজারের মূল্যমান হবে ৭৫০.১ বিলিয়ন ডলার। রিপোর্ট অনুসারে ২০২১ থেকে ২০২৮ এ খাতের সিএজিআর প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৪ শতাংশ। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে ২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাতের রফতানি আয় ছিল ১১৫.২৮ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২০ অর্থবছরে যা ছিল ১০০.৫২ মিলিয়ন ডলার।

বৈশ্বিক চাহিদার একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ বর্তমানে এ দেশ থেকে রফতানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ রফতানি বহুগুণে বাড়ানোর সম্ভাবনা ও প্রয়োজন এ দেশের প্লাস্টিক খাতের রয়েছে। দেশীয় বাজারেও প্লাস্টিক পণ্য ও মোড়কের চাহিদা বাড়ছে, কারণ বাজার অর্থনীতির বিকাশ এবং দেশের অর্থনৈতিক সচলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ দেশের মানুষ ক্রমাগত প্লাস্টিকপণ্য ও মোড়কের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি সংক্রামক নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে মেডিকেল পিপিইর (এমপিপিই) চাহিদা বেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফেস মাস্ক, চশমা এবং মুখোশ বা মাস্ক, গ্লাভস, গাউন, হেড কভার, রাবার বুট ইত্যাদি। এছাড়া হাসপাতালের স্যালাইন ব্যগ, স্ট্যান্ড, হ্যান্ড স্যানিটাইজার কনটেইনার ইত্যাদির ব্যবহার বেড়েছে। মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণে এবং ই-কমার্স শপিং এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের হোম ডেলিভারির জন্য প্যাকেজিং উদ্দেশ্যে ক্যারি ব্যাগ এবং অন্যান্য ধরনের প্লাস্টিকের চাহিদা বেড়েছে।

মোটকথা, প্লাস্টিক পণ্যের বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও রফতানির ধরন-ধারণ ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের রফতানি সাফল্যের জন্য এভাবে উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রয়োজন হবে বলে মনে করা যায়। পরিবর্তিত বৈশ্বিক মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য উৎপাদন ক্ষমতা বিকাশ করা সম্ভব হলে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতিতেও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্প অপ্রচলিত খাতের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নতুন। প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন এ দেশে শুরু হয় খুব সীমিত আকারে ১৯৭০-এর দশকে যখন পাটকল, খেলনা, চুড়ি, ছবির ফ্রেম এবং অন্যান্য মৌলিক পণ্যের খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন হতো। শিল্পটি বিকশিত হতে পরবর্তী দুই দশক বা তারও বেশি সময় নিয়েছিল।

১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে বহু ইনজেকশন গ্রেড এবং ফিল্ম গ্রেড প্লাস্টিক সেটআপের কারখানা হয়। নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যনীতি সংস্কার এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা প্লাস্টিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্লাস্টিক শিল্প রফতানি মানের প্যাকেজিং উপকরণ এবং পোশাক শিল্পের আনুষঙ্গিক সরবরাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

দুই দশক ধরে দেশীয় প্লাস্টিক শিল্প বিভিন্ন বড় ও মাঝারি শিল্পের দ্বারা আধুনিক প্রযুক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতিশীলতা বজায় রেখেছে। স্থানীয় বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে উৎপাদন বাড়ছে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে দেশীয় চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাতের বিকাশ

১৯৬০-এর দশকে হাতে তৈরি ছাঁচ ব্যবহার করে খেলনা, চুড়ি ও ছবির ফ্রেমের মতো ছোট জিনিস তৈরি করা হতো। ১৯৭০-এর দশকে তৈরি করা হয় প্লাস্টিকের জগ ও প্লেটের মতো গৃহস্থালির বিভিন্ন তৈজসপত্র, প্রাথমিক মেশিনভিত্তিক উৎপাদন। ১৯৮০-এর দশকে প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির জন্য ফিল্ম-ব্লোয়িং মেশিন। ১৯৯০-এর দশকে প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বিশেষ করে রফতানিযোগ্য পোশাকের জন্য হ্যাঙ্গার তৈরি করা হতো। ২০০০-এর দশকে এসে ছাঁচযুক্ত প্লাস্টিকের চেয়ার ও টেবিলের ব্যাপক উৎপাদন; ঘূর্ণমান ছাঁচনির্মাণ মেশিন থেকে পানির ট্যাংক; স্থানীয়ভাবে তৈরি মেশিন ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষমতা উন্নয়ন হয়। ২০১০-এর দশকে জটিল আইটেম উৎপাদন; বড় আকারের উৎপাদন; স্থানীয়ভাবে ছাঁচ তৈরির জন্য আমদানীকৃত সিএনসি (কম্পিউটার সংখ্যাসূচক নিয়ন্ত্রণ) মেশিনের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ২০২০-এর দশকে এসে মেডিকেল পিপিইর স্থানীয় চাহিদা পূরণ, ক্যারি ব্যাগ ও প্যাকেজিং ব্যাগ তৈরিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়।

যাত্রার প্রাথমিক পর্যায়ে এবং সাম্প্রতিক অবস্থানে না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্প কেবল কয়েকটা দৈনন্দিন গৃহস্থালি সামগ্রী উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯০-এর দশক থেকে অনুকূল নীতিগত উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার পোশাক শিল্পের বিকাশ, প্লাস্টিকপণ্যের পরিসরের সম্প্রসারণকে সহজতর করেছে। বর্তমানে খাতটি গৃহস্থালি এবং শিল্প উভয় চাহিদা পূরণের জন্য প্রশংসনীয়।

প্লাস্টিক শিল্প আজ কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের অন্যতম উৎস এবং অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য স্তম্ভ। প্লাস্টিক শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বহুগুণ প্রভাব ফেলবে। স্বাস্থ্যসেবা, শক্তি উৎপাদন, মহাকাশ, মোটরগাড়িসংক্রান্ত, সামুদ্রিক, নির্মাণ, ইলেকট্রনিকস, প্যাকেজিং, টেক্সটাইল ইত্যাদি অনেক পণ্য এবং প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের অন্যতম চাবি হিসেবে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্লাস্টিক খাতের পরিবেশবান্ধব বিকাশে উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বা ইপিআর মডেল

এ যুগে শিল্পের উন্নয়ন প্রশ্নের সঙ্গে সামাজিক দায় এবং পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটি নিবিড়ভাবে জড়িত। প্লাস্টিক খাতের বিকাশের ক্ষেত্রেও তাই সামাজিক ও পরিবেশগত দিকগুলোকে আমলে নেয়া অত্যাবশ্যক। প্লাস্টিকের উৎপাদন সরাসরি গুরুতর পরিবেশদূষণ করে না। কিন্তু প্লাস্টিকপণ্য বা মোড়ক ব্যবহার করার পরে যখন তা বর্জ্য হয়ে ওঠে তখন তা পরিবেশদূষণের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এ বর্জ্যকে আমরা বলব ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য। পৃথিবীজুড়ে এ ব্যবহার-পরবর্তী প্লাস্টিক বর্জ্য ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ পরিবেশে জমা হতে থাকা এ অপচনশীল বর্জ্য পৃথিবীর মাটি, পানি, অবকাঠামো, সামুদ্রিক প্রাণ ও নিখিল জীবজগতের নানাবিধ ক্ষতির কারণ হয়।

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, ভোক্তা, পরিবেশবাদী কর্মীরা প্লাস্টিকের বর্জ্যের শনৈঃ শনৈঃ বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কিছু গবেষণায় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে ২০৫০ সাল নাগাদ প্লাস্টিক বর্জ্য বিশ্বের মহাসাগরে থাকা মাছের চেয়ে বেশি ওজনদার হবে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ব্যবহারের মাথাপিছু হার উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম। তবে মনে রাখতে হবে যে এ হার দ্রুত বাড়ছে এবং বিশেষ করে নগরাঞ্চলে এ হার ক্রমেই ফুলেফেঁপে উঠছে। ঢাকা শহরে গড়ে একজন ব্যক্তি প্রতি বছর ২৩ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করে বলে গবেষণায় জানা যায়। তবে বাংলাদেশের পরিবেশে প্লাস্টিক বর্জ্য সবই দেশীয় উৎস থেকে আসে না, বরং বাংলাদেশের উজানের প্রতিবেশীদের ব্যবহার করা প্লাস্টিক বর্জ্যও নদীপথে এ দেশে ভেসে এসে পরে সমুদ্রবক্ষে গিয়ে পড়ে। প্রতি বছর প্রায় ৭৩০০০ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের নদনদীর মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে বয়ে যায়।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাতকেও ভাবতে হবে যে পরিবেশ নিয়ে এই ক্রমে বাড়তে থাকা উদ্বেগকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায়। কারণ আমরা যদি প্লাস্টিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে ক্রমেই প্লাস্টিক প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প নীতি অনুসন্ধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার, বেসরকারি খাত, ভোক্তা, নাগরিক সমাজসহ সব অংশীজনকে যথাযথ ভূমিকা নিয়ে একটি নীতিকাঠামো তৈরি করা অত্যাবশ্যক। আগেই বলেছি ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্যই প্লাস্টিক খাতের মূল পরিবেশগত সমস্যা। এ ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বে একটি ধারণা ২০ বছর ধরে ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ধারণাটি হলো উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বা এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি, সংক্ষেপে ইপিআর। উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বলতে বোঝায় যে প্লাস্টিকপণ্য বা মোড়ক উৎপাদকদের ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা বা পুনঃচক্রায়ণে ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব, জার্মানির মতো উন্নত দেশ থেকে শুরু করে ভারতের মতো স্বল্পোন্নত দেশে এ উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব বা ইপিআর বাস্তবায়নের জন্য নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চলে এসেছে। প্লাস্টিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যও বাংলাদেশে ইপিআর ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইপিআর মূলত ব্যবহার-পরবর্তী প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ণসহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করায় উৎপাদক বা ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে। বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো বর্জ্য সংগ্রহে মূল ভূমিকা রাখে। তবে জৈব বর্জ্য এবং অজৈব ও প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা এ দেশে নেই। সব বর্জ্যই একত্রে সংগ্রহ করা হয়। আবার সংগ্রহের পরে এই বর্জ্যের পুনঃচক্রায়ণে কিন্তু এ দেশে সক্ষমতা খুবই সীমিত। বাংলাদেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হলে অবশ্যই জৈব-অজৈব বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা এবং পুনঃচক্রায়ণের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো ভীষণ জরুরি।

বাংলাদেশে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্যের কত অংশ রিসাইকেল তথা পুনঃচক্রায়ণ হয় তা নিয়ে পরস্পর-ভিন্ন নানা হিসাব পাওয়া যায়। একটি হিসাব অনুসারে ৩৮ শতাংশ, আরেক হিসাব অনুসারে ৮৩ শতাংশ পুনঃচক্রায়ণযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃচক্রায়িত হয়। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে দেশের পুনঃচক্রায়ণ সক্ষমতা প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্রমবর্ধমানতা মোকাবেলার জন্য মোটেই প্রস্তুত নয়। তাছাড়া এ দেশের প্লাস্টিক পুনঃচক্রায়ণ শিল্প একান্তই পেট প্লাস্টিক পুনঃচক্রায়ণে নিয়োজিত। অন্য নানা প্রকার প্লাস্টিকের পুনঃচক্রায়ণ এখনো তত বিকশিত হয়নি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে একটি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি, বর্জ্য সংগ্রহ নীতি ও একটি ইপিআর নীতি প্রয়োজন। এহেন নীতি প্রণয়নে প্রাসঙ্গিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে, আলাপ-আলোচনা করে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। প্লাস্টিকপণ্য বা মোড়ক তৈরির বেলায়ই টেকসই বা অধিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকপণ্য বা মোড়কের নকশা করতে হবে। পুনর্ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা উচিত এবং পুনরুদ্ধারের হার, পুনর্ব্যবহারের হার, ইপিআর স্কিমে অংশগ্রহণকারী উৎপাদকদের শতাংশ ইত্যাদির হিসাব সরকারের করতে হবে। পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়ণ বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্ট কালক্রমিক লক্ষ্যমাত্রা থাকতে হবে। ইপিআর কর্মসূচিতে যেসব উৎপাদক অংশ নেবেন তাদের নানা প্রকার আর্থিক প্রণোদনা যেমন কর ও ভ্যাট হ্রাসের সুবিধা দিতে হবে।

প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষেত্রে একবার ব্যবহূত প্লাস্টিক বা সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক একটি বড় সমস্যা। এই একবার ব্যবহূত প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তবে এর নিয়ন্ত্রণে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না নিয়ে কিছু বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ পন্থা অনুসন্ধান করা দরকার। পেট বোতলের মতো প্লাস্টিকের অন্যান্য পণ্যে নির্দিষ্ট খোদাই করা চিহ্ন থাকা উচিত, যা দেখে ভোক্তা ও নাগরিকরা বুঝতে পারবে এগুলো পুনর্ব্যবহূত বা পুনঃচক্রায়িত প্লাস্টিক থেকে তৈরি কিনা। জনপরিসরে ব্যাপক প্রচারণা করতে হবে যেন পরিবেশে প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলার ব্যাপারে মানুষ সতর্ক হয় এবং আলাদা পাত্রে এসব বর্জ্য ফেলে। প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করার পরে কাছাকাছি পুনঃচক্রায়ণ কারখানায় এগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।

পাট থেকে তৈরি ‘সোনালি ব্যাগে’র মতো প্লাস্টিকের বিকল্প এবং অন্যান্য দেশে আবিষ্কৃত বিকল্প যেমন কাসাভা থেকে তৈরি ব্যাগ প্রচলিত করা দরকার। এ ব্যাগগুলো প্রাথমিকভাবে সুপারশপ এবং সুপারমার্কেটে বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

প্লাস্টিক ছাড়া থাকা প্রায় অসম্ভব, কিন্তু পৃথিবীর ক্ষতি না করে আমাদের প্লাস্টিকের ব্যবহার বুঝতে হবে। বার্ষিক বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় ৪-৮ শতাংশ প্লাস্টিকের সঙ্গে যুক্ত (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম)। এ পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক ২০৫০ সালের মধ্যে তেলের ২০ শতাংশ ব্যবহার করবে। ইথেন ক্র্যাকিংয়ের সঙ্গে উচ্চ-তাপ জড়িত। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন নির্গমন ঘটে। কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এমন ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের সঙ্গে যদি মাইক্রোপ্লাস্টিক সংযুক্ত হয় তবে ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্নাতক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সরকার এনডিসি পুনর্বিবেচনা করছে। জলবায়ু দুর্বলতা ফোরামের নেতা বাংলাদেশ সংশোধিত এনডিসি অনুমোদন করেছে। প্লাস্টিক খাতের ভ্যালু চেইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন ধাপে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিমাল থাকা দরকার।

প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ইকো-লেবেলিং, গ্রিন সরকারি ক্রয় বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ, বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। ঘরোয়া পর্যায়ে বর্জ্য পদার্থের উৎসে পৃথক্করণ নিশ্চিত করাসহ বহু-পারিবারিক আবাসস্থল, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় স্কুলগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব তৈরি করা এবং বর্জ্য হ্রাস এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য কর্মসূচি তৈরি করাসহ জিরো ওয়েস্ট প্রোগ্রাম শুরু করার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। ইপিআর পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে, আমাদেরও সে রকম একটি মডেল গ্রহণ অনতিবিলম্বে দরকার।

কভিড-১৯-এর ফলে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পের অর্থনৈতিক প্রভাব

কভিড-১৯-এর প্রভাব থেকে পৃথিবীর কোনো প্রান্ত কিংবা অর্থনীতির কোনো খাতই মুক্ত থাকেনি। প্লাস্টিক শিল্পের ব্যবসা বিশেষ করে এসএমইগুলো স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি সময়ে নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হয়। অভ্যন্তরীণ লকডাউন, সীমান্ত বন্ধ, রফতানি আদেশ বাতিল, চালান বন্ধ, নগদ প্রবাহের কারণে অপারেশন বন্ধ, প্লাস্টিক শিল্পের অধিকাংশ এসএমইর জন্য টিকে থাকা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চলমান মহামারীর সরাসরি প্রভাব হিসাব করে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ প্লাস্টিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ২০২০ সালে প্লাস্টিক শিল্পের প্রায় ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি রফতানির ক্ষতি হয়েছে যার মধ্যে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। কাঁচামালের সরবরাহ, চাহিদা ও উৎপাদনে ব্যাঘাত অনেক এসএমইকে অপর্যাপ্ত তরলতাসহ দুর্বল করে তোলে। দৈনিক মজুরির আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নীতিগত সমস্যা

প্লাস্টিক শিল্প দেশীয় অর্থনীতির মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং রফতানি সম্ভাবনার বিশ্লেষণ তার আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা প্রকাশ করে। সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মোকাবেলা এবং এটিকে একটি গতিশীল রফতানি শিল্পে রূপান্তরিত করার জন্য শক্তিশালী এবং গভীর নীতি সমর্থন দ্বারা সমর্থিত খাতের প্রতি আরো মনোযোগী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।

ক. পশ্চাত্সংযোগ এবং প্রযুক্তি হালনাগাদকরণের জন্য জোগান খাতের সমস্যা মোকাবেলা করা

প্লাস্টিকপণ্য উৎপাদন কাঁচামাল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে, অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইনপুট দ্বারা উৎপাদন করা যেতে পারে। বিদেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করা বিশেষ করে প্লাস্টিক শিল্পে আধিপত্য বিস্তারকারী অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য একটি সমস্যা। বর্তমানে দেশে শক্তিশালী পেট্রোকেমিক্যাল ও পলিওলেফিন উৎপাদন শিল্পের অভাব রয়েছে। ফলে প্লাস্টিক খাতের জন্য পশ্চাত্সংযোগগুলো দুর্বল।

প্লাস্টিক খাতের উৎপাদন যেমন বাড়ছে দেশীয় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে, তেমনি আধুনিক পেট্রোকেমিক্যাল সুবিধার উন্নয়ন কাঁচামালের নিরাপদ উৎস প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করতে পারে। জোগান সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে এবং রফতানি প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিল্প-উন্নয়নে সহায়তা করতে নীতিগত অগ্রাধিকার দরকার।

খ. শিল্পের জন্য দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা:

প্লাস্টিক শিল্পসহ প্রতিটি খাতে অনেক উৎপাদনকেন্দ্রে দক্ষ শ্রমিকের (বিশেষত মেশিন অপারেটিং এবং ম্যানেজারিয়াল দক্ষতাসম্পন্ন প্রশিক্ষিত কর্মীদের) অভাব একটি গুরুতর বাধা। দক্ষ কর্মী ও প্রযুক্তিবিদদের অভাবের সমস্যা মোকাবেলায়, প্লাস্টিক শিল্পে কাজ করার জন্য প্রস্তুত গ্র্যাজুয়েটদের তৈরি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইপিইটি) ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিআইপিইটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং এটি দক্ষতা ও শ্রমিকের ঘাটতি মোকাবেলার প্রচেষ্টায় ভালো অবদান রাখছে।

গ. পণ্যের মান বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকপণ্যের জন্য একটি পরীক্ষাগার স্থাপন:

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন ইত্যাদি বিষয় রফতানি বাড়ানোর জন্য জরুরি। এগুলো সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা বাড়ায়। রফতানিকারকদের একটি নিয়ন্ত্রণী পরিবেশ প্রদানের জন্য মানসম্মত একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাতের বিভিন্ন দেশের বাজার ও নিয়মনীতি অনুসারে উপযুক্ত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সৃষ্টি করা গুরুত্বপূর্ণ। সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় করতে হবে।

ঘ. খাতভিত্তিক নীতিসহায়তা প্রদান

দেশীয় প্লাস্টিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে খাতভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। প্লাস্টিক খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে শিল্পনীতি এবং রফতানি নীতিতে এ খাতের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক সেক্টরের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

ঙ. প্লাস্টিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্লাস্টার নির্মাণ

প্লাস্টিক উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে, ফলে এই খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সহযোগী সেবাগুলোও বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যমান। বেশির ভাগ সংস্থা নানা অসুবিধার সম্মুখীন, যেমন উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাব, অর্থের সীমিত জোগান, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিবিদদের সীমিত সেবা ইত্যাদি। প্লাস্টিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্লাস্টার নির্মাণ এ সমস্যা দূর করতে পারে। বিসিকের অধীনে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে ৫০ একর জমিতে প্লাস্টিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্লাস্টার নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার। এটি প্লাস্টিক খাতের ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানদের উন্নয়নে সহায়ক হবে। এই উদ্যোগগুলো সাপ্লাই চেইনের সক্ষমতা বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক হবে। উদ্যোগগুলোর সময়মতো বাস্তবায়নকে একটি নীতিগত অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

চ. একটি পরিবেশবান্ধব পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করা

ব্যবহার-পরবর্তী প্লাস্টিকপণ্যের অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিবেশের অবনতি, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে। যদি সহজলভ্য সম্পদ যেমন সস্তা শ্রম এবং প্রচুর জলাশয় (ব্যবহার-পরবর্তী প্লাস্টিকের প্রাথমিক ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা যায়) কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছ. রফতানি বৃদ্ধিতে নীতিগত প্রণোদনা প্রদান

বাংলাদেশের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি, প্লাস্টিক উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অন্যদিকে, সাপ্লাই চেইনের সীমাবদ্ধতা প্লাস্টিক উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে রফতানির পরিবর্তে শুধু দেশীয় খাতে ব্যবসা করতে বাধ্য করে। অভ্যন্তরীণ বাজার-অভিযোজনের এ ঘটনা একটি দেশের বাণিজ্যনীতির অবস্থান দ্বারা তীব্র হতে পারে। দেশীয় শিল্পের উচ্চ সুরক্ষাসহ দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতিতে, রফতানিতে অংশগ্রহণ করা দেশীয় বিক্রির তুলনায় কম আকর্ষণীয় হতে পারে। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ভালো ব্র্যান্ডিং করতে পারলে তা সরবরাহকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এবং এভাবে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারবে। বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সহায়ক বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জ. প্লাস্টিক পণ্যের জন্য নতুন রফতানি বাজার সম্প্রসারণ

বাংলাদেশের উচিত নতুন পণ্য এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণে কাজ করা। সীমিত রফতানি বাজারের ওপর নির্ভরতা রফতানি খাতকে সংকুচিত করে ফেলছে। অধিকতর শক্তিশালী রফতানি বাজার যেমন চীন, আমেরিকা, ভারত ও ইইউতে রফতানি বাজার সম্প্রসারণে নজর দেয়া উচিত। এসব দেশ প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ মার্জিন দেয়, যা বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। নতুন রফতানি বাজারে প্রবেশের জন্য অধিকতর মূল্যায়ন প্রয়োজন। রফতানি বৃদ্ধি করার জন্য একটি উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও নীতিগত প্রণোদনার পাশাপাশি বাজার অন্বেষণের জন্য সমর্থন থাকা উচিত।

 

 

ফেরদাউস আরা বেগম: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিল্ড